আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে সকালে আত্মার সকালে পর্যন্ত মহান আল্লাহতালা আমাকে অনেক ভালো রেখেছেন সুস্থ রেখেছেন সবল রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করার তৌফিকও দিয়েছেন এজন্য শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ।
আজকে আমি সকাল সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত যা যা করেছি এই বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা আপনাদের সাথে তুলে ধরবো অর্থাৎ আজকের দিনের যা করেছি এবং যা করব এই বিষয় নিয়ে আজকের পোস্ট। এই পোস্টে আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
আমার প্রথম কাজ হিসেবে আমি যে কাজটি করে থাকি তাহলে মহান আল্লাহতালার হুকুম পালন এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর সুন্নতে জিন্দেগী অনুসরণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করি। আর সেই মতে আমি ভোর পৌনে চারটা সময় ঘুম থেকে জেগে ওঠার চেষ্টা করি। এতে কোন কোন দিন আমার ওটা সম্ভব হয় না ঘুমের কারণে। আমি যদি প্রথম রাত্রে অর্থাৎ রাতে প্রথম দিকে যদি এগারোটা পার করি অর্থাৎ এগারোটার পরে ঘুমাতে যায় তাহলে সকালে ওঠা আমার অনেক কষ্ট হয় অর্থাৎ অনেক অনেকদিন মিস হয়ে যায়। এজন্য আমি নয়টা থেকে দশটার মধ্যেই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ি। এতে আমার টা বা চারটার সময় ঘুম থেকে ওঠা আমার পক্ষে অনেক সহজ হয়। সেই রুটির মধ্যে আজকে আমি পৌনে চারটার দিকে ঘুম থেকে উঠেছি ওঠার পরে প্রয়োজনীয় কাজ সমাধা করে উত্তমরূপী ওযু করে এরপর পোশাক পরিচ্ছেদ করে মহান আল্লাহ তাআলার ইবাদতে মামলা হয় ইবাদত করার পরে মহান আল্লাহর থেকে যা যা দরকার চাইতে থাকি।
আমরা এই দুনিয়াতে মহান আল্লাহতালা আমাদের পাঠিয়েছেন পরীক্ষার হল স্বরূপ। আর এই পরীক্ষা দিতে এসে আমরা অনেক ভুল প্রান্তে করে ফেলি। তার মধ্যে প্রধান ভুল হলে আমরা প্রথম জীবনে অনেকদিন নামাজ পড়ি না অর্থাৎ ইবাদত করি না। এটা অবশ্য আমাদের দোষ নয় এটা সম্পূর্ণ বাবা-মায়ের দোষ বাবা-মা যদি ছোটকাল থেকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করত তাহলে একদিনও নামাজ কাজা যাইত না এবং শরীয়তের কোন হুকুম আহকাম ছুটে যেত না। যাই হোক ভাগ্যে যায় ছিল তাই হয়েছে আমরা হয়তোবা সেরকম সুযোগ পাইনি তবে মহান আল্লাহ তা'আলা যতটুকু দিনের রাখে এই জন্য শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ। আমরা এই দুনিয়াতে থাকতে পারবো না একদিন না একদিন চলে যেতেই হবে আর সেই যাওয়াটা কবে হবে সেটা কেউ জানে না একমাত্র মহান আল্লাহ তা'আলা ছাড়া। আমার যখন সময় হবে সেই নির্দিষ্ট সময়েই আমাকে মৃত্যুর ডাক দেওয়া হবে আমাকে পরকালে জিন্দেগীতে পদার্পণ করতে হবে । এই পৃথিবীতে অনেক উদাহরণ রয়েছে অর্থাৎ যারা নাস্তিক তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে না অর্থাৎ তারা বলে পৃথিবীতে আল্লাহ বলতে কিছুই নেই পৃথিবী এমনি চলতেছে চলবে এবং একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে। তারাও মৃত্যুকে স্বীকার করে নেয় অর্থাৎ মরতে হবে। এছাড়াও বড় বড় প্রতাপশালী পাঠশালা ছিল তারাও পৃথিবীতে থাকতে পারে নাই মরে যেতেই হবে এবং তারা চলেও গেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমার দাদার দাদা ছিল আমার দাদা ছিল আমার বাবা আছে আমিও এখন আছি আমার সন্তানরা আছে আমার সন্তানদের সন্তান হবে তারা এ পৃথিবীতে আসবে কিন্তু আমার দাদার বাবাও চলে গেছে আমার দাদাও চলে গেছে আমার বাবাও চলে যাবে আমার মা ও ছেলে যাবে আমিও চলে যাবে।
আসা যাওয়ার এই সংক্ষিপ্ত দুনিয়ায়। কে উত্তম কাজ করলো আর কে উত্তম কাজ করলো না কে ভালো কাজ করলো আর কে ভালো কাজ করলো না কে আল্লাহকে মানলো আর কে আল্লাহকে মানলো না কে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালামের আদর্শ গ্রহণ করল আর কে গ্রহণ করল না এই ব্যাপারে আমাদেরকে পরকালের জিন্দেগীতে মহান আল্লাহতালার সামনে আমাকে জিজ্ঞেস করা হবে অর্থাৎ মহান আল্লাহতালা আমাকে জিজ্ঞেস করবেন এবং জবাব চাইবেন বিচার হবে।
যেহেতু সেই দিন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে তাই আমরা আমাদের এই জিন্দেগীতে তার উত্তর গুলো খুঁজে নেব।
আমার সন্তান যেন আমার মত ইসলামের প্রতি শিথিল্য না হয়। ইসলামের হুকুম আহকাম প্রথম থেকেই মানতে পারে সেই চেষ্টা করার জন্যই আমি আমার সন্তানদেরকে ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চাই। আর সেই চেষ্টার ফলস্বরূপ অর্থাৎ সেই চেষ্টার সাফল্য পাওয়ার জন্য আমি আমার ছেলেকে কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করেছি। সে কোরআন দেখে দেখে পড়িতেছে এরপর তাকে হাফেজ বানাবো ইনশাআল্লাহ এরপর তাকে মাওলানা বানাবো এরপর তাকে মুফাসসিরে কুরআন বানানোর চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
এরপর আমার দুটি মেয়ে রয়েছে একজনের নাম মরিয়ম আর অপর জনের নাম আলফা আল তাইবা। তাদেরকেও ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য মহিলা কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করেছি। তাদেরকেও হাফেজা বানাবো ইনশাআল্লাহ এরপর তাদেরকে মাওলানা পাশ করাবো ইনশাআল্লাহ। আর সেই জন্য আমার চেষ্টা আমার অর্থ আমার শারীরিক পরিশ্রম আমার মানসিক পরিশ্রম এবং আমার যাবতীয় শ্রম তাদের পিছনে দেওয়া ইনশাল্লাহ। আর সেটা আমি শুরু করেছি অনেক আগের থেকেই। সেই জন্য নামাজের পর আমি তাদেরকে মাদ্রাসায় নিয়ে যাই। এবং দুপুর দুইটার সময় কলেজ থেকে আসার সময় তাদেরকে আমি আবার নিয়ে আসি।
তাদেরকে নিয়ে আসার পথে কিছু জলজ উদ্ভিদ অর্থাৎ কচুরিপানা এর ফুলের ছবি তুললাম যা এখানে শেয়ার করব ইনশাল্লাহ। আসলে এই কচুরিপানা বর্ষার সময় আমাদের পাশে নদী দিয়ে ভেসে আসে ভেসে আসার পরে আমাদের আবদার ভিতর অর্থাৎ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভিতরে যেখানে জায়গা পায় সেখানে তারা রয়ে যায় এবং সেখানেই তারা বংশবিস্তার করে। এই জলজ উদ্ভিদ গুলো সাধারণত পানিতে জন্মে থাকে। পানিতেই বংশ বিস্তার করে। পানির মধ্যেই এরা ফুল ধরে। এদের যখন ফুল ধরে অর্থাৎ ফুল ফোটে তখন সুন্দর একটা দৃশ্যের অবতারণা হয় যা যে কেউই মন ভালো হয়ে যাবে এই দৃশ্য দেখলে। তাই আমি আমার ফোন দিয়ে কিছু ফটো তুললাম এবং আপনাদের সাথে এই দৃশ্য অবলোকন ভাগাভাগি করার জন্য ছবিগুলো এখানে আপলোড করলাম।
আসলে আমাদের জীবনে এই জলছ উদ্ভিদের আদর্শ গ্রহণ করা উচিত। এই জলজ উদ্ভিদগুলো আমাদের অর্থাৎ মানুষের শুধু উপকার করে যায় তারা নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে আমাদের উপকার করে। নিজের উপকারের জন্য তারা কিছুই করে না। তারা যে প্রধান উপকার করে সেটা হল তারা বাহির থেকে বিষাক্ত গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে নেয় এবং অক্সিজেন পরিশুদ্ধ আমাদের জীবন এর জন্য আত্মা বসতিও সেই গ্যাস পরিবেশে ছেড়ে দেয়। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটা গ্যাস। যে গ্যাস না হলে আমাদের বাঁচার সম্ভব হবে না আর সেই গ্যাসটির যোগান দেয় এই কচুরিপানা। এরপর ২ কচুরিপানা আমাদের মনের আনন্দের খোরাক যোগায়। যখন এই কচুরিপানা ফুলে ফুলে ভরে যায় তখন সুন্দর একটা দৃশ্যের অবতারণা হয় যা দেখলে আমাদের মন অনেক প্রশস্ত হয় মন অনেক ভালো হয়ে যায়। এরপর যখন পানি শেষ হয়ে যায় অর্থাৎ পানি শুকে যায় তখন এই কচুরিপানাগুলো জমিতে পচিয়ে জৈব সারের সৃষ্টি করে। যা আমাদের ফসলের উর্বরতা বাড়ায়। অনেক ফসল বৃদ্ধি পায় যা আমাদের খাদ্যের যোগান দেয়। অর্থাৎ এক কথায় বলা যায় এই কচুরিপানা আমাদের অনেক উপকার করে থাকে।
আমাদের এই কচুরিপানা থেকে ব্রত গ্রহণ করা উচিত আমরা মানুষের উপকার করবো মানুষ মানুষের জন্য মানুষের সুখে দুঃখে আমরা হাত বাড়িয়ে দেব এবং মানুষকে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করে দেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করব এবং দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী আখেরাত চিরস্থায়ী এই বিষয়ে তাকে বোঝাবো এবং তাকে আখিরাতের কাজের প্রতি উৎসাহ দেবো এবং সে যেন মহান আল্লাহতালার হুকুম আহকাম সুন্দরভাবে পালন করতে পারে এবং মহান আল্লাহতালা তার যেন খুশি হয় এবং মহান আল্লাহতালা আমাদের জন্য তারপরও সুখের জিন্দেগী জান্নাত দান করে আল্লাহুম্মা আমীন আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।


