বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুল্লাহ।
প্রিয় ব্লাট সাথী বৃন্দ, আশা করি আপনারা সবাই আল্লাহর কৃপায় ভাল আছেন এবং আমিও আল্লাহর রহমতে তার অশেষ কৃপায় ভাল আছি।
আজকে আমি এই পোস্টে পাথরকুচি উদ্ভিদের পাতার ঔষধি গুনাগুন ও উপকারিতা নিয়ে আজকের আয়োজন। এই পোস্টে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন ।
পাথরকুচি ঔষধি উদ্ভিদ এবং দেড় থেকে দুই ফুট উঁচু থাকে। পাথরকুচি ঔষধি উদ্ভিদের পাতা মাংসল ও মসৃণ, আকৃতি অনেকটা ডিমের মতো।পাথরকুচি ঔষধি উদ্ভিদ পাতায় খাজ কাটা থাকে এবং এই খাঁজ থেকে নতুন চারার জন্ম হয়ে থাকে। অনেক সময় গাছের বয়স হলে ওই গাছের খাঁজ থেকে চারা গজায়ইয়া থাকে। পাথরকুচি পাতা মাটিতে ফেলে রাখলেই অনায়াসে চারা পাওয়া যায়।
পাথরকুচির ঔষধি গুণঃ-
আমাদের সর্দিজনিত কারণে শরীরের নানা স্থানে ফোঁড়া দেখা দেয় এবং সেই কারণে ব্যথা হয়, যাহা মেহ নামে পরিচিত । আমরা এ ক্ষেত্রে পাথরকুচি পাতার রস এক চামচ করে সকাল-বিকেল এক সপ্তাহ খেলেভাল হয়ে যায়।
সর্দি :আমাদের যে সর্দি পুরনো হয়ে গেছে সে ক্ষেত্রে পাথরকুচি উদ্ভিদ বিশেষ উপযোগী।আমরা বিকারে পাথরকুচি পাতা রস করে সেটা একটু গরম করে এবং গরম অবস্থায় তার সঙ্গে একটু সোহাগার খৈ মেশাইয়া ৩ চা চামচের সঙ্গে ২৫০ মিলিগ্রাম যেন হয় তারপর তা থেকে ২ চা চামচ নিয়ে সকাল-বিকেলে দু'বার খেতে হবে। এতে আমাদের পুরনো সর্দি সেরে যাবে ও সর্বদা কাশি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ ।
কাটা বা থেঁতলে যাওয়াঃ- আমরা পাথরকুচির টাটকা পাতা পরিমাণ মতো হালকা তাপে গরম করে কাটা বা থেঁতলে যাওয়া স্থানে সেঁক দিলেই আরাম পাওয়া যায়।
রক্তপিত্ওঃ- আমাদের পিত্তজনিত ব্যথায় রক্তক্ষরণ হলে দু'বেলা এক চা চামচ পাথরকুচি পাতার রস দু'দিন খেলে সেরে যাবে ইনশাল্লাহ ।
পেট ফাঁপাঃ- আমাদের পেট ফুলে যাওয়া, প্রস্রাব আটকে থাকা, আধোবায়ু, সরছে না, সে ক্ষেত্রে একটু চিনির সঙ্গে এক বা দুই চা চামচ পাথরকুচি পাতার রস গরম করে এক কাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে, এতে ফাঁপাটাও কমে যাবে।
শিশুদের পেটব্যথাঃ- শিশুদের পেটব্যথা হলে ৩০-৬০ ফোঁটা পাথরকুচি পাতার রস পেটে মালিশ করলে ব্যথার উপশম হবেইনশাআল্লাহ ।
মৃগী রোগীঃ- মৃগী রোগীকে যদি রোগাক্রান্ত সময়ে পাথরকুচি পাতার রস ২-১০ ফোঁটা করে মুখে দিতে হয় এবং একটু পেটে গেলেই রোগের উপশম হবে ইনশাআল্লাহ।
শরীর জ্বালাপোড়াঃ- শরীর জ্বালাপোড়া হলে দু'চামচ পাথরকুচি পাতার রস আধা কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে দু'বেলা সেবনে শরীরের জ্বালাপোড়া দূর হবেইনশাআল্লাহ ।
কিডনির পাথর অপসারণঃ-পাথরকুচি পাতা কিডনি ও গলগণ্ডের পাথর অপসারণ করতে সাহায্য করে থাকে।প্রতিদিনে দু'বার ২ থেকে ৩টি পাতা চিবিয়ে অথবা রস করে খেতে হয়।
জন্ডিস নিরাময়ঃ আমাদের লিভারের যে কোনো সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর রস অনেক উপকারী হয়ে থাকে ।
উচ্চরক্তচাপঃ-উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও মূত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা রস ভালো উপকারী হয়।
পাইলস ও অর্শ রোগঃ-পাথরকুচি পাতার রসের সঙ্গে গোলমরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ইনশাআল্লাহ ।
কলেরা, ডায়রিয়া বা রক্ত আমাশয় রোগঃ- কলেরা, ডায়রিয়া বা রক্ত আমাশয় রোগ সারাতে পাথরকুচি পাতার জুড়ি নেই। আমরা পাথরকুচি পাতা ৩ মি.লি. পাথরকুচি পাতার জুসের সঙ্গে ৩ গ্রাম জিরা ও ৬ গ্রাম ঘি মিশিয়ে কয়েক দিন পর্যন্ত খেলে এসব রোগ থেকে উপকার পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ ।
ত্বকের যত্ন :-পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী হয়ে থাকে।
আজকে এই পযন্তই, আল্লাহ হাফেজ।


