বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি এমন একজন পরোপকারী মানুষের কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যা আমরা এবং আমাদের আশেপাশে অর্থাৎ নদীমাতৃক দেশের পরবর্তী মানুষগুলো এদেরকে সচরাচর দেখে থাকে এবং এদের সাথে বিভিন্ন লেনদেন করে থাকে। এরা হলো আমাদের দেশের জেলা সম্প্রদায়। আমি এদের এই সম্প্রদায়ের জীবন চারণ নিয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করব ইনশাল্লাহ। এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
আমাদের দেশ নদীমাতৃক দেশ। এই ছোট্ট একটি দেশ যা পৃথিবীর মানচিত্রের স্থান পায় পায় না এরকম অবস্থা অথচ এই দেশের আনাচে-কানাচে নদী রয়েছে অর্থাৎ এক কথায় বলা যায় প্রায় ২৩০টির মত নদী আমাদের বাংলাদেশে রয়েছে আর এই নদীগুলো জালের মতো এই বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে আঁকড়ে ধরে আছে। কেউ যদি স্যাটেলাইট থেকে বাংলাদেশের মানচিত্র দেখতে চাই তবে ঠিক একটা জালের মতই মনে হয়। কারণ বাংলাদেশের এমন কোন জায়গা নাই যেখানে নদী নাই। ছোট বড় উপনদী শাখা নদী প্রধান নদী নিয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডটা একটা চালের মতো ছবি সৃষ্টি করেছে।
যেহেতু এদেশের নদীর অভাব নেই নদীমাতৃক দেশ সেহেতু এ দেশের জেলেদেরও অভাব নেই কারণ এই ছেলেরা নদীর উৎপলবতী এলাকায় বসবাস করে এবং এই নদীগুলো তারা চুষে বেড়ায় এবং এই নদীগুলো থেকে তারা মাছ আহরণ করে এবং এই মাছগুলো আমাদের সবার জন্য বাজারে নিয়ে আসে। ইরাক মহৎ কাজ করিতেছে এবং এদের ছোট থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত তারা এই কাজটাই করে যায় এবং আমাদের অনেক উপকার করে থাকে এবং এ দেশের অর্থনীতি চাহিদা এবং অর্থনৈতিক শক্তিকে আরো সুদৃঢ় করে থাকে।
এই জেলেরা যখন জেলের পরিবারে কেউ জন্মগ্রহণ করে থাকে তখন সেই ছোট্ট বাচ্চাটি ছোটকাল থেকেই তাদের বাবা-মাকে এই মাছ ধরার কাছে সম্পৃক্ত দেখতে পায় এবং এই পরিবেশটা তারা সবসময় দেখতে থাকে। তারা ধীরে ধীরে বড় হয় এবং তারা এই জেলেদের কার্যক্রম গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করে। আয় তো করতে করতে যখন তারা কিছু বড় হয় তখন তার বাপ মার সাথে মাছ ধরার কাজে বের হয়ে যায় এবং তারা তাদেরকে সহযোগিতা করতে না পারলেও প্রথমে তারা তাদের কলা কৌশল গুলো দেখে নেয় এরপর যখন আরও বলা হয় তখন তারা তাদেরকে সহযোগিতা করতে থাকে এবং মাছ ধরার কাজে নিজেকে কৌশলী করে তোলে। এই জেলের সম্প্রদায় তাদের ছেলেমেয়েকে মাছধরা কাজে ব্যস্ত করে দেয় তাদেরকে আধুনিক শিক্ষা আধুনিক সভ্যতা আধুনিক পরিবেশের সাথে মিল হতে দেয় না বা মিলাতে দেয় না। তাদেরকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে বিভিন্ন কর্মকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে তাদেরকে একটাই শিক্ষা দেয় যে মাছ ধরতে হবে বাজারে বিক্রি করতে হবে জীবিকা অর্জন করতে হবে।
তখন সেই ছোট্ট ছেলেটি এক সময় সমস্ত সভ্যতার ছোঁয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং নদীর সাথে নৌকার সাথে তার একটা সখ্য গড়ে ওঠে। তার ধ্যান ধারণা দৃষ্টিভঙ্গি আসর আচরণ সব জেলেদের আচার-আচরণ সে আয়ত্ত করতে থাকে এবং নিজের জীবনে ধারণ করতে থাকে। তখন সে পুরোদমে একজন জেলে হয়ে আত্মপ্রকাশ করে। জেলে হওয়ার পর সে মাছ ধরার কাজে নিজেকে মনোনিবেশ করে। সে এই মাছ ধরা বিভিন্ন সময়ে ধরতে পারে কোন কোন জেলে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত সারারাতটি নদীর ভিতরে মাছ ধরে থাকে। এই সারারাত্রি আহরণ করা মাছ সকালে একটা বাজারে অর্থাৎ আড়ৎ বলা হয়। সেখানে তারা এই মাছগুলো উপস্থিত করে এবং একজন সরদার অর্থাৎ দাদন দাতা থাকে। সেসব মাঝি কে কন্ট্রোল করে থাকে সে ওই মাছের দাম হাকাতে থাকে এবং উপস্থিত যারা মাছ মারে না কিন্তু মাছ বিক্রি করে তারা সেখানে উপস্থিত হয় এবং একের পর এক দাম বলতে থাকে সর্বোচ্চ যে দাম বলতে পারে তা কি সেই মাছগুলো দিয়ে দেওয়া হয়।
দাদন ব্যক্তি অর্থাৎ তাদের এই আড়ৎ এর প্রধান ব্যক্তি প্রত্যেকের থেকে মাছ নিয়ে থাকে এবং শতকরা ১০ টাকা সে সবার থেকে পাওনা হয়ে যায় এর কারণ হলো ওই ব্যক্তি সব জেলেদের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে তাদের নৌকা বানাইয়া দিয়া থাকে জাল কিনে দিয়ে থাকে ইত্যাদি তারা তাদের উপর এরকম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে অভিযোগ থাকে না। তারা মনে করে আমাদের এই মাছগুলো সে বিক্রি করে দিচ্ছে এবং আমাদের একজন প্রধান থাকবে এটাই স্বাভাবিক তাই তারা যেখানে হতে মাছ ধারণ করুক না কেন তারা এই আড়ৎ এ নিয়ে আসে। এরপর যারা মাছ কেনে যে ছেলে গুলো তারা সেই মাছ নিয়ে বাজারে দিকে দ্রুতগতিতে চলে যায় বাজারে গিয়ে সেই মাছগুলো আমাদের সমাজের সবার কাছে বিক্রি করে। বিনিময় সে টাকা পায় তার জীবিকা অর্জিত হয় এবং পরিবার পরিজনকে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে।
মাঝিদের জীবন আসলে সারাজীবন পরের জন্যই উপকার করে থাকে তারা যে মাছগুলো আহরণ করে থাকে এ মাছগুলো যদি তারা আহরণ না করতো তবে আমরা কখনোই নদীর এই ভালো মাছগুলো পাইতাম না। তারা সারা জীবন মানুষের উপকারই করে যায় এর প্রতিদান বা এর প্রাপ্তি তারা কখনো বুঝতে চায় না জানতেও চায় না। তারা যে আমাদের উপকার করছে আমাদের সহযোগিতা করছে আমাদেরকে নতুন নতুন ধরনের মাছ খাওয়াচ্ছে এটা তারা কিছুই মনে পড়ে না কিন্তু আমাদের মনে করা উচিত এই ছেলেগুলো যে কষ্ট করে সারা রাত্রি ঘুম হারাম করে মাছ ধরে আমাদেরকে এই মাছগুলো উপহার দিচ্ছে এর বিনিময়ে এদেরকে আমরা কি করছি কি দিচ্ছি। সে কথাটি কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি না আমরা কখনোই ভেবে দেখি না দেখতেও চায়না।
এরপরেও আমাদের সমাজে কিছু লোক এই মাছগুলো থেকে জোর করে খারাপ ব্যবহার করে মাছ নিয়ে থাকে কোন প্রকার দাম দেয় না তাদের। একপ্রকার বলা যায় যে ডাকাতি করে তাদের থেকে মাছ আদায় করে নেয়। এমন লোক আমাদের সমাজে রয়েছে যারা তাদের প্রভাব খাটিয়ে কাজগুলো করে থাকে।আমরা আশেপাশে অনেক মানুষ এই ব্যাপারটা দেখি অথচ এর প্রতিকার বা এর প্রতিবাদ কিছুই করি না। অথচ মহান আল্লাহতালা বলেছেন কোন ব্যক্তি যদি কোন অন্যায় কাজ দেখে আর তার প্রতি সে যদি প্রতিবাদ না জানায় তবে সে অন্যায়কারীর মতোই পাপে জড়াবে অর্থাৎ অন্যায়কারী যে পাপ হয় তারও সেই একই সমান পাপ হবে। তাই আমরা সবাই চাকরি হই সতর্ক হই এবং উৎসাহী হই এই মাছগুলোকে যারা ডিস্টার্ব করে মাঝিগুলো থেকে যারা অন্যায় ভাবে মাছ নিয়ে থাকে তাদের প্রতি আমরা প্রতিবাদ জানাই এবং তাদের প্রতি আমরা ঘৃনা জানাই এবং তাদেরকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করি মাঝিদের পরিবেশ সুন্দর রাখার প্রত্যায় ব্যক্ত করি।
আমাদের সরকারকেও এই মাসুদের জীবন পরিবর্তন করার জন্য মানুষদের জীবন সুন্দর করার জন্য তাদেরকে সরকারে ঋণ দেওয়া যেতে পারে হলে তারা যদি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইস্টোমেন্ট পায় তবে তারা আরো ভালো ভালো মাছ আহরণ করতে পারবে যেটা আমাদেরকে উপহার দিতে পারবে তারা।
আমরা যদি এই মৎস্য সেক্টরে সবাই একটু নজর দেই তবে এই সেক্টর টা অনেক উন্নয়ন ঘটবে এতে মাঝিদের জীবনযাত্রা উন্নত হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অনেক উন্নত হবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জোরালো ভুমিকা পালন করতে পারবে। এর জন্য সুন্দর সুন্দর মাসিকের ঘাট করে দিতে হবে আধুনিক আইন করতে হবে যে তারা যেন নির্ভীক নিয়ে কাজগুলো একটা সুন্দর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে সমাধান করতে পারে। আমরা সবাই যদি এ ব্যাপারে সোচার হয় তবে এটা করা সম্ভব। আজকের মত এখানেই শেষ করছি আগামী তো অন্য কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা নিয়ে আসবে ইনশাল্লাহ আল্লাহাফেজ।




.gif)