আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও আল্লাহর মেহেরবানীতে ভালো আছি সুস্থ আছি। আজকে আমি লাইফ বয় ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল গিয়েছিলাম সে বিষয় নিয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করব ইনশাল্লাহ। এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
এ পৃথিবীতে আল্লাহ মানুষকে পাঠাইয়াছেন কাউকে ধনী করে কাউকে গরিব করে। কাউকে ফর্সা বানাই আছেন আবার কাউকে কালো বর্ণের বানায় আছেন। কাউকে সুস্থ রেখেছেন কাউকে অস্বস্ত রেখেছেন। কাউকে চক্ষু দান করেছেন কাউকে চক্ষু দান করেন নাই। কাউকে কান্দান করেছেন কাউকে কান দান করেন নাই। কাহা রসূল কালো আবার কাহারো চুল সাদা। কেউ খাটো আবার কেউ লম্বা। কাউকে ছেলে বানাইয়াছেন কাউকে মেয়ে বানাইছেন আবার কাউকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বানিয়েছে। কাউকে সন্তান দান করেছেন কাউকে সন্তান দান করেন নাই। কাউকে শুধুমাত্র ছেলে সন্তান দান করেছেন আবার কাউকে শুধুমাত্র মেয়ের সন্তান দান করেছেন। আবার কাউকে ছেলে-মেয়ে উভয় দান করেছেন। আবার কাউকে সন্তান দান করে ছোটকালে আবার তিনি নিয়ে নিয়েছেন। কাউকে জটিল রোগ দান করেছে কারো কোন রোগই দান করেন নাই। এসবই মহান আল্লাহ তায়ালার লীলাখেলা হাসি তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। মহান আল্লাহ তা'আলা এই দুনিয়াতে আমাদের এরকম হাস্যরসের মধ্যেই রেখেছেন।
এ পৃথিবীতে যত মানুষকে ধনী বানায় আছেন এই ধনী দুই প্রকারের রয়েছে। একপ্রকার ধনী মানুষ তার সম্পদ গুলো গরীব দীক্ষিতের মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছেন আর এক ধনী মানুষ গরিব দুঃখীর সম্পদ নিজে ভক্ষণ করছেন। এই হলো আমাদের ধনী মানুষের চিত্র।
যে কথা বলতেছিলাম লাইফ বয় ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল এটি একটি ভাসমান চিকিৎসা করার হসপিটাল। যাতে মূল একটি বড় জাহাজ রয়েছে যে জাহাজটিতে সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, চিকিৎসা সংক্রান্ত। এছাড়া আর একটি ছোট জাহাজ রয়েছে যেখানে ডাক্তার চিকিৎসক সবাই সেখানে রাত্রি যাপন করে। এছাড়াও একটি ছোট রয়েছে যাতে করে ডাক্তাররা ঘোরাফেরা করতে পারে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তর করার কাজ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া দুটি পিস বোর্ড রয়েছে সেগুলো তো ডাক্তাররা ঘোরাফেরা করে এবং রোগীদেরকে জরুরী ভিত্তিতে কোন জায়গায় স্থানান্তর করতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও এই লাইফ বয় ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল যেখানে নোংগর করে সেখানে ভূমিতে অনেকগুলো ঘর তৈরি করে সেখানে রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এই হল মোটামুটি লাইফ বয় ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল এর অবকাঠামো এবং যন্ত্রপাতি এবং জাহাজ সমূহ। বড় জাহাজ চারতলা বিশিষ্ট আর এই জাহাজে চিকিৎসা করার সমস্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। যেমন এক্সরে করার মেশিন ইসিজি করার মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাফি করার মেশিন, এন্ডোস্কোপি করার মেশিন, এছাড়া দাঁতের সমস্ত চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে যত যন্ত্রপাতি দরকার সবই এখানে রয়েছে। তারা চোখের রোগ টেরামের করতে যত প্রকার যন্ত্রপাতি দরকার সবই এখানে ব্যবস্থা রয়েছে সুব্যবস্থা।
এখানকার কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করি। এই হসপিটালটিতে বিনে পয়সায় চিকিৎসা করা হয়। অর্থাৎ এটি যারা পরিচালনা করে তারা বড় ধরনের ধাতু গোষ্ঠী তারা বিনা পয়সায় গরীব দুঃখী মানুষকে চিকিৎসা করে যাচ্ছে এবং হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ টাকা তারা প্রতিদিন খরচ করছে। তারা সবসময় ভাবে গরীব মানুষকে নিয়ে আর গরিব মানুষের সুখে দুখে তারা থাকবে আর এই থাকার জন্য তারা একটি ভাসমান হসপিটাল এজন্য সার্ভিস দিচ্ছে যে গরিব দুঃখী মানুষ ভালো চিকিৎসা পায় না ভালো হসপিটালে যেতে পারে না আর এই ভালো চিকিৎসার অভাবে তারা মৃত্যুর দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাইতো সেই মহান ব্যক্তির এমন ব্যবস্থা করেছেন যা গরিব দুঃখী মানুষ বিনা পয়সায় উন্নতমানের চিকিৎসা পেতে পারে।
এই হসপিটালে কার্যক্রম সকাল আটটার মধ্যে টিকিট দেওয়া শেষ করে। এরপর পাঁচজন করে তারা তাদের জাহাজে নিয়ে যায় এবং এক এক করে ডাক্তার প্রতিটি রোগী দেখতে থাকে। রোগী দেখার পর যদি এক্সরে করার প্রয়োজন হয় তারা এক্সরে করে। যদি আলট্রাসনোগ্রাফি করার প্রয়োজন হয় তাহলে তারা আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে। যদি অপারেশন করার প্রয়োজন হয় তবে তারা অপারেশন করে একেবারে বিনা পয়সায়। অপারেশন করার পরে তারা যে নদীর তীরে জমিতে ঘর নির্মাণ করেছে অস্থায়ী ঘর সেখানে তাদের স্থানান্তর করে এবং নিয়মিত তাদেরকে দেখাশোনা করে। এমনকি তাদের খাওয়া দাওয়া তারা করাইয়া থাকে। এবং ওষুধপত্র তাদেরকে ফ্রি দেওয়া হয়।
এরপর দাঁতের যদি সমস্যা হয় তবে দাঁত তারা উন্নত মানের যন্ত্রপাতি দিয়ে চিকিৎসা করে থাকে। তবে একটা বিষয় লক্ষ্যনীয় যে দাঁত অত্যন্ত সেনসিটিভ বিষয় হওয়ার কারণে একটি দাঁতের বেশি তারা প্রতিদিন চিকিৎসা করে না। কোন রোগী গেলে একদিনে একটা দাঁত চিকিৎসা করা হয় আবার আরেক দিন গেলে অন্য একটি দাঁত চিকিৎসা করা হয় একেবারে সবগুলো দাঁত চিকিৎসা করা হয় না কারণ এটা করা যাবে না কারণ দাঁত সরাসরি মাথার ব্রেনের সাথে সম্পৃক্ত। এছাড়াও চোখের সমস্যা হলে তারা বিনা পয়সায় চিকিৎসা করে এবং অপারেশন করে থাকে তবে কোন প্রকার টাকা পয়সা তারা নেয় না।
এরপর প্রতিটি রোগীকে একটি প্রেসক্রিপশন দিয়ে থাকে যেখানে ওষুধ পত্র লেখা থাকে। এবং নির্দিষ্ট কিছুদিন ওষুধ খাওয়ার পরে আবার তারা সেখানে আসতে বলে। এই হল তাদের মোটামুটি প্রতিদিনের কার্যক্রম। আর এই কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য দেশি ডাক্তার এবং বিদেশি ডাক্তারও সেখানে এসে থাকে। বিদেশি ডাক্তারদেরকে বিমানে করে নিয়ে আসা হয়।
মহান আল্লাহ তা'আলা যদি কারো প্রতি রাজি এবং খুশি হয় কাউকে যদি ভালোবাসেন তবে তার কোন চিন্তা থাকে না তার কোন ভাবনা থাকে না। তাইতো এই যে ধনী মানুষ পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে তার মধ্যে সেরা ধনী তারাই যারা আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য অর্থ সম্পদ খরচ করে থাকে। আর এই সমস্ত ধনীর সম্পদ কখনো কমে না বরং আরো বাড়তেই থাকে বাড়তেই থাকে। কারণ তাদের সম্পদ তারা আল্লাহর ওয়াস্তে খরচ করে থাকে। এমন ধনী লোক আল্লাহর সন্তুষ্টি পাবে আর আল্লাহর সন্তুষ্টি পেলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আরো অনেক ধনী লোক রয়েছে যারা গরীব দুঃখীর সম্পদ ভক্ষণ করে থাকে অন্যের সম্পদ হরণ করে বড়লোক হয়। তারা কখনোই অন্যকে দান করতে পারেনা এবং ওই সম্পদ নিজেও সে ভোগ করতে পারে না। তার সম্পদ খেয়ে থাকে অন্য জনেরা। তারা শুধু অন্যের হক নষ্ট করে অবৈধ 5 সম্পদ অর্জন করে এবং অন্যের অধিকার হরণ করে তারা সম্পদের পাহাড় করে থাকে। তারা এই সম্পদ আহরণ করে সম্পূর্ণ হারাম উপায়ে। তারা সম্পদ করে সুদের উপর ঘুষের ঘুষের টাকা ইত্যাদি দিয়ে সম্পদ গুলো তারা করে থাকে আর সেই সম্পদ সে শেষ পর্যন্ত কখনোই ভোগ করতে পারে না ভোগ করার আগেই সে মৃত্যুর দিকে চলে যায়।
তাই আসুন আমরা সম্পদ অর্জন করি করতে কোন মানা নাই তবে তা হতে হবে হালাল পন্থায়।আর হালাল পন্থায় সম্পদ অর্জন করে সে সম্পদের আত্ম তৃতীয় থাকে এবং সেই সম্পদ সে নিজেও ভোগ করে যেতে পারে এবং সেই সম্পদ কখনোই অন্যায় ব্যক্তিদের হাতে পড়তেই পারে না। সেই সম্পদে হাজার হাজার মানুষ বেঁচে থাকে। গরিব দুঃখীও সেই সম্পদ পেয়ে থাকে। সেই ধনী ব্যক্তি যে হালাল উপায়ে সম্পদ অর্জন করে সে সম্পদ হালাল উপায়ে আবার খরচ করতে থাকে। কখনোই তার সম্পদের ফল বিফল যেতে পারে না। তাই আসুন আমরা হালাল উপায়ে সম্পদ অর্জন করি আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জন করি প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম যেভাবে খরচ করতে বলেছেন আমরা সেভাবে সম্পদ গুলো দেখে দেখে খরচ করি।
আর আমাদের সম্পা যদি মহান আল্লাহতালা যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ যেভাবে দেখায় দিয়েছেন সেভাবে যদি অর্জন করি এবং সেই সম্পদ আল্লাহ যেভাবে খরচ করতে বলেছেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাম এর জীবনের সম্পদ যেভাবে খরচ করেছেন সেভাবে যদি খরচ করি তবে মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের উপর রাজি এবং খুশি হবেন। আর মহান আল্লাহতালা যদি আমাদের প্রতি রাজি এবং খুশি হয় তবে আমাদের আর কোন চিন্তা থাকবে না আমাদের আর কোন ভাবনা থাকবে না কারণ আমরা পরম সুখের জিন্দেগি জান্নাত ইনশাল্লাহ পাব। আজকে এই পর্যন্তই আল্লাহাফেজ।


