বাবা আমার বটগাছ,

alim236


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি বারকাতুহু।



প্রিয় সাথীবৃন্দ, আপনারা কেমন আছেন জানি না তবে আশা করতে পারি আল্লাহর রহমতে আপনারা অনেক ভাল আছেন সুস্থ আছেন আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহতালার অশেষ মেহেরবানীতে ভালো আছি সুস্থ আছি। বাবা বেঁচে থাকলে সন্তানের জন্য যে বটগাছ তার উপর কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই এই পোস্টটা আপনাদের সকল স্বাগতম এবং অভিনন্দন।


বাবা নামে বটগাছ আছে বলেই আজ আমার চিন্তামুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারি। বাবা আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ। শিশুকাল থেকে অদ্যবধি বাবার কাছে আমি ছোটই রয়ে গেলাম। বাবা আছে বলেই আমার পৃথিবী এত বড়।


ছোটকালে বাবার আদর, যখন আমার বয়স পাঁচ ছয় বছর তখন বাবা আমাকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেত। আমি বাবার সাথে হেঁটে কুলে উঠতে পারতাম না আমাকে দৌড়াইয়া দৌড়াইয়া যেতে হতো। বাবার সাথে আমি হাটে গিয়েছি। বাবার সাথে হাটে গিয়ে কতবার যে আমি হেরে গিয়েছি তা বলে শেষ করা যাবে না। বাবাকে খুঁজে খুঁজে না পেয়ে আমি এক জায়গায় দাঁড়াইয়া কাঁদতাম। তখন বাবা আবার আমাকে খুঁজতো এবং পেয়ে রাগ করত। আবার সাথে সাথে যেতাম। বাবা হার্ট করতে করতে করতে সন্ধ্যা করে ফেলতো। এটা আমার ভালো লাগতো না। বাবা কোন জিনিস কিনলে হাটে যদি দশটা দোকানে থাকে সবগুলো দোকান সে যাচাই করার পরে এক দোকান থেকে কিনতো। এটা আমাদের তখন বিরক্ত লাগতো এরপর আমি বাবার সাথে হাটে যাওয়া বন্ধ করে দেই। বিভিন্ন অজুহাত দেয়ার সাথে।


বাবার সাথে গোসল করতে গেলে বাবা আমাকে সাবান দিয়ে খুব জোরে জোরে ঘষে দিত। এতে হাত পায়ে অনেক ব্যথা পাইতাম কিন্তু তিনি মানতেন না। ময়লা পরিষ্কার করতেই হবে। এরপর গামছা দিয়ে পানি মুছে দিতেন প্যান্ট পরাইয়া দিতেন গেঞ্জি বা সাত পাড়াইয়া দিতেন। তারপরে বাড়ি আসতাম। বাড়ি আসার পর মা তেল পাউডার এগুলো মাখাইয়া দিতেন। দেওয়ার পর আব্বা কোলে বা কান্দে করে পাড়ার উপর বেড়াইতে নিয়ে যেতেন। এখন আমার এগুলো মনে আছে।


আমি যখন ক্লাস এইটে পড়ি তখন দূরে এক স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিলাম প্রায় ৩০ জনের মত ছাত্র-ছাত্রী ছিলাম। এদিকে বাবা ঢাকা থেকে বাড়ি এসেছে। আমার জন্য একটা ঘড়ি নিয়ে এসেছে। ঘড়ি আনার পারে সেই ঘড়ি আব্বা সেই দূরে প্রাইভেট স্যারের বাড়িতে গিয়ে আমাকে ঘরে হাতে পড়ায় দিয়ে তারপরে চলে এসেছেন। কতটুকু ভালোবাসা থাকলে বাবা এমন কাজ করতে পারে তা তখন বুঝতে পারতাম না এখন ঠিকই বুঝি বাবা আমাকে কত ভালবাসতেন। যেদিন আমি এসএসসি পাস করি সেদিন বাবা অনেক খুশি হয়েছিলেন এবং মিষ্টি এনে বিতরণ করেছিলেন। এরপর বাবা আমার জন্য লাল গেঞ্জি এনেছিলেন একবার সেটা এখন আমার মনে আছে। বাবা মাছ মারার পরে রান্না করার পরে আমাকে ভালো ভালো মাছ বলে খাওয়াতেন আজো আমার সেগুলো মনে আছে।


বাবা এখন অনেক নরম হয়ে গেছে আগের মত আর নেই। মহান আল্লাহতালা কখনো আমার বাবাকে উঠাইয়া নিবেন তা সব সময় মনে পড়ে। বাবা মারা যাওয়ার পরে আমি কেমন করে তার কথা মনে রাখব। কিরকম লাগবে। ইত্যাদি ইত্যাদি বিভিন্ন চিন্তা আমাকে ঘিরে ধরে। সবচেয়ে বড় কথা আব্বা এখনো বেঁচে আছে আমাদের মাঝে আছে এজন্য আল্লাহতালার কাছে শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ। আমার বাবাকে আল্লাহতালা দীর্ঘজীবী করুক এই কামনা করি আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।

Comments