সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না, আমরা সময়কে মূল্য দেই

alim236
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি আমাদের জীবন হইতে প্রত্যেকটি সকাল যে প্রতিদিন চলে যাচ্ছে তার কখনো ফিরে আসবেনা সে সম্পর্কে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই ইনশাআল্লাহ এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।


           সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না

এই কথাটা আমরা ছোটকাল থেকেই শুনে আসতেছি। এটা আমরা ভাব সম্প্রসারন পড়েছি। তখন আমরা এ ব্যাপারে শিক্ষকদের থেকে অনেক কথাই শুনেছি যে সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না অথচ আমরা ছোটকালে ভাবতাম প্রতিদিনের মতো সকাল তো আসি দুপুর আসি বিকাল আসে রাত্রে আসে তাহলে কেন অপেক্ষা করে না এটা বুঝতাম না। কিভাবে সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না এ বিষয়টি শিক্ষক যখন বুঝালেন তখন এটা আমাদের বোধগম্য হল।

আসলে পৃথিবীর শুরু থেকে অর্থাৎ মহান আল্লাহতালা যেদিন থেকে পৃথিবীর সৃষ্টি করেছেন তার আগের থেকেও এই সময় চলে আসিতেছে। এরপর যখন পৃথিবী তৈরি করলেন তখন থেকে পৃথিবীর সময় শুরু সেই থেকে যে শুরু হয়েছে আজকে এবং ভবিষ্যতে যত আসবে সবসময়ের আবর্তে আসতে থাকবে। এ সময় কখনোই দাঁড়াতে পারে না দাঁড়াতে পারবেও না যদি মহান আল্লাহতালা ইচ্ছা না করেন।

আমি একটি মজার তথ্য সবার সাথে শেয়ার করতে চাই। এই তথ্যটা যারা মুসলিম তারা হয়তো বা জেনে থাকতে পারে আবার নাও জানতে পারে কিন্তু মুসলিম ছাড়া যত মানুষ রয়েছে তারা হয়তো অধিকাংশই জানে না গুটিকয়েক একজন হয়তো বা জানতে পারে বা জেনে থাকতে পারে যে এই পৃথিবীর সময় ২৭ টি বছর স্টপ অর্থাৎ থেমে গিয়েছিল। কখন থেমে গিয়েছিল কিভাবে থেমে গিয়েছিল সে ব্যাপারে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব এবং পরিষ্কার করে দিতে চাই।

মহান আল্লাহ তা'আলা এই পৃথিবীতে অনেক নবী অনেক রাসূল প্রেরণ করেছেন মানুষকে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দেওয়া ওদেরকে মনে করে দেয়ার জন্য। আমরা রুহ জগতে আল্লাহর কাছে স্বীকার করেছিলাম যে আপনি আমাদের রব আপনার সমস্ত হুকুম আহকাম আমরা পালন করব। কিন্তু এই পৃথিবীতে আসার এ দীর্ঘ পথের কারণে আমরা সেই ওয়াদা ভুলে গিয়েছি। সেই অধম মনে করে দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা ১০৪ খানা কিতাব এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এই ১০৪ খানার মধ্যে চারখানা প্রধান কিতাব তাওরাজ যুবর ইঞ্জিল ও কোরআন শরীফ এবং ১০০ খানার ক্ষুদ্র পুস্তিকা। এরপর শুধু মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের জন্য এই কিতাবি পাঠান নাই পৃথিবীতে বিভিন্ন গোষ্ঠী বিভিন্ন দল বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কওমের মধ্যে অনেক নবী এবং রাসূল প্রেরণ করিয়াছেন। এরমধ্যে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশেষ নবী হিসেবে রাসুল হিসেবে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরে আর কোন নবী মহান আল্লাহতালা এই পৃথিবীতে প্রেরণ করবেন না। শুধুমাত্র একটা নবী কেয়ামতের আগে আসবে কিন্তু সেদিন প্রচারের জন্য নয় কোন ধর্ম প্রচারের জন্য নয় সে তার স্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য এ পৃথিবীতে আগমন করবেন কারণ তিনি স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেননি তাকে মহান আল্লাহ তা'আলা চতুর্থ আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলার বিধান এবং নিয়ম হল কেউ যদি জান্নাতে যেতে চায় পরকালীন জিন্দেগীতে যেতে চায় তবে তাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে অর্থাৎ মৃত্যুর দরজা দিয়ে আখেরাতে পৌঁছাইতে হবে। তাই হযরত ঈসা আলাই সালাম এই পৃথিবীতে পুনরায় আগমন করবেন এবং স্বাভাবিক মৃত্যু হবে। এই নবী ছাড়া অর্থাৎ দ্বীনের কাজের জন্য দিন প্রচারের জন্য আমাদের নবী শেষ নবী আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ আর কেউ বা আর কাউকে মহান আল্লাহতালা এই পৃথিবীতে পাঠাইবেন না।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর মর্যাদা মহান আল্লাহতালার কাছে এতই বেশি যে তা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। হযরত মুহাম্মদ সঃ এমন নবী মহান আল্লাহতালা এমন তাকে ভালবাসতেন এমন মর্যাদা তার কাছে যে নবী কে শ্রেষ্ঠ সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়ার জন্য সারা বিশ্বের মানুষের অর্থাৎ সারা জাহানের মানুষের জন্য একক নবী হিসেবে তাকে পাঠানো হয়েছে। মহান আল্লাহতালা যে নবীকে তার আরশমালায় আমন্ত্রণ জানিয়ে তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন। এবং তার চর্মচক্ষু দিয়ে আরশ মাওলা বায়তুল মামুর জান্নাত জাহান্নাম 7 আসমান জমিন দরজা সমূহ সবকিছু তিনি অবলোকন করেছেন অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা সব তাকে দেখাইয়া দিয়েছেন। সেজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল সেখানে গিয়েছিলেন সেটা মিরাজ নামে পরিচিত। অর্থাৎ তিনি মিরাজে গিয়েছিলেন। আর এই মিরাজে যাওয়ার জন্য মহান আল্লাহতালা দুটি জান ব্যবহার করেছিলেন একটি হলো বোরাক আর অন্যটি হলো রব রব। এবং তিনি মিরাজে গিয়ে 27 টি বছর কাটাইয়াছেন অথচ পৃথিবীতে ফিরে এসে দেখেন তার অজুর পানি গড়ে যাচ্ছে সে যে শুয়েছিল সেই বিছানার গরম এখনো রয়ে গেছে অর্থাৎ 27 টি বছর এই পৃথিবীর সময় কে মহান আল্লাহতালা থামিয়ে দিয়েছিলেন।

সেই সময়ে এই পৃথিবী সময়টা 27 টি বছর থেমে গিয়েছিল তাছাড়া এই সময় আর কোনদিন থামেনি কার জন্য থামবেও না আমাদের জীবনের প্রত্যেকটি মুহূর্ত প্রত্যেকটি ঘন প্রত্যেকটি মিনিট প্রত্যেকটি সেকেন্ড প্রত্যেকটি ঘন্টা প্রত্যেকটি সকাল প্রত্যেকটি বিকাল প্রত্যেকটির দুপুর প্রত্যেকটির রাত জীবনে একবার আসে। আর যেটা চলে যায় এটা আর আমার জীবনে কখনোই ফিরে আসে না। অর্থাৎ আমার জীবন হতে একটি সেকেন্ড,একটি মিনিট, একটি ঘন্টা একটি সকাল একটি বিকাল একটি দুপুর একটা দিন একটি রাত একটি মাস একটি বছর একটি চোখ যে চলে যাচ্ছে এইটার কখনোই আমি হাজার চেষ্টা করলেও ফিরে পাবো না।

তাই আমাদেরকে এই সময়ের মূল্য বুঝে, জেনে, সময়ের দাম দিয়ে আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলো সঙ্গে সঙ্গে করা দরকার। আর আমাদের প্রথম কাজ অর্থাৎ কমপল শরীর কাজ হল আখেরাতের ছামানা গোছানো। এই আখিরাতে সমান যদি আমরা প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে সঠিকভাবে গুছাইতে পারি তবে আমি সফল হব আর যদি আমি সময়ের কে দাম না দিয়ে সময়ের প্রতি খেয়াল না রেখে আমি কাজগুলো যদি পেন্ডিং রেখে দেই তাহলে আমার সামানা গুছানো হবে না। যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া এটা প্রতিদিনের নামাজ প্রতিদিন আমাকে পড়তে হবে। কারণ যে নামাজটি যখন চলে যায় সেটা আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না সেটা আমার জীবনে আর কখনোই আসবেনা এই কথাটি মনে রেখে যদি আমরা ফজরের নামাজ ফজরের সময় জোহরের নামাজ যোহরের সময় আসরের নামাজ আসরের সময় মাগরিবের নামাজ মাগরিবের সময় এশার নামাজ এশার সময় পড়ে নেই তবে আমরা সফল হবো কামিয়াব হব। এরকম অনেক ইবাদত রয়েছে যা সঠিক সময় করতে হয় আর এগুলো যদি আমরা সঠিক সময় করতে পারি তাহলে আমাদের কোন কাজ পেন্ডিং থাকবে না অর্থাৎ সময়ের কাজ সময় হবে।

আমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সময়ের কাজ সময়ে করে কখনো কাজকে ফেলে রাখে না সেটা হোক আখেরাত আর দুনিয়াবী সে জীবনে কখনো ব্যর্থ হয় না সর্ব জায়গায় সে সফল হয় সফলতার মুখ দেখতে পারে। আমরা যদি কিছু কাজ পেন্ডিং রাখিও তবে আখেরাতের কাজকে কখনো ফেলে রাখা ঠিক হবে না কারণ আমার জীবনে প্রত্যেকটি সময় চলে যাচ্ছে সে সময় আর কখনো ফিরে আসবে না অর্থাৎ আমি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি কারণ আমাদের মৃত্যু নির্দিষ্ট একটা টাইম হবেই হবেই। মৃত্যুর হাত হইতে কেউ বাঁচতে পারবে না আমাদের পরকালীন জিন্দেগীতে পৌঁছাতেই হবে।

তাই আসুন আমরা আজ হতে সতর্ক হই সময়ের মূল্য দেই সময়ের মূল্য বুঝে দৈনন্দিন জীবনের কাজগুলো করি সে কাজগুলোর মধ্যে আখিরাতের কাজকে ফাস্ট পাইরিটি দেই আগে করি তারপরে দুনিয়াবী কাজগুলো করি কারণ আখিরাতের জিন্দেগী অনন্তকাল আর দুনিয়ার জিন্দেগি ক্ষণস্থায়ী। তাই অনন্ত জিন্দেগীতে সফল হওয়ার জন্য ভালোভাবে থাকার জন্য কোন প্রকার দুঃখ না পাওয়ার জন্য আমরা সময়কে কাজে লাগায় আখেরাতে জিন্দেগীর কাজগুলো প্রতিনিয়ত সঠিক সময়ে করে ফেলি তাহলে আমাদের আর কোন দুঃখ থাকবে না আমরা সফলতা অর্জন করতে হবে পারবো। আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।

Comments

hafizur
খুব সুন্দর পোস্ট ভাই। আসলে সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না তাই আমাদের সময়মতো কাজ করতে হবে সময়মতো কাজ করতে পারলে জীবনে সফলতা বয়ে আনতে পারব।