বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি "আমরা মুসাফির"এই ছোট্ট বাক্যটি নিয়ে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক আলোচনা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব ইনশাল্লাহ এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
আমরা মুসাফির, কেন আমরা মুসাফির, মুসাফির কাকে বলে? মুসাফিরের জীবন কেমন হওয়া উচিত, সত্যিকারে মুসাফির জীবন অবলম্বন করলে আমাদের কি উপকার হবে আর মুসাফির জীবন অবলম্বন না করলে আমাদের কি উপকার হয় সে বিষয়গুলো একে একে আলোচনা করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ
প্রথমে আমরা মুসাফির কাকে বলে সেই বিষয় নিয়ে কথা বলি, মুসাফির হইলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় কিছুদিনের জন্য ভ্রমণ করা এবং ভ্রমণকারীকেই মুসাফির বলা হয়। ইসলামে শরীয়ত মতে যদি কোন ব্যক্তি বাড়ি হতে প্রায় 48 মাইল অথবা 77. 232 কিলোমিটার দুরে কোথাও কোন কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যাওয়ায় তাকে ইসলাম শরীয়তের মতে মুসাফির বলা হয়।
আসলে আজকে আমি শরীয়তের ভাষায় যে মুসাফির সেই মুসাফির নিয়ে কথা বলবো না কিন্তু মুসাফির কাকে কখন কে কিভাবে মুসাফির হয় সে বিষয়টি উপরে সামান্য কিছু বর্ণনা করলাম। এই মুসাফির যেমন বাড়ি হতে প্রায় 48 মাইল দূরে যদি অবস্থান করে তখন সে মুসাফির হয় আর মুসাফির অবস্থায় তার সবকিছু সংকোচিত হয় যেমন নামাজ ৪ রাকাত যদি হয় সে তখন দুই রাকাত পড়তে পারে তখন দুই রাকাত পড়াই সওয়াবের কাজ চার রাকাত পড়ার বিধান নেই। আর যখন একটা মানুষ মুসাফির হিসেবে কোথাও অপেক্ষা করে বা অবস্থান করে তখন তার সাথে থাকে সামান্য কিছু খাবার সামান্য কিছু পোশাক সামান্য কিছু সামানপত্র সামান্য কিছু আশা সামান্য কিছু ভরসা। কারণ সে তো সেখানে বেশিদিন অপেক্ষা করবে না, অবস্থানও করবে না, সে যে উদ্দেশ্যে সেখানে রওনা দিয়েছে বা সেখানে অবস্থান করছে সেই উদ্দেশ্য সফল করেই সঙ্গে সঙ্গে সে বাড়ির দিকে রওনা দিবে। এখন এই মুসাফির যে উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়াছে সেই কাজটি সে সুন্দরভাবে মনে রাখতে হবে এবং সুন্দরভাবে সূচালো ভাবে কাজটি কমপ্লিট করে তারপর বাড়ির দিকে রওনা দিতে হবে। যদি এই মুসাফির সেখানে যে উদ্দেশ্যে গেল সেই উদ্দেশ্যে যদি ভুলে যায়। ভুলে গিয়ে যদি সে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন কাজকর্ম করতে গিয়ে সে যদি তার আসল উদ্দেশ্য যে কাজ নিয়ে সেখানে গিয়েছে সেই কাজ যদি সে করতে না পারে তবে তার উদ্দেশ্যই আহত হয়ে যাবে, উদ্দেশ্যহীন যাত্রা হবে। তাই সর্বপ্রথম যখন সে মুসাফির হিসেবে সেখানে গমন করবে তখন সে কি উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছে কোন কাজ করার জন্য সেখানে গিয়েছে সেই কাজটি কিভাবে করবে কিভাবে করলে ভালো হবে এবং কতটুকু করবে আর কতটুকু করার তার উদ্দেশ্য সে সমস্ত সুন্দরভাবে মনে রাখার পরে যদি কাজটি ধাপে ধাপে কমপ্লিট সুন্দরভাবে করতে পারে তবে তার উদ্দেশ্য সফল হবে। আর যদি তার উদ্দেশ্য সফল না করতে পারে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আসল উদ্দেশ্য যদি ভুলে যায় তবে এই ব্যক্তি তার সফর এর উদ্দেশ্যে একেবারেই নষ্ট হয়ে গেল। সে রিক্ত হস্তে খালি হাতে বাড়ি ফিরে আসবে সে একজন ব্যর্থ মনোরথ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসতে হবে তার উদ্দেশ্যহীন যাত্রা হয়ে যাবে। সে বাড়িতে এসে শুধু অনুতাপ করতে থাকবে, আফসোস করতে থাকবে, মন খারাপ করতে হবে, আফসোস করতে করতে যদি জীবন পার করেও দেয় তবুও যে উদ্দেশ্যে গিয়েছিল সেই উদ্দেশ্য আর কখনোই সফল হবে না যদি সে সেখানে পুনরায় গমন না করে। দুনিয়ার জিন্দেগীতে মুসাফির হলে হয়তো বা সে পুনরায় আবার সেখানে যেতে পারে এবং উদ্দেশ্য গুলো আবার সফল করে বাড়ি ফিরে আসতে পারে। এটা হল দুনিয়ার জিন্দেগী মুসাফির এর অবস্থা।
এখন আমরা বলব আমরা সকলেই দুনিয়াতে মুসাফির হিসেবে মহান আল্লাহতালা আমাদের পাঠায় আছে। মুসাফিরের যেমন যাত্রার উদ্দেশ্য থাকে। তেমনি আমরা আমাদের আসল বাড়ি আখিরাত আর সেই আসল বাড়ি রেখে অল্প কয়েকদিনের জন্য এই দুনিয়াতে মহান আল্লাহতালা পাঠাইছেন আমাদের মুসাফিরের মতই। মুসাফিরের সাথে যেমন সামান্য কিছু সামানা থাকে তার বড় আশা থাকে না বড় ভরসা থাকে না। তেমনি আমরা এই দুনিয়াতে সামান্য সময়ের জন্য অবস্থানের জন্য মহান আল্লাহতালা আমাদেরকে পরীক্ষার জন্য পাঠাইয়াছেন এখানে আমরা অল্প কয়েকদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় নিয়ে এখানে অবস্থান করিতেছি আমরা সময় নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যাবে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে আর পৃথিবীতে এক মিনিট বেশিও থাকতে দেবেন না আমাদেরকে আমাদের বাড়িতে চলে যেতে হবে। তাই আমরা দুনিয়াতে যদি মুসাফির হিসেবে জীবনযাপন করতে পারি মুসাফির যেমন ভাবে তার সফর শেষ করে উদ্দেশ্য সফল করে বাড়ি ফিরে আসে তেমনি যদি আমরা এই দুনিয়াতে মুসাফির হিসেবে এসেছি আমাদের উদ্দেশ্য সফল করে আবার যেন আমরা পরপর চলে যেতে পারি তবেই আমাদের সফলতা উঁকি দেবে। আর যদি ওই মুসাফিরের মত দুনিয়াতে আসার পর আমরা যদি আসল বাড়ির কথা ভুলে যাই নকল বাড়ির নেশায় মত্ত হয়ে যায় তবে আমাদের কপাল পুড়বে। আমাদের এই দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী স্থানের প্রতি আসক্তি হওয়া যাবে না চলবে না কারণ আমরা ইচ্ছা করলেও এখানে যেমন আসতে পারি নাই তেমনি ইচ্ছা করলো আমরা এখানে চিরকাল অবস্থান করতে পারব না যদি আমরা নাও যেতে চাই তবু আমাদেরকে নেওয়া হবে। ইতিহাসের দিকে যদি আমরা তাকাই তবে আমরা দেখতে পাই 45 শত বছর রাজত্ব করা বাদশার ফেরাউন সম্পদে ভরপুর বাদশা কারণ। পদমর্যাদায় উচ্চ পর্যায়ের পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি আত্মার ফেরাউনের মন্ত্রী হামান, সমাজের সবচেয়ে বড় নেতা দেশের বড় নেতা প্রেসিডেন্ট আবু জেহেল, উদবা, সাইবা, আবু লাহাব, এছাড়াও আমরা মুসলিম জাহানের অনেক বড় বড় ন্যায় বিচারক বাদশা দেখা যায় যেমন বাদশা সোলায়মান, আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এছাড়াও আমিরুল মুমিনুন আবুবক্কার সিদ্দিক রাদিআল্লাহু আনহু, ওমর রাঃ, ওসমান রাজিয়াল্লাহু আনহু, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু, বাদশা সাদ্দাদ, এছাড়াও অনেক প্রতাপশালী বাদশা গন তারাও এই পৃথিবীতে বেশি দিন থাকতে পারে নাই তাদেরকে চলে যেতেই হয়েছে তারা কিছুই নিয়ে যেতে পারে নাই তারা খালি হাতে ফিরে গেছে কারণ এটা তো আসলে সরাইখানা, বিশ্রাম খানা, পরীক্ষার ক্ষেত্রে, অস্থায়ী জায়গা, এটা তো থাকার জায়গা না, এটাতো আমাদের আসল বাড়ি নয়। তাইতো এখানে আমরা দুনিয়ার মোহে না পড়ি, দুনিয়ার ভালবাসায় না গেঁথে যায়, দুনিয়ার ভালবাসা আসক্তি না হয়, দুনিয়ার সম্পদের পিছনে না ঘুরি, দুনিয়ার বাড়ির পিছনে না ঘুরি, দুনিয়ার নারীর পিছনে না পাগল হই, দুনিয়ার খাদ্যের প্রতি আসক্তি না হয়। কারণ এই অস্থায়ী জিনিসের পিছনে যদি আমি আসক্তি হয়ে যায় পাগল হয়ে যায় তবে আমার এখানের সফরের আসল উদ্দেশ্য আমার ব্যাহত হয়ে যাবে আমি আসলে উদ্দেশ্যে ভুলে যাব আর আসল উদ্দেশ্য ভুলে গেলে আমার কপাল পুড়বে আমি তো ধ্বংস হয়ে যাব। তাই আমার দের জিন্দেগীর পুরো সময় আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে সাবধান থাকতে হবে অনেক বিচক্ষণতার সাথে জিন্দেগীর সময়টি পার করতে হবে। যদি না করতে পারি তবে আমাদের আসল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না যে উদ্দেশ্যে এই পৃথিবীতে মহান আল্লাহতালা আমাদের পাঠিয়েছেন সেই উদ্দেশ্যে আমার ব্যাহত হবে। সেই উদ্দেশ্য আমার অপূর্ণই থেকে যাবে। আর আমার উদ্দেশ্য যদি অপূর্ণ থেকে যায় আমার উদ্দেশ্য যদি মনে না রাখি আমার উদ্দেশ্যে যদি সফল না হতে পারি তবে আমার পরকালীন জিন্দেগি অত্যন্ত কষ্টের হবে অত্যন্ত দুঃখের হবে অত্যন্ত বেদনার হবে। তখন শুধু আফসোস ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা কিন্তু দুনিয়ার মুসাফিরের মত পুনরায় আমি আর এই পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবো না কারণ এই পৃথিবী একবারই আসার জায়গা একবারই পরীক্ষার সময় একবারই একটাই পরীক্ষার হল। তাই আর দ্বিতীয়বার এখানে ফিরে আসা সম্ভব হবে না। সারা জীবনের মত আমার আফসোস করতে হবে আহাজারি করতে হবে কান্না করতে হবে এবং আজাব ভোগ করতে হবে।
তাই আসুন আমরা আমাদের এই দুনিয়ার জিন্দেগীতে পাঠানোর উদ্দেশ্য কি উদ্দেশ্য কিভাবে সফল হব সে বিষয়ে আন্তরিকভাবে চিন্তাভাবনা করি এবং সফল হওয়ার জন্য আন্তরিক ভাবে কাজগুলো করি এবং কাজ করার পরে আমি আবার হিসাব করি আসলে আমার কাজগুলো ভুল হচ্ছে না ঠিক হচ্ছে যদি ভুল হয় আবার পুনরায় ঠিকভাবে করার চেষ্টা করি এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ইসলামের আদর্শ গ্রহণ করার পর আমাকে যখন মহান আল্লাহ তায়ালা ডাক দিবেন তখন আমি খুব সুন্দরভাবে চলে যেতে পারবো। আর আমি যদি খুব সুন্দর ভাবে পরপারে চলে যেতে পারি তবে মহান আল্লাহ তায়ালা আমার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে বিধায় তিনি আমার ওপর খুশি হবেন রাজি হবেন আমাকে চির সুখের জিন্দেগী অবদান আবাদান জিন্দেগি,যে জিন্দেগীতে কখনই মৃত্যু হবেনা, যে জিন্দেগীতে খাওয়ার অভাব হবে না যে জিন্দেগীতে নারীর অভাব হবে না যে জিন্দেগীতে বাড়ির অভাব হবে না যে জিন্দেগীতে কোন প্রকার কষ্ট থাকবে না যে জিন্দেগীতে কখনোই বৃদ্ধ হবো না যে জিন্দেগীতে কখনো চুল পাকবে না যে জিন্দেগীতে কখনোই প্রেশানি থাকবে না। জিন্দেগীর নাম পরকালীন জিন্দেগি আর সেই পরকালীন জিন্দেগীর নামটি হল জান্নাত। হে আল্লাহ আমাদের সবাইকে জান্নাত অর্জন করার তৌফিক দান করো আমিন। আজকে এই পর্যন্তই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।


