মহান আল্লাহতালা যতটুকু দিয়েছেন তারপর সন্তুষ্টি থাকা এবং শুকরিয়া আদায় করা

alim236

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

 

 

প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি শুকরিয়া আদায় সম্পর্কে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করব ইনশাআল্লাহ। এই পোস্টে আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।

 

 

শুকরিয়া আদায় করা অর্থাৎ যতটুকু মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের দান করেছেন তার সন্তুষ্টি থাকা।

 

 

সকল শুকরিয়া আদায় করা একমাত্র আল্লাহর জন্য। প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য একমাত্র আল্লাহ তা'আলা আল্লাহ ভিন্ন অন্য কেউ প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য নহে। এই সমস্ত যোগ্যতা রাখেন আর কেউ কোন কিছুর যোগ্যতা রাখি না। মহান আল্লাহ তা'আলা এই পৃথিবী আসমান জমিন লাহোরে মাহফুজ আরশ কুরসি এবং সাত আসমান জমিনের মাঝে যা কিছু আছে সবকিছু তিনিই সৃষ্টি করেছেন যেমন তিনি নদী নালা সৃষ্টি করেছেন সাগর-মহাসাগর সৃষ্টি করেছেন প্রাণী কোষ সৃষ্টি করেছেন উদ্ভিদ কোল সৃষ্টি করেছেন এবং শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে এবং মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ এক কথায় বলা যায় সৃষ্টিকারী একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই তিনি ভিন্ন একটা উনও কেউ সৃষ্টি করতে পারে না পারবেও না একমাত্র মহান আল্লাহ তা'আলা সবকিছু সৃষ্টিকারী।

 

আমরা মানুষ আমাদেরকে মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে মহান আল্লাহতালা আমাদেরকে অতি যত্নে দয়াময় করে মানুষ বানাইছে। এবং মহান আল্লাহতায়ালার উদ্দেশ্য এই মানুষকে তার চির শান্তির জায়গা, সুখের জায়গা, যেখানে কখনোই দুঃখ জানা নাই, জানাও থাকবে না, যেখানে গেলে মানুষ আর মরবে না, যেখানে গেলে মানুষ বৃদ্ধ হবে না, চুল পাকবে না, যেখানে গেলে পায়খানা প্রসব করতে হবে না, যেখানে বাড়ি গাড়ির অভাব হবে না, যেখানে সুন্দরী স্ত্রীর অভাব হবে না, এমন সুখের জিন্দেগী জান্নাত দান করবেন আর সে জান্নাতে অনন্ত অনাদিকাল পর্যন্ত আমরা আরাম-আয়েশে থাকতে পারবো। মহান আল্লাহতালা এমনটি উদ্দেশ্য করেই আমাদেরকে তৈরি করেছেন এবং এই পৃথিবীতে পরীক্ষা শুরু পাঠিয়েছেন যে কে আমলে শ্রেষ্ঠ হতে পারে আর কি আমলে শ্রেষ্ঠ হতে পারে না। কে আল্লাহকে মেনে চলতে পারে, আর কে আল্লাহকে মেনে চলে না কে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর আদর্শ গ্রহণ করতে পারে আর কে তার আদর্শ গ্রহণ না করে অন্য আদর্শ গ্রহণ করে থাকে। কে ভালো মানুষ হয় আর কে বন্ধু মানুষ হয় এই সমস্ত পরীক্ষা করার জন্য মহান আল্লাহতালা এই পৃথিবীতে আমাদেরকে পাঠাইয়াছেন।

 

তাই মহান আল্লাহর নির্দেশে আমরা এই পৃথিবীতে দলে দলে আসি বা আল্লাহ তাআলা পাঠান। এজন্য আমাদেরকে মহান আল্লাহতালার প্রশংসা সর্বসময় করতে হবে শুকরিয়া আদায় করতে হবে যেমন মহান আল্লাহতালা রুহু জগতে আমাদেরকে মানুষ হিসেবে তৈরি করেছেন। আমরা এই মানুষ হওয়ার জন্য মহান আল্লাহ তালাকে কোন প্রকার আবেদন করতে পারি নাই নিবেদনও করতে পারি নাই কান্নাকাটিও করতে পারি নাই চাইতেও পারি নাই এ ব্যাপারে মহান আল্লাহতালা অত্যন্ত দয়া করে মেহেরবানী করে আদর যত্ন করে আমাকে মানুষ বানাচ্ছেন। এ যেন দিল থেকে শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ। শুধু এতটুকু নয় আমাদেরকে হায়াতে বেঁচে রেখেছে কত মানুষ শিশুকালেই মারা যায় মায়ের পেটের মধ্যেও মারা যায় দুনিয়াতে আসার পরেও মারা যায় কিশোর কালেও মারা যায় যৌবন কালেও মারা যায় অথচ মহান আল্লাহতালা আমাকে আপনাকে এ সমস্ত ধাপ হতে হেফাজত করে এখন পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখছেন আলহামদুলিল্লাহ।

 

এরপর পৃথিবীতে প্রায় ৭০০ অর্থাৎ ৮০০ কোটি মানুষ আছে। এই মানুষগুলোর মধ্যে কিছু মানুষ রয়েছে মহান আল্লাহ তালাকে মানে না তারা মনে করে আল্লাহ বলতে পৃথিবীতে কিছুই নাই এই পৃথিবী এমনি সৃষ্টি হয়েছে আবার আমি ধ্বংস হয়ে যাবে আমরা এমনিতেই সৃষ্টি হয়েছি আমরা এমনিতে আবার ধ্বংস হয়ে মাটির সাথে মিশে যাবো না অর্থাৎ তারা পরকালীন জিন্দেগিকে বিশ্বাস করে না। এই জিন্দেগি শুরু এই জিন্দেগি শেষ। অর্থাৎ আল্লাহর অস্তিত্বকে তারা কখনই বিশ্বাস করে না এবং মানে না। এই মানুষগুলোকে আমরা বলি নাস্তিকবাদী অর্থাৎ নাস্তিক। মহান আল্লাহ তাআলা এই নাস্তিকতা থেকে আমাকে হেফাজত করেছেন আমাকে আস্তিক বানাইয়েছেন আমি নিজে আস্তিক হতে পারি নাই মহান আল্লাহতালা আমাকে দয়া করে মায়া করে হেদায়েত দিয়ে আমাকে আস্তিক বানায়াছেন এজন্য দিল থেকে শুকরিয়া আদায় করা দরকার আলহামদুলিল্লাহ।

 

এরপর হল আমাদেরকে মহান আল্লাহতালা জন্মগতভাবেই মুসলিম ঘরে পয়দা করেছেন। আমাকে যদি মুসলিম ঘরের পায়েদা না করতেন কোন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ইহুদি নাসারা বিভিন্ন ধর্মের পরিবার বা ধর্মের ঘরে যদি আমাকে পয়দা করিতেন তাহলে আমরা এই শান্তির ধর্ম মুক্তির ধর্ম মানবতার ধর্ম শ্রেষ্ঠ ধর্ম আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামে ধর্মে কখনোই আসতে পারতাম না হয়তো অর্থাৎ ধর্মান্তরিত হওয়া অনেক কঠিন কাজ এটি মহান আল্লাহতালা সরাসরি স্পেশাল ভাবে হেদায়েত না করলে সম্ভব হয় না। তাই দিল থেকে শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এমন কষ্টে এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে না রেখে সরাসরি মুসলিম ঘরে পয়দা করেছেন এই জন্য শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ।

 

শুধু তাই নয় আমাদেরকে শেষ নবী শ্রেষ্ঠ নবী দের নেতা সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উম্মত বানাইয়া এ দুনিয়া পাঠিয়েছে। মহান আল্লাহতালা অন্যান্য নবীর উম্মত হিসেবে আমাদেরকে পাঠাইতে পারতেন কিন্তু মহান আল্লাহতালা অত্যন্ত দয়া মায়া মেহেরবানী ভালোবেসে আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত বানাইছেন। পরকালীন জিন্দেগীতে শেষ নবীর উম্মত জান্নাতে যাওয়ার আগে অন্য কোন নবীর উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আচার শেষ নবীর উম্মতের মর্যাদা অনেক বেশি। এমন নবীর উম্মত বানানোর জন্য মহান আল্লাহতালার প্রতি শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ। আর এই নবীর উম্মত হওয়ার জন্য আমরা আল্লাহতালার কাছে কোনদিন আবেদন করি নাই নিবেদন করি নাই কান্নাকাটিও করি নাই অর্থাৎ কোন প্রকার দরখাস্ত করি নাই মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে ভালোবেসে দয়া করে মায়া করে মহব্বত করে অত্যন্ত আদর করে শেষ নবীর উম্মত হিসেবে বাছাই করেছেন। এজন্য দিল থেকে শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ।

 

এরপর মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সুস্থ রেখেছেন সবল রেখেছেন কারণ সুস্থতা সবচাইতে বড় নিয়ামত। মহান আল্লাহ তায়ালার নিয়ামত গুলোর মধ্যে অন্যতম একটা নিয়ামত হল এই সুস্থতা। একজন মানুষ সুস্থ না থাকলে তার কোন কিছুই ভালো লাগেনা পৃথিবীটা মনে হয় কারাগার অর্থাৎ জেলখানা মনে হয়। এই সুস্থ যে কত বড় তা যে অসুস্থ হয় সেই বুঝতে পারে অন্য কেউ এটা বোঝা সম্ভব হয় না। কারণ সুস্থ না থাকলে আপনি কোন কিছুই করতে পারবেন না ভালো কাজে মনে থাকবে না মন্দ কাজেও মন থাকবে না। তাইতো মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ মহান আল্লাহতালা আমাদেরকে সুস্থ রেখেছেন ভালো রেখেছেন আর এইবার সুস্থ এবং ভালো রাখার জন্য বেশি বেশি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি। কত মানুষ এই মুহূর্তে এক্সিডেন্ট করতেছে হাসপাতালে বেডে শুয়ে আছি বিভিন্ন জটিল রোগে গ্যাঙরাইতেছে এবং কত মানুষ পাগল অবস্থায় পাবনা হেমায়েতপুর অর্থাৎ পাগলা গারদে ভর্তি রয়েছে কত মানুষ পাগল হচ্ছে তার কোন হিসাব নেই আল্লাহতালা আমাদেরকে তা করেন নাই আমাদেরকে ভালো রেখেছে সুস্থ রেখেছেন।

 

এরপর মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের জীবিকা অর্থাৎ বেঁচে থাকার জন্য কত নিয়ামত দান করেছেন তা সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা করা সম্ভব হবে না এ ব্যাপারে সামনে পোস্টে আরো ব্যাপক আলোচনা নিয়ে আসবে ইনশাল্লাহ।

 

তাই আসুন আমরা যা কিছু আল্লাহতালা দান করেছেন তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করি এবং তার উপর সন্তুষ্ট থাকি। আমার এক স্যার কোন একদিন ক্লাসে বলেছিলেন তুমি যা পেয়েছ যা হয়েছো এর প্রতি সন্তুষ্টি আর থাকো কারণ তুমি কখনোই তোমার থেকে উচ্চ লেভেলের মানুষের দিকে তাকাইবা না তাহলে তুমি হতাশায় পতিত হইবা যে তোমার থেকে নিচু আছে তার দিকে তুমি তাকাইবা তাহলে তুমি আত্মতৃপ্তিবোধ তোমার মধ্যে জন্মিবে। তাই আসুন আমরা যে অবস্থায় আছি যতটুকু আল্লাহ তা'আলা দান করেছেন যতটুকু প্রাপ্তি হয়েছি এর উপর দিল থেকে শুকরিয়া আদায় করি এবং আত্মতৃপ্তি অর্থাৎ সন্তুষ্টি থাকে। আর আমরা যদি আমাদের অবস্থার ওপর সর্বসময় শুকরিয়া আদায় করি এবং সন্তুষ্ট থাকতে পারি তাহলে মহান আল্লাহতালা খুশি হবেন আমাদেরকে আরো দান করবেন এবং আরো ভালো পরিবেশ দান করবেন প্রভু শুধু দেখে বান্দাকে আমি যেভাবে রেখেছি তারপর সে সন্তুষ্ট আছে কিনা?

 

আজকের মত এখানেই শেষ করছি আগামী পোস্টে ইনশাল্লাহ অন্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করব আল্লাহ হাফেজ।

Comments