বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি আমাদের জীবনের একটা জরুরী সিদ্ধান্ত সতর্ক সাবধানতা মূলক কাজ অর্থাৎ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ অত্যন্ত ভালো সে বিষয় নিয়ে কিছু আলোচনা পেশ করতে যাচ্ছি এই পোস্টে আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ শ্রেয়।
আমরা আজকে পত্রিকার থেকে প্রতিরোধ অত্যন্ত ভালো এই বিষয়টি নিয়ে দুই চারটি কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করব ইনশাল্লাহ।
প্রতিকার এবং প্রতিরোধ কাকে বলে প্রথমে সংজ্ঞা দেওয়া উচিত এরপর এ ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। প্রতিকার হল- কোন বিষয় ঘটে যাওয়ার পর সেটা পুনরায় সংস্কার করা বা ভালো করা বা মেরামত করা। এ ব্যাপারে আমরা কয়েকটি উদাহরণ পেশ করি তাহলে বিষয়টা আরো সহজ হবে বুঝতে। যেমন কোন পাইলট বিমান চালনা করে। এ বিমান যখন থেকে সে আকাশে উড্ডায়ন করবে। অর্থাৎ বিমান উন্নয়নের আগে বিমান সম্পর্কে কোন প্রকার চেক বা কোন প্রকার খুঁটিনাটি বিষয় না জানিয়ে সরাসরি সে বিমানে আকাশে উড়াল দিল। এরপর বিমানের ত্রুটি দেখা গেল তখন সে কন্ট্রোলরুমে ফোন করলো যে বিমানটির তাড়াতাড়ি অবতরণ করতে হবে। পাইলট নিজের দক্ষতায় বিমানের যে ত্রুটি হয়েছে সেটা মেরামতের চেষ্টা করতে লাগলো। এরপর বিভিন্ন কাজকর্ম এবং সংস্কারের পর এয়ারপোর্টে সুন্দরভাবে বিমানটি অবতারণা করলো। এই যে বিমান উড্ডয়নের পূর্বে চেক না করে অর্থাৎ বিমানের যন্ত্রাংশ খুঁটিনাটি ভালোভাবে না দেখে বিমানে উড্ডায়ন করার পর বিমানের ত্রুটি দেখা গেল। রুটি দেখার পর এই ত্রুটি সংশোধনের জন্য সংস্কারের জন্য বা আগত বা যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তাকে সলভ করার জন্য যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয় তাকে বলা হয় প্রতিকার। অর্থাৎ কোন কিছু ঘটে যাওয়ার পরে কোন কিছু প্রবলেম হওয়ার পরে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাকে বলা হয় প্রতিকার। এটা যখন কোন উপায়ান্তর থাকে না তখন এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
যেমন করোনার কথাই বলি। এই করো না হওয়ার আগে আমরা কোন প্রকার ব্যবস্থা নিতে পারি নাই যখন এই রোগ দেখা দিল তখন সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা বসে এর টিকা তৈরি আরম্ভ করলো। এখন থেকে সব দেশেই প্রায় এই টিকা গুলো দেওয়া হচ্ছে তিন ডোজ হিসাবে। অর্থাৎ এ করোনা রোগের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় নাই এটা প্রতিকার করা হয়েছে।
আমরা যারা হালকা যান অর্থাৎ মোটরসাইকেল চালনা করি। আমরা বেপরোয়া গতি তুলে থাকি। আর এই অনিয়ন্ত্র গতির ফলে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে যায়। আর এই দুর্ঘটনার পরে নিজের সংশোধন হওয়া চিকিৎসা করা হলো প্রতিকার।
প্রতিকার আসলে শেষ পর্যায়ের একটা ব্যবস্থাপত্র যা না করলে হয় না করতেই হয়। যেমন কৃষক ফসল ফলায় এই ফসলে যখন রোগ বালাই দেখা দেয় তখন সে ওষুধ ছিটায় কীটনাশক ছিটায়। আবার খেতে ইদুর ধরেছে ইঁদুর ধরার পরে ইঁদুরকে মেরে ফেলার জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেটাও প্রতিকার। আসলে পত্রিকার একটা সংস্কার ছাড়া আর কিছুই নয় কারণ সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার পরে এই ব্যবস্থাটি দেওয়া হয় এই ব্যবস্থায় অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে।
ক্ষতিকার দিক সমূহ হল - প্রতিকারের ক্ষতিকর দিক অনেক। কারণ এটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে ব্যবস্থাপত্র। আর কোন ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে যেন ফসলের রোগ বালাই হওয়ার পরে যে ব্যবস্থা নেয়া হয় এতে যদিও রিকভারি হয় অর্থাৎ রোগবালাই দূর হয় তবুও ফসলের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে। ড্রাইভাররা যদি প্রতিকার অপেক্ষায় থাকে তাহলে তার জীবনটাও চলে যেতে পারে এছাড়া গাড়ির ক্ষতি সম্পা ধানের ক্ষতি এবং বিকলাঙ্গ হতে পারে। নদী ভাঙ্গন রোদে যদি প্রতিকারের জন বসে থাকা হয় তবে নদীর দুকুল ভেঙ্গে অনেক ক্ষতি সাধন করে মানুষের বসতভিটা এবং দুঃখের কারণ হয়ে থাকে। আমরা যদি কোন দেশের যুদ্ধ বাজার পরে যদি প্রতিকারের অবস্থায় অপেক্ষায় বসে থাকি তাহলে দুই দেশের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে সেটা অর্থনৈতিক মানসিক জানমাল ইত্যাদি ক্ষতি হয়ে থাকে। এছাড়াও যত জায়গায় পত্রিকার এর ব্যবস্থা করা হয় সেটা আসলে অনেক ক্ষতি অনেক লস হওয়ার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আমরা যদি প্রতিরোধকে স্নেহ মনে করি তাহলে আমাদের অনেকাংশে অনেক উপকার হয় কোন ঘটনা ঘটতেই পারে না। যারা বিভিন্ন কিছু চালনা করেন তারা যদি সাবধান হন সতর্কতার সহিত সবকিছু পরিচালনা করে তবে দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হয়। দুর্ঘটনা ঘটতেই পারেনা।
কৃষকরা যদি খেতে পোকামাকড়ের আক্রমণের আগেই যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে ওই ফসলের কোন প্রকার ক্ষতি হতে পারে না অর্থাৎ পোকামাক আক্রমণ ই করতে পারে না ক্ষতি হবে কোথা থেকে। কোন দেশ কোন দেশের সাথে যুদ্ধ বাঁধার আগেই যদি তাদের মধ্যে বিবাদমান সমস্যার সমাধান করে নেয় আলোচনার মাধ্যমে তাহলে যুদ্ধ তোহার সম্ভাবনাই থাকে না আর যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা যখন থাকে না তখন জান মাল দেশের সম্পদ ক্ষতি হতে পারেই না। এরকম নদী ভাঙ্গন রোদে যদি ভাঙ্গার আগেই যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নদীর তীরকে শাসন করা হয় তাহলে নদী তো ভাঙতেই পারবে না জান মালের ক্ষতি হতে পারবেনা।
এছাড়াও আরো অনেক ক্ষেত্রে আছে যেখানে যদি আমরা প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে থাকি বা নিতে পারি তাহলে সে ক্ষেত্রে আমরা অনেকাংশে অর্থনৈতিক শারীরিক মানসিক পরিত্রাণ পেতে পারে। যেমন আমাদের দেশে আগে কলেরা রোগে অনেক জান মালের ক্ষতি হতো। পরে যখন টিকা আবিষ্কার হল প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো তখন আমাদের দেশে এই কলেরা রোগ একেবারে উধাও হয়ে গেছে জান্মালের আর ক্ষয় হয় না। এরকম গুটি বসন্তের টিকা যক্ষা রোগের টিকা, হেপাটাইটিস বি রোগের টিকা সম্প্রীতিক তৈরি হয়েছে করোনা রোগের টিকা, আর এই টিকা গুলো দেওয়ার কারনে এই রোগ গুলো হয় না অর্থাৎ এগুলি আমাদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।
ঘরে আগুন লেগে জানমালের অনেক ক্ষতি হয় কোথা থেকে আগুন লাগে সে বিষয়ে যদি আমরা আগেই ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি তাহলে ঘরে বাড়িঘরে কখনোই আগুন লাগতে পারে না। দাবানল এর ফলে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ জমির বন পুরে সরকার হয়ে যায়। আমরা যদি এ ব্যাপারে একটা টিম গঠন করে দেই প্রত্যেকটি দেশ যদি নিজ নিজ দেশ দেশ উন্নতে একটা দল গঠন করে দেয় যে এরা বনাঞ্চলে কোথায় আগুন লাগে সেটা সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে তাহলে দাবানল কখনোই সংঘটিত হবে না। বন্যা আমাদের দেশে একটা ভয়াবহ দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায় মানুষের আশ্রয়ের জায়গা থাকে না তাই এই বন্যা হওয়ার আগেই যদি আমরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গুলো গ্রহন করি তাহলে বন্যার এই কষ্ট দুর্ভোগ হতে আমরা রক্ষা পেতে পারি। এ ব্যাপারে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্যে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ বাড়িঘর উঁচু করা প্রয়োজনীয় খাবার মজুদ করা পশু পাখির খাবার মজুদ করা তাহলে বন্যা যে কয়েক মাস থাকবে আমাদের আর কোন সমস্যা হবে না।
এক কথাই বলা যায়, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অনেক অনেক গুণ বেশি ভালো। আমার একটা সমস্যা হওয়ার আগেই যদি আমি সে ব্যাপারে সতর্ক হয়ে সাবধান হয় তাহলে সেই ঘটনাই ঘটবে না। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে সম্পদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি রোধ হয় অনেক সমস্যার সমাধান আগেই হয়ে যায়। ভাই আমরা আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে জানতে পারি বাত বুঝতে পারলাম যে আসলে পত্রিকার ব্যবস্থা গ্রহণের করার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো এবং আমরা সবাই এই ব্যবস্থা নেওয়ারই চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ। আমরা কখনো প্রতিকারের ছিনতাই করব না কারণ প্রতিকার করা তো হয় যখন ঘটনা ঘটার পর আমরা যদি ঘটনা ঘটার আগেই যদি সেই ব্যাপারে সতর্ক হয়ে সাবধান হয়। তাহলে এটাই আমাদের জন্য মঙ্গল এটাই আমাদের জন্য ভালো এটাই আমাদের জন্য উত্তম হবে। তাই আসুন আমরা আজ থেকে সতর্ক হই সাবধান হয় যে কোন বিষয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আপ্রাণ চেষ্টা করি এবং সবাইকে উৎসাহিত করি সবাইকে সাবধান করি নিজের সাবধান হওয়ার সাথে সাথে।
তাই আলোচনার প্রান্তে আমরা বলতে পারি প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ অত্যন্ত ভালো অত্যন্ত উত্তম এবং শ্রেয়। আজকের আলোচনা এখানে শেষ করছি আগামী পোস্টে অন্য কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।


