Bangladesh vs Australia

A
arian560
সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আগেই। তবে বাংলাদেশের বোলাররা যেন নিজেদের সেরাটা জমিয়ে রেখেছিলেন শেষ ম্যাচের জন্য। সাকিব আল হাসানের ইতিহাস গড়ার রাতে অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ হারাল ৬০ রানে। সেই সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড নতুন করে লিখল অস্ট্রেলিয়া। ১২২ রান করেও সাকিব আল হাসান ও সাইফ উদ্দিনে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

প্রথম তিন ম্যাচ জিতেই সিরিজ নিশ্চিত করা বাংলাদেশ মাত্র ১০৫ রানের লক্ষ্য দাঁড় করিয়েও অস্ট্রেলিয়ার সাথে ছেড়ে কথা বলেনি। টানা ৫ টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারা অস্ট্রেলিয়া তাই সেই স্বস্তির জয়কে পুঁজি করে শেষ ম্যাচটাও জয় দিয়েই শেষ করতে মুখিয়ে থাকবে। 

 

দুঃস্বপ্নের মত একটা সিরিজ কাটানো সৌম্য সরকার এদিন দলে থাকলেও তার জায়গায় ওপেন করতে নামেন আগের ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্যামিও খেলা মাহেদী হাসান। অস্ট্রেলিয়া তবুও শুরু করেছিল অ্যাশটন টার্নারকে দিয়েই। প্রথম তিন ওভারই করেন তিন স্পিনার। আর সিরিজে প্রথমবারের মত বাংলাদেশের ওপেনিং জুটিকেও মনে হয় সপ্রতিভ, তিন ওভারে আসে ৩৩ রান।  মোহাম্মদ নাইম শেখ অ্যাডাম জাম্পা, অ্যাশটন অ্যাগারের উপর বেশ চড়াও হয়েছিলেন। তবে পরের ওভারে এসেই নাথান এলিস মাত্র ২ রান দেন। আর সেই চাপ থেকেই হয়ত টার্নারের ওপর পরের ওভারে চড়াও হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখেন মাহেদী। পূর্বপরিকল্পিত শট খেলতে গিয়েই লাফিয়ে ওঠা বলে ব্যাটও হারিয়েছন, বলও তুলে দিয়েছেন আকাশে। ১২ বলে ১৩ রান করেই শেষ হয় মাহেদীকে ওপেন করতে নামানোর পরীক্ষা। তারপরও ওপেনিং জুটিতে এই সিরিজের সর্বোচ্চ ৪২ রান উঠে গেছে তখন। পরের ওভারেও এলিস মাত্র ৩ রান দিলে পাওয়ারপ্লে শেষে এক উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করে ৪৬ রান।

শুরুর ঝড় সামলে অস্ট্রেলিয়ানরা লাগাম টেনে ধরতেও সময় নেননি বেশি। এলিসের পরে ড্যান ক্রিশ্চিয়ানকে সামলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল, সাকিব আল হাসান একবার আকাশে বল ভাসিয়ে বেঁচেও গেছেন। ক্রিশ্চিয়ানের পরের ওভারেই চাপ কমানোর চেষ্টা করতে গেয়ে নাইম চেষ্টা করেছিলেন রিভার্স। পয়েন্টে সহজ ক্যাচ দিয়ে আরও একবার ভাল শুরুর পরেও লম্বা ইনিংস খেলতে পারেননি নাইম, ২৩ বলে ২৩ করে শেষ হয় তার ইনিংস। আর সেই সাথেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৭ বছর প্র উইকেট পেয়েছেন ক্রিশ্চিয়ান, ২০১৪ সালে ভারতের সাথে পেয়েছিলেন শেষ উইকেট। 

নাইম ফেরার পরে রান বের করতে আরও ধুঁকতে হয় সাকিবকে। জাম্পার নিরীহ একটা সোজা ডেলিভারি ব্যাটে বলে করতে না পেরে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন ২০ বলে ১১ রান করে। নিজের ৮২তম ইনিংসে এসে প্রথম এলবিডব্লিউয়ের শিকার হলেন সাকিব, এলবিডব্লিউ না হয়ে তার থেকে বেশি ইনিংস খেলেছেন কেবল ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি (৮৫)। অপর প্রান্তে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ শুরুটা করেছিলেন দারুণ, জাম্পাকে স্লগ সুইপ করে ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে মেরেছিলেন বিশাল ছয়। তবে অ্যাগারের একটি নিরীহ বলে জায়গা বানিয়ে ফাঁকায় ঠেলে দিতে গেলে টপ এজ হয়ে ১৪ বলে ১৯ রানে শেষ হয় তার ইনিংস।

মিডল অর্ডারে নেমে সৌম্যের ভাগ্যের খাতাও খুলবে বলেই মনে হচ্ছিল। তিনিও একই ভঙ্গিতে মেরেছিলেন বড় ছয়। ক্রিশ্চিয়ানের পরের ওভারে আগের বলেই খেলেছিলেন নিখুঁত কাট। পরের বলে জায়গা বানিয়ে বল মাঠ ছাড়া করতে চাইলে লং অফে সহজ ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার ১৮ বলে ১৬ রানের ইনিংস। তবে ইনিংসের সেরা শটটা এসেছে এসেছে আফিফ হোসেনের ব্যাট থেকে। ক্রিজে এসেই বেরিয়ে এসে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে ক্রিশ্চিয়ানের বল আছড়ে ফেলেছেন গ্যালারিতে, পুরো সিরিজ জুড়ে দারুণ খেলা আফিফের চোখমুখ থেকে যেন ঠিকরে পড়ছিল আত্মবিশ্বাস। তবে এর পরের ১৫ বলে আসে মাত্র ৮ রান। এলিসের স্লোয়ারে দিশেহারা হয়ে বল স্টাম্পে ডেকে এনে ফিরে যান নুরুল হাসান ১৩ বলে মাত্র ৮ রান করে। ১৬তম ওভার থেকে বাউন্ডারির জন্য হাতড়ে বেড়ানো বাংলাদেশের উইকেটের খাতায় শেষ ওভারে গিয়ে স্কুপ করতে গিয়ে নাম লেখান ঐ আফিফ, ফেরেন ১১ বলে ১০ করে। ২১ বল পরে মোসাদ্দেক হোসেনের ব্যাট থেকে বাউন্ডারি আসার পরের বলেই বাই রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে ফিরেন সাইফউদ্দিন। সপ্তম বলে এসে ঐ বাউন্ডারিতে নিজের প্রথম রান পান মোসাদ্দেক হোসেন। শেষ ৫ ওভারে মাত্র ২০ রান তুলতে সমর্থ্য বাংলাদেশ তাই গিয়ে থামে ১২২ রানে।     

শেষ ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। টানা চার ম্যাচ একই একাদশ নিয়ে খেলানোর পর একটি পরিবর্তন আছে বাংলাদেশ দলে। শামীম হোসেনের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন, আর শরিফুল ইসলামের জায়গায় আছেন সাইফ উদ্দিন।

Comments

nobina
😊😇
rahana45

😍😍