আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, এই কুয়াশা ঘেরা সকালে জানতে ইচ্ছা করছে আপনারা সবাই কেমন আছেন আশা করি মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহ তায়ালার করুনায় অনেক ভাল আছি।
আজকে আমি মৃত্যুকে স্মরণ করার উপকারিতা নিয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই এই পোস্টে আপনাদের সকল স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
প্রত্যেক জীবেরই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।
মহান আল্লাহ তা'আলা এই পৃথিবীতে শুধু এই পৃথিবী নয় শত আসমান শত জমিন লাহোরে মাহফুজ বায়তুল মামুর আরশ কুরসি লৌহ কলম যা কিছু সৃষ্টি করেছেন। সবই নশ্বর অর্থাৎ একদিন না একদিন ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে আর চিরস্থায়ী কখনোই ধ্বংস হবে না কখনোই লয় হবে না কখনই ক্ষয় হবেনা কখনোই মৃত্যু হবে না চিরঞ্জিত হাই অল কাইয়ুম একমাত্র মহান আল্লাহ তা'আলা। যিনি এমন সত্তা যার কখনোই নৃত্য নেই কখনই ধ্বংস নেই কখনোই বিলীন নেই কখনোই অস্তিত্বহীন নেই। তিনি সব কিছুকে ধারণ করতে পারেন তাকে কেউ ধারণ করার ক্ষমতা নেই। তিনি সব কিছুকে সৃষ্টি করতে পারেন মুহূর্তের মধ্যে এবং মহত্তের মধ্যে তিনি সবকিছু ধ্বংসপ্রাপ্ত করতে পারেন। যিনি এক সাথে সবাইকে দেখতে পারেন এবং সবার খবর রাখতে পারেন অর্থাৎ রাখেন এবং দেখেন ও। যিনি একক স্রষ্টা তার কোন শরিক নেই তার কোন ভাগই নেই তার কোন অংশীদারিত্ব নেই তার কোন ফটোগ্রাফি নেই তার কোন প্রতিমূর্তি নেই তিনি এক অদ্বিতীয়। তিনি হলেন মহান আল্লাহ তা'আলা। আল্লাহ ভিন্ন সবই তিনি সৃষ্টি করেছেন আর আল্লাহর এই সৃষ্টি সমূহ কে বলা হয় মাখলুক। এগুলো সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে চিরস্থায়ী হিসেবে কিছুই থাকবে না। চিরস্থায়ী হিসেবে থাকবে শুধু মানুষের আত্মা অর্থাৎ রুহু এটা কখনোই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে না মহান আল্লাহ তাআলা একে চিরস্থায়ী হিসেবে তৈরি করেছেন।
আমরা একসময় কিছুই ছিলাম না আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অস্তিত্ব দান করেছেন আবার এক সময় কিছুই থাকবে না মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে আবার জীবিত করবেন। এটা মহান আল্লাহ তায়ালার একেবারে সহজ কাজ। তাই বলি জন্মিলে মৃত্যু স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে।
আমাদের জীবন দুটি অংশে বিভক্ত একটি হলো রুহ যাহা মহান আল্লাহ তাআলার হুকুমের তৈরি অপরটি হল দেহ যাহা মাটির তৈরি। রুহুর খাদ্য হলো ঐশ্বরিক বাণী অর্থাৎ মহান আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বাণী নবীজির মুখঃসৃত বাণী। গায়েবের সমস্ত কথাবার্তা আলোচনা। গায়েবের কথাবার্তা হল মৃত্যু হবে আমাদের, কবে ঢুকতে হবে তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হবে এরপর আমাদেরকে চল্লিশ হাজার বছর কবরে অবস্থান করতে হবে এরপর এরপর আল্লাহতালা যখন চাইবেন তখন এই সব কিছু ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যাবে অর্থাৎ কিয়ামত সংঘটিত হবে আর কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পর আল্লাহ তাআলা যখন চাইবেন তখন হাশরের ময়দান কায়েম হবে। সেখানে আমাদের সবাইকে উপস্থিত হতে হবে ৫০ হাজার বছর সেখানে অবস্থান করতে হবে এবং সেখানে মহান আল্লাহতালা আমাদের বিচার করবেন এরপর আমাদের পুলসিরাত পার হতে হবে। এই পুলসিরাত ৩০০০০ বছরের রাস্তা। এরপর মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে জান্নাত অথবা জাহান্নাম দান করবেন। এছাড়া মহান আল্লাহ তাআলার গুণাবলী সমূহ আলোচনা এই সবই হল গায়েবের খবর।
আর এই গায়েবের খবরের মধ্যে সবচাইতে বাস্তবতা বাস্তবসম্মত নিশ্চিত একটা খবর হল আমাদের মৃত্যু। আমাদের পৃথিবীতে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মানুষ রয়েছে যেমন একপ্রকার মানুষ হয়েছে যা আল্লাহ বিল্লাহ বলে কিছুই বিশ্বাস করে না অর্থাৎ তারা আল্লাহর অস্তিত্বকে মেনে নেয় না তারা মনে করে এই পৃথিবী এমনি সৃষ্টি হয়েছে আবার আপনার ধ্বংস হয়ে যাব মৃত্যু হবে মাটির সাথে মিশে যাবো। অর্থাৎ এক কথায় বলা যায় তারা এক স্রষ্টা বা স্রষ্টাকে বিশ্বাসই করেনা। তারা বলে দেয় কোন প্রকার স্রষ্টা নেই। এই মানুষগুলোকে বলা হয় নাস্তিক এই নাস্তিক বাদী মানুষগুলো স্রষ্টাকে অস্বীকার করলেও মৃত্যুকে কখনোই অস্বীকার করে না।
আমাদের আলোচনার বিষয় হল তোর কথা স্বীকার করা বা মৃত্যুর কথা মনে রাখা স্মরণ রাখা। আর মৃত্যুর কথা মনে রাখার স্মরণ রাখলে কি উপকার হবে সে সম্পর্কে আলোচনা।
আমাদের এই পৃথিবীতে মহান আল্লাহতালা পৃথিবীর শুরু থেকে কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ এই পৃথিবীতে আগমন ঘটবে প্রত্যেকেরই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে অর্থাৎ এক কথায় বলা যায় জন্মিলে মৃত্যুবরণ করতে হবে। তাই আমরা যারা মুসলিম রয়েছি। আমাদেরকে এই পৃথিবীতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে অর্থাৎ অত্যন্ত কম সময়ে জন্য এই পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে শুধু পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা সেই পরীক্ষা ভুলে যাই স্মরণ থাকে না। আমরা দুনিয়ার চিন্তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি দুনিয়ার সম্পদ অর্জনের চেষ্টা করি দুনিয়ার নারী প্রতি আকৃষ্ট হয় দুনিয়ার গাড়ির প্রতি আকৃষ্ট হয় দুনিয়ার পথ পদবীর প্রতি আকৃষ্ট হয়। আর এটা আমাদের অধিকাংশ মানুষই করে থাকি। আমাদের আখিরাতের কথা স্মরণ থাকে না এজন্য যদি আমরা দিনে 20 বার মৃত্যুর কথা স্মরণ করতে পারি তাহলে আমরা দুনিয়ার প্রতি আসক্তি কমে যাবে। আমরা দুনিয়াতে পরীক্ষার হল সেটা মনে আসবে আমরা পরীক্ষার হলে সঠিক পরীক্ষা দিতে পারবো। আমরা সম্পূর্ণ পাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারবো। আর সকল প্রকার পাপ থেকে মুক্ত থাকাই হলো এ দুনিয়ার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আমরা যদি এই পাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারি তাহলে মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের প্রতি খুশি হবেন এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আমাদেরকে শাফায়েত করবেন।
তাই আমরা আমাদের সমাজে যারা মৃত্যুবরণ করে তাদেরকে আমরা কবরে বহন করে নিয়ে যাব কবরে নিজে রাখবো জানাজায় অংশগ্রহণ করব তাহলে আমি মৃত্যুর কথা স্মরণ হবে বেশি বেশি আর মৃত্যুর কথা স্মরণ হলে আমি আখিরাতের কাজগুলো অনায়াসে কষ্টহীনভাবে করতে পারব কারণ আমি এই পৃথিবীতে একদিন থাকবো না এই পৃথিবীতে অনেক বড় বড় মানুষ এসেছিল যেমন উদাহরণ হিসেবে পেশ করা যায় ফেরাউন হামান নম্রুদ কারণ আবু জাহেল আবু লাহাব উদবা সাইবা এবং এ জগতের বড় বড় বাদশা যেমন ডব্লিউ বুশ, আব্রাহাম লিংকন আবু নাসের ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবুর রহমান জিয়াউর রহমান আমাদের চার খলিফা হযরত আবু বক্কর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু হযরত ওমর রাযিআল্লাহু আনহু হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু হযরত আলী রাঃ। এছাড়াও আমার দাদার বাবা ছিল, তার বাবা ছিল, আমার দাদা ছিল সেও এখন পৃথিবীতে নাই আমার বাবা আছে দুইদিন পরে তাকে মৃত্যুবরণ করতেই হবে আমিও আছি আমাকেও মৃত্যুবরণ করতে হবে আমার সন্তান যারা আছে তারাও একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে অর্থাৎ কেউ এই পৃথিবীতে ছাই ভাবে থাকতে পারবে না পারে নাই ভবিষ্যতেও পারবেনা।
যেহেতু মহান আল্লাহ তা'আলা বারবার বলিতেছেন তোমাদেরকে দুনিয়ায় পরীক্ষার জন্য পাঠাইয়াছি আর এই পরীক্ষা দিতে এসে যদি আমরা সঠিক পরীক্ষা না দিতে পারি তাহলে আমাদের দুঃখের সীমা থাকবেনা কষ্টের সীমা থাকবেনা। তাই আমরা একটা বিষয় অনুধাবন করি যে পৃথিবীতে কেউ স্থায়ীভাবে থাকতে পারেনা আমিও পারবো না যেহেতু পরপারে যেতেই হবে সেহেতু আমাদের পরীক্ষা যেন ভালো হয় আমরা যেন পরীক্ষায় পাশ করতে পারি আর আমরা যদি পরীক্ষায় পাশ করতে পারি তাহলে মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে অনন্ত সুখের জিন্দেগী জান্নাত দান করবেন।
আর কেউ যদি জান্নাত লাভ করতে পারে সেটা হচ্ছে তার সবচেয়ে বড় সফলতা সবচাইতে বড় কামিয়াবী সবচাইতে বড় উপার্জন সবচেয়ে বড় পাওনা। তাইতো আমরা এটা এমনি এমনি পাবো না আমরা এর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে মৃত্যুকে স্মরণ রেখে আখেরাতের কাজগুলো সুন্দরভাবে গুছিয়ে গুছিয়ে পুঙ্খানুপুভাবে করতে হবে। আমরা যদি আখেরাতের কাজগুলো সুন্দরভাবে করতে পারি পাপ মুক্ত থাকতে পারি তবে আমরা সফলতার মুখ দেখতে পাবো প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ আমাদেরকে শাফায়াত করবেন এবং মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের প্রতি খুশি হয়ে আমাদেরকে জান্নাত দান করবেন।
তাই আমরা আজ হতে ই মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করি বেশি বেশি জানাজায় অংশগ্রহণ করি এবং মানুষকে দাফন দাফন কাফনের শরিক হয় তাহলে আমি আখেরাতের কথা স্মরণ হবে দুনিয়ার আসক্তি কমে যাবে দুনিয়ার লোভ কমে যাবে দুনিয়ার বড় বড় আশা ছোট হবে আমি আখেরাতের কাজকে সুন্দরভাবে করতে পারব। আমরা যেন আখিরাতের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হই দুনিয়ার প্রতি আমরা যেন কম আসক্তি হয় আখেরাতের কাজকে বেশি বেশি করতে পারি এই কামনা রেখে আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।


