আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও মহান আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় ভালো আছি সুস্থ আছি। আজকে আমি "দুনিয়ার বড় ভালো নাকি আখিরাতের বড় ভালো" এ বিষয় নিয়ে কিছু আলোচনা পেশ করব এই পোস্টে আপনাদের সকল স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
প্রথমে আমি দুনিয়ার বড় বিষয়টা নিয়ে কিছু কথা বলব। আমরা এই দুনিয়ার মাঝে বসবাস করিতেছি। পৃথিবী শুরু থেকে কেয়ামত পর্যন্ত মহান আল্লাহতালা এই দুনিয়াতে দলে দলে মানুষকে পাঠাইবেন বসবাস করার জন্য। আমরা এই দুনিয়াতে এসে আমরা আখেরাতের কথা একে বলে ভুলে যাই। আখিরাতকে আমরা মনেই রাখি না। আমরা দুনিয়ার বিভিন্ন নাচ নেয়ামত অর্থবিত্ত,শান সৈকত নারী-গাড়ি-বাড়ি ভোগবিলাস মধ্যে পড়ে আমরা দুনিয়ার সম্পদ দুনিয়ার জগতকে আমাদের অন্তরের স্থান দিয়ে ফেলি। প্রথমে আমাদের এই দুনিয়াতে নিজের সৌন্দর্যের গর্ব করি। আসলে আমি নিজের সৌন্দর্য নিজে গর্ব করি এটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত এটা আমরা পরে আলোচনা করব আগে আমরা আমাদের চেহারার যে সৌন্দর্য নিয়ে গর্ব করি অহংকার করি অহমিকা করি সে বিষয় নিয়ে কিছু কথা বলি। এই দুনিয়ার মাঝে যার চেহারা সুন্দর সে তার নিজের চেহারা নিয়ে অত্যন্ত গর্ব করে। আত্ম অহংকার ভোগে, সে বিভিন্ন রকমের দেমাক দেখায়। নিজের সুন্দর চোখে বড় মনে করে নিজের সৌন্দর্যের বড়াই করে বেড়ায়। আর এটা কতদিন বড়াই করে বেড়ায় তাহা সেভাবে না। আমরা যতই সুন্দর হয় যতই স্বাস্থ্যবান হয় যতই শক্তিশালী হয় এটা 40 বছর পর্যন্ত অটুট থাকে। এরপরে ধীরে ধীরে চুলপাকা শুরু করে, চোখের পাওয়ার কমে আসে, কানে কম শোনা, চামড়া কুঁচকে যাওয়া, দাঁতগুলো পড়ে যেতে থাকে, হাতের শক্তি পায়ের শক্তি কমে যায়, স্মরণশক্তিও কমে যায়, এরপর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত করে, কথা তার সবল দেহ সুস্থ দেহ একসময় রোগাক্রান্ত ভগ্নদশা এবং দুর্বল হতে থাকে। এইতো আমাদের সৌন্দর্যের বড়াই শক্তির বড়াই।
এরপর সম্পদের বাড়ায়। আমরা অধিকাংশ মানুষ এই দুনিয়াতে এসে সম্পদ অর্জনের জন্য পাগলপারা হয়ে যায় আমাকে। আমরা এই টাকা উপার্জনের জন্য যেকোনো পন্থা অবলম্বন করি। যেমন যারা রাজনীতি করে তারা এই টাকা উপার্জন করে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে যেমন চেয়ারম্যান মেম্বার তারা জনগণের দেওয়া গম চাল চুরি করে সেগুলো বিক্রি করে অর্থ কামাই করে এছাড়াও জনগণ থেকে বিভিন্নভাবে তারা অর্থ নিয়ে থাকে যে অর্থ নেওয়ার কোন বৈধতা তাদের নেই। এরপর ব্যবসায়ীরা তারা ব্যবসা করে হালাল পন্থায় তারা ব্যবসা করে না হারাম পন্থায় ব্যবসা করে অর্থাৎ খাদ্যে বা মালের ভেজাল দেয় ভেজাল করে তারপর তা বিক্রি করে বেশি দামে এছাড়াও মাপে কম দেয়। দ্রব্য কিনে স্টক করে রেখে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি করে থাকে। আজকাল অধিকাংশ ব্যবসায়ী হালাল পন্থায় নেই তারা হারাম পন্থায় ব্যবসা করে যাইতেছে। এরপর চাকরিজীবীর কথা যদি বলি তারা এই চাকরি ক্ষেত্রে ঘুষের বাণিজ্য করে থাকে ঘুষ নিয়ে থাকে অথচ সেই কাজ তার করে দেওয়া দায়িত্ব এবং কর্তব্য। কিন্তু তারা সেই কাজের বিনিময়ে অনেক টাকা তাদের থেকে ব্ল্যাকমেইল করে নিয়ে থাকে। তারা একটু ভাবেনা এই অর্থ নেওয়া বৈধ হলো না অবৈধ হইল। এছাড়াও এমপি মন্ত্রীরা কিভাবে সরকারি অর্থ লুট করে তারা অর্থের পাহাড় জুমাইতেছে তা আমরা চোখের সামনে অনেক লক্ষ্য করতে পারি। তারা ভাবে না এই অর্থ অবৈধ না অবৈধ।
আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে,আমাদের পরিবারে, আমাদের সমাজে আমাদের গোষ্ঠী আমাদের রাষ্ট্রে সারা বিশ্বে যেদিকেই তাকায় না কেন যেদিকে খোঁজ নেওয়া হয় না কেন প্রত্যেকটি মানুষ অর্থের পিছনে হন্য হয়ে ঘুরছে, অধিকাংশ মানুষের একটাই লক্ষ্য অর্থ রোজগার করতে হবে সম্পদশালী হতে হবে ধনী হতে হবে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হতে হবে। আর এ সমস্ত হওয়ার জন্য যেই পন্তাই হোক না কেন অথবা উপার্জন করতে হবে এটাই হল তাদের কাছে বড় কথা তারা একটু ভেবে দেখেনা যে আমি কোন পন্থায় অর্থ উপার্জন করছি আর কোন পন্থায় খরচ করছে। অথচ মহান আল্লাহ তা'আলা নিজেই বলে দিয়েছেন মানুষ অর্থ কোথায় থেকে কামাই করে আর কোথায় খরচ করেছে এই ব্যাপারে শেষ জিজ্ঞাসিত হবে। এমনও কথা রয়েছে যে কেউ যদি একটা জামা কেনে 500 টাকা দিয়ে আর এই ৫০০ টাকার মধ্যে যদি এক টাকা অবৈধ হয় তবে সে যে জামা কিনলো সেই জামা দিয়ে সে নামাজ পড়লে অর্থাৎ ইবাদত করলে তা কবুল হবে না বা কবুল বলে গণ্য হবে না। অর্থাৎ আমি যে অর্থ রোজগার করিতেছি এই দিয়ে যে সন্তান মানুষ হবে তারা হারাম পয়সায় রক্ত উৎপাদিত হয় হারাম পয়সায় মানুষ হয়। তাই তারাও বড় হয়ে হারাম পাশে উপার্জনের জন্য একই প্রান্ত অবলম্বন করে তারা ভালোর দিকে কখনোই আসতে পারে না মন্দ মন্দির থেকে যায়।একটি নর্দমার মধ্যে যদি কোন জামা কাপড় পড়ে আর সেটা যদি ওই নর্দমার পানিতে ধোয়ার চেষ্টা করা হয় অর্থাৎ পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হয় তা কখনোই পরিষ্কার হবে না সারাদিন চেষ্টা ব্যর্থতাই পর্যবসিত হবে।
এরপর আমাদেরকে বড় বড় বাড়ি অটিলিকা নির্মাণ করতে হবে। এই বিশাল অট্টলিকা তৈরি করার জন্য সে অর্থের যোগান খোঁজে উৎসব খোঁজে বিভিন্ন ব্যাংক হতে লোন নিয়ে থাকে। সে লোনের টাকা দিয়ে সে বাড়ি করে অর্থাৎ এই টাকা সুদ দিতে হয় অর্থাৎ সে সুদের মধ্যে ঢুকে গেল। এর জন্য দায়ী সে নিজেই হবে অথচ সেই বাড়িতে সে বেশিদিন বসবাস করতে পারবে না। একদিন তাকে মরনের স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে এই বাড়ি রেখে তাকে কবরে ঢুকতেই হবে। অথচ সে এই বাড়ি করার জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে হারাম পন্থায় অর্থ উপার্জন করে বাড়ি তৈরি করল অন্যের ভোগবিলাসের জন্য অথচ সে মৃত্যুর পরে একাই দায়ী হবে একাই জব দিহিতা করতে হবে। যদি একাই জবাব দিহিতা করতে হয় অর্থাৎ একাই পাপ হয় তাহলে অন্যের জন্য নিজের জিন্দেগি নষ্ট করা কি একজন বুদ্ধিমানের কাজ না বুদ্ধিহীন ব্যক্তিদের কাজ।
এরপর হলেও পদ পদবীর লোভ লালসা। আমরা এই দুনিয়াতে অনেক মানুষকে দেখি অনেক মানুষের সাথে চলি। দেখা যায় যে বেশিরভাগ মানুষ পদ পদবীর লাভের জন্য হন্য হয়ে ঘরে। কেউ প্রিন্সিপাল হওয়ার জন্য চেষ্টা করে কেউ হেডমাস্টার হওয়ার জন্য চেষ্টা করে কেউ পুলিশ অফিসার হওয়ার জন্য চেষ্টা করে। কেউ গ্রামের মুরুব্বি হওয়ার জন্য চেষ্টা করে কেউ নেতা হওয়ার জন্য চেষ্টা করে কেউ চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য চেষ্টা করে কেউ মেয়র হওয়ার জন্য চেষ্টা করে কেউ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য চেষ্টা করে কেউ মন্ত্রী হওয়ার জন্য চেষ্টা করে কেউ রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য চেষ্টা করে। অথচ এই পথ পদবী গুলো লাভের পর তাকে হারাম পন্থায় সে কাজগুলো সমাধান করতে হয়। তারা হালাল ভাবে এ কাজগুলো সমাধা করেও না করার চেষ্টাও করে না। যে পথ পদবি আমার দুঃখের কারণ হবে আমার ক্ষতির কারণ হবে আমার পাপের কারণ হবে আমার জিন্দেগী ধ্বংস হবে হাশরের ময়দানে মহান আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে সেই পদবী সেই পথ পদবী দিয়ে আমি কি করতে পারি। অথচ আমরা সেই পথ পদবীর জন্য বা লাভ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকি। অথচ অহংকার দেখানোর একমাত্র অধিকার মহান আল্লাহ তাআলার আর কোন ব্যক্তি অহংকার দেখাতে পারবে না।
এরপর নারীর লোক যা ক্ষণস্থায়ী এই জিন্দেগির লোভ। আমরা দুনিয়াতে যে জিনিসের কথাই বলি না কেন যে জিনিসের কথায় আলোচনা করি না কেন যে জিনিস লাভ করার চেষ্টা করি না কেন সমস্ত কিছুই ক্ষণস্থায়ী একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে।
আমরা আখেরাতের জিন্দেগীর জন্য চেষ্টা করি না। মনে রাখিনা লাভ করার চেষ্টাও করি না। অথচ আখিরাতের নারী-গাড়ি বাড়ি সবকিছু স্থায়ী চিরস্থায়ী যা কখনোই ধ্বংস হবে না সেখানে আমার জীবন ও চিরঞ্জীব সেখানে কখনো আর মৃত্যু হবে না অথচ আমরা সেই জিন্দেগি উত্তম সুন্দর সুখময় শান্তিময় হওয়ার পরেও সেই জিন্দেগিকে ভুলে গিয়ে আমরা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জিন্দেগী নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ি কেন। কারণ আমি তো বুঝিনা আমাদের বুঝ আসেনা। অথচ এই না বোঝার কারণ তার একদিন দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে সেই দিন আফসোস করে কোন লাভ হবে না ।
তাই যতক্ষণ জীবন আছে যতক্ষণ নিঃশ্বাস আছে যতক্ষণ এই পৃথিবীতে শক্তি সামর্থ্য আছে ততক্ষণ আমরা উত্তম জিন্দেগি আখেরাতের জন্য দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জিন্দেগীকে কাজে লাগায়। আখেরাতে জিন্দেগি সুখ-শান্তি সমৃদ্ধি লাভ করার জন্য দুনিয়ার জিন্দেগীতে মহান আল্লাহতালার হুকুম প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালামের আদর্শ গ্রহণ করে সেইভাবে আমল করে যায় তবেই আমরা আখেরাতের মুক্তি আখেরাতের শান্তি আখেরাতের সমৃদ্ধি পাবো ইনশাল্লাহ। আজকের মত এখানে শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।


