একজন হৃদয়হীন পাষাণ মায়ের গল্প।

alim236
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি একজন হৃদয়হীন মা এর বাস্তব গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।

এক হৃদয়হীন মায়ের গল্প আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাচ্ছি। গল্পটি বাস্তবধর্মী নিজের চোখে দেখা এবং আমার বাড়ির পাশে সেই মাটি বসবাস করে।

সেই মাটির বাবা মেয়েকে যথারীতি বিয়ে দেন একজন ভদ্র মানুষের সাথে। সেটা প্রায় ১৯৬৫ সালের কথা। যথারীতি বিয়ে হয়ে যায়। সেই মাটির ভাই হলো দুই জন এবং বোন সে একাই। আর যেখানে বিয়ে হয়েছে সেখানে তার একে একে চারটি ছেলে সন্তান হলো। বড় ছেলের বয়স রায় সাত বছর তার ছোট ছেলের বয়স ৬ বছর এর পরের ছেলেটির বয়স চার বছর এবং শেষের সন্তানটির বয়স অর্থাৎ ৪ নাম্বার সন্তানটির বয়স দুই বছর। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। তার স্বামী মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করে। যুদ্ধ শেষে সে গাজী হয়ে বেঁচে থাকে। এদিকে তাদের সংসার ভালোই চলছিল।
স্বামী বেচারা কোন এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরেকটি বিয়ে করে। বিয়ে করার কারণে মেয়ের বাবা মেয়েকে ওই বাড়ি থেকে নিয়ে আসে। আর এই মেয়েকে স্বামীর বাড়িতে পাঠায় নাই। ওই ছোট চারটি ছেলে কে সেই বাড়িতে রেখে আসে। তাদেরকেও নিয়ে আসে নাই। মেয়ের বাবা সন্তানদেরকে আনতে দেয় নাই। এই মা ও কেমন পাষাণ মা সে তার বাবার কথা মত সে সন্তানকে ফেলে একেবারে চলে আসে। সন্তানগুলো তখন তার সৎ মায়ের আদরের মানুষ হয় ধীরে ধীরে বড় হয়। ওই জামাই বেচারা অনেক চেষ্টা করেছে বউকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিন্তু এই মা অর্থাৎ তার বউ অত্যন্ত পাষাণ হৃদয়ের অধিকারী। সেও কোনোক্রমেই স্বামীর কথা মতে আর তার বাড়িতে যায় নাই। এদিকে তাদের কোন ছাড়াছাড়ি ও হয় নাই।
ইতিমধ্যে মেয়ের বাবা একসময় মারা যায় তার দুই ভাই এর সংসারে সে অবস্থান করছে। তাদের সংসারে কাজকর্ম করে এবং সংসার দেখাশোনা করে। ভাইয়েরাও আর তাকে পাঠানোর চিন্তাভাবনা করে নাই। এই ছোট সন্তান গুলো রেখে এই মা কেমনে এখানে অবস্থান করল তা বাস্তবে না দেখলে বিশ্বাস করানো বড় মুশকিল। কেমন পাষান হৃদয়ের মা হলে দুই বছর চার বছর ছয় বছর সাত বছরের চার জন ছোট সন্তান রেখে বাবার বাড়িতে কেমনে থাকে। তাও আবার মা হয়ে।

ইতিমধ্যে এক সময় সে শুনে তার স্বামী মারা গেছে। সে তার স্বামীকে দেখতে যায় নাই। তার স্বামী মুক্তিযুদ্ধা ছিল বিধায় এখন সে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পায়। আর সে টাকা সে এখন পায়। সেই টাকা এনে ভাই ব্রাদারদের দেয় সামান্য কিছু তার সন্তানদের দেয়। সন্তানেরা বড় হয়ে গেছে তারা তার মাকে কাছে নিতে চায় কিন্তু সে যায় না। আসলে আমরা শুনেছি যে এ জগতে মা-ই সবচেয়ে আপন কিন্তু এই মা ব্যতিক্রম এমন পাষান মা গল্পটি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

Comments