বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
প্রিয় সাথী বৃন্দ আমি একজন রসায়ন বিষয়ের ছাত্র হওয়ায় রসায়ন নিয়ে অজানা কিছু তথ্য আপনাদের জানাতে চায়। আজকে এই পোস্টে আপনাদের সকলকে স্বাগতম।
পৃথিবীর এমন কোন ক্ষেত্র নাই যে সেখানে রসায়ন ছাড়া চলতে পারে। আমাদের জীবন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শুধু রসায়নের খেলা চলতে থাকে। রসায়ন ছাড়া আমাদের জীবন যেন অচল। আসুন আমরা রসায়ন সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য ধারাবাহিকভাবে জানবো এবং যথাসাধ্য জানানোর চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ ।
রসায়ন আমাদের অনেকের কাছে কঠিন বিষয় আথ্যাৎ সহজবোধ্য না হলেও রসায়ন অত্যান্ত মজার একটি বিষয়। রসায়ন মানেই অনেক মজা এবং অনেক কারিশমা। আজকে এই পোস্টে থাকছে রসায়নের কিছু মজার তথ্য। আসুন দেখি আজকের মজাগুলো কি কি!!!
১. আপনি যদি একটি পরিপূর্ণ গ্লাস পানিতে এক মুঠো লবন দেন তাহলে স্বাভাবিকভাবেই গ্লাসের পানি পড়ে যাওয়ার কথা, তাই না ? কিন্তু লবণ দেওয়ার পর ঘটনাটি ঘটলো উল্টো পানি পড়ে যাওয়া তো দূরের কথা গ্লাসে পানির পরিমাণ আরো কমে গেল,তাই না ?
২. আপনার শরীরে যে পরিমান কার্বন( C) আছে তা দিয়ে প্রায় ৯০০০ পেন্সিল বানানো যাবে !!!
৩. সোনা অনেক দুর্লভ এবং দাম তো আনেক বেশী। কিন্তু পৃথিবীতে সোনার পরিমাণ অনেক যা দিয়ে পৃথিবীটাকে সম্পূর্ণ ভাবে ঢেকে দিলে হাঁটু পরিমান উচ্চতা হবে।
৪. অক্সিজেন গ্যাস এর কোন প্রকার রং বা বর্ণ নেই, কিন্ত অক্সিজেনকে তরল ও কঠিন অবস্থায় নিলে তা নীল বর্ণ ধারণ করে।
৫. হাইড্রফ্লুরিক(HF) এসিড এতবেশি পরিমানে ক্ষয়কারী যে কাজ পাত্রে রাখা যায় না কারণ গ্লাসকে গলিয়ে ফেলে , কিন্তু তারপরেও এই এসিডটা দুর্বল এসিড ।
৬. পৃথিবীর সবচে কম এবং দুর্লভ মৌল এস্তেতিন যা সারা পৃথিবীতে মাত্র প্রায় ২৮ গ্রাম এস্তেতিন আছে।
৭. বায়ুমণ্ডলের প্রায় ২০ % অক্সিজেন রয়েছে যা শুধুমাত্র আমাজন রেইন ফরেস্টের মাধ্যমেই উৎপন্ন হয়ে থাকে ।
৮. সাধারন তাপমাত্রায় বা রুম তাপমাত্রায় ব্রোমিন ও পারদ এই দুটো মৌলই তরল অবস্থায়থাকে।
৯. আমরা জানি পানির রাসায়নিক সংকেত (H2O ) কিন্তু ইউপ্যাক (IUPAC) অনুযায়ী পানির রাসায়নিক নাম হলো এবংডাইহাইড্রজেন মনোঅক্সাইড।
১০. মহাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি আছে হাইড্রোজেন কিন্তু পৃথিবীতে সবচে বেশি পাওয়া যায় অক্সিজেন।
১১. বজ্রপাতে আমাদের জন্য অভিশাপ এবং আশীর্বাদ স্বরূপ। বজ্রপাতের ফলে অনেক লোক অকাল মৃত্যু মুখে পতিত হয় কিন্তু আপনি কি জানেন বজ্রপাত না হলে পৃথিবীতে প্রাণীকুল বাঁচা সম্ভব হতো না কারণ ওজোন গ্যাস তৈরি হতো না, আর ওজোন গ্যাস তৈরি না হলে ওজোন স্তর তৈরি হতো না,আর ওজোন স্তর না হলে, সূর্যের আলো সরাসরি আমাদের পৃথিবীতে চলে আসতো ফলে প্রাণীকুল বাঁচা সম্ভব হতো না।
সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন পরবর্তী পোস্টে আরো মজার মজার রসায়নে তথ্য নিয়ে হাজির হব ইনশাআল্লাহ।
ধন্যবাদ।


