বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আমি আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ভালো আছি আপনারা কেমন আছেন জানিনা তবে আশা করি আল্লাহর দোয়ায় ভালো আছি ভালো থাকেন এই কামনায় আজকের শুরু করছি। এই পোস্টে আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
আমাদের জীবনের নৈতিকতা
আমরা মানুষ, আমরা মানবীয় গুন থাকা প্রয়োজন। আর এই মানিব্যাগ গুনগুলো প্রত্যেকটি মানুষের অর্জন করা দরকার। কারণ মানুষের যে গুণগুলো থাকা দরকার সেই গুণগুলো যদি আমরা অর্জন করতে না পারি তবে আমরা মানুষ বলে কলঙ্ক বলে বিবেচিত হব। তাই আমাদের ছোট থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত মানুষের মানবে কি কি গুণ থাকা প্রয়োজন তা ভালোভাবে জানা বোঝা এবং নিজের জীবনে গুণগুলো অর্জন করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যা একটা মানুষের সফল অভিযান এবং সফল কাজ হবে।
আমরা পৃথিবীর বুকে প্রায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার ধর্মা অবলম্বী লোক রয়েছি। এবং কত হাজার-হাজার যে গোষ্ঠী রয়েছি তা সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হবে না। এর মধ্যে আফ্রিকা অঞ্চলে কিছু মানুষ জঙ্গলে বসবাস করে তারা সভ্যতার ছোঁয়া পর্যন্ত এখনো পায় নাই। আর তারা ভবিষ্যতে পাবে কিনা তাও সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। তারা আমাদের এই সভ্য মানুষকে দেখলে অত্যন্ত অবাক দৃষ্টিতে তাকায় থাকে। ওরা মনে করে আসলে এরা কারা আর আমরা মনে করি এরা আসলে আধুনিক সভ্যতা ছোঁয়া পর্যন্ত এখনো পায় নাই।
আসলে আমরা যখন মানিব্যাগ গুণসমূহ অর্জন করতে পারব তখন আমরা প্রকৃত মানুষ হিসেবে সমাজে রাষ্ট্রে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারব। এই মানবীয় কি কি গুন ণ রয়েছে তা প্রথমে আমরা জেনে নেই।
মানবীয় গুণ সমূহ: আমাদের জীবনের চারটি মৌলিক গুণাবলী যদি থাকে তাহলে আমরা একজন আদর্শ মানুষ হতে পারব।
১। জ্ঞান ও প্রজ্ঞা
২। বীরত্ব ও সাহসিকতা
৩। ন্যায় ও ইনসাফ।
৪। পবিত্রতা ও নিষ্কলুষতা
১। জ্ঞান ও প্রজ্ঞা-আমাদের একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার মূল যে চাবিকাঠি দরকার তাহলে আমাদের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আর এই জ্ঞান দুই প্রকার ইতিবাচক জ্ঞান এবং নেতিবাচক জ্ঞান। এই দুই প্রকার জ্ঞানী আমাদেরকে অর্জন করতে হবে আর বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হবে ইতিবাচক গানগুলো এবং নীতি বাচক জ্ঞানগুলো হতে আমাদেরকে বেঁচে থাকতে হবে কিন্তু এই জ্ঞানগুলো জানা প্রয়োজন। জ্ঞান না থাকলে মানুষকে অজ্ঞ বলা হয় অর্থাৎ মূর্খ বলা হয়। আর যদি একজন মানুষের জ্ঞানের পরিপূর্ণ থাকে তাহলে সে মানুষটিকে আমরা শিক্ষিত ভদ্র এবং সভ্য মানুষ বলে থাকি। জ্ঞান মানুষকে সব্ব করে তোলে এবং সমস্ত অসভ্যতা বর্বরতা হিংস্রতা থেকে মানুষকে ফিরায়। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি মূর্খ মানুষ গুলো থেকে অনেক উত্তম। আর এই গান আমাদেরকে প্রতিনিয়ত অর্জন করতে হয় অর্থাৎ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন করতে হয়। আমরা ছোটকালের প্রভাতে শুনেছি তোমরা জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজন হলে শুধু চীনের পর্যন্ত চলে যাও। জ্ঞান অর্জনের বিকল্প কিছু নেই। জ্ঞান মানুষকে নম্রতা শেখায়, ভদ্রতা শিখায়, সত্যবাদিতা শিখায়, অনুভবতা শিখায়, দয়া শিখায়, মায়া শিখায়। অর্থাৎ জ্ঞানের বলে বলিয়ান ব্যক্তি কোন ক্ষেত্রেই তার ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। যখন যেখানে যে ব্যবহার যে আচরণ যে কাজ করা দরকার তখন সে জ্ঞানের আলোকে সেগুলো পড়তে সক্ষম হয়। প্রজ্ঞাও জ্ঞানের মতই যা জ্ঞান গুলোকে সঠিকভাবে সঠিক জায়গায় সঠিক সময় প্রয়োগ করতে শেখায়। কোন একটা পরিস্থিতিতে কি কি অবস্থায় কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত তা মানুষ প্রজ্ঞা থেকেই তা প্রয়োগ করতে পারে।
২। বীরত্ব ও সাহসিকতা -আমরা একজন ভালো মানুষ এবং যোগ্য মানুষ হতে হলে তার বিরক্ত থাকতে হবে সর্বক্ষেত্রেই সঠিক জ্ঞান যখনই থাকবে তখন সে সেই জায়গায় সঠিক পদক্ষেপ মানে বৃহত্তর সহিত নিতে পারবে। কাপুরুষতা একটা ভালো মানুষের বা মানবিক গুণ হতে পারে না। বিরক্ত হলেও একজন ভালো মানুষের গুণ এবং বৈশিষ্ট্য। বীরত্ব থাকলে প্রত্যেকটি জীবনে প্রত্যেকটি সময়ে প্রত্যেকটি পদক্ষেপ তার সফলতার সহিত করতে পারে। বীরত্ব মানুষকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দেয়। বিরক্ত না থাকলে মানুষ সফলতা অর্জন করতে পারে না। তাই আমরা বিরক্তকে ভালোভাবে জানি বুঝি এবং নিজের জীবনে বিরক্ত গুনটি অর্জন করার চেষ্টা করি। সাহসিকতা যখন বিলুপ্ত ভিতরে স্থান পাবে অর্জন হবে তখন সাহসিকতা অর্থাৎ সেটা করতে আমরা কোন প্রকারদের দিধাবোধ করব না। সাহস থাকলে যেকোনো সৎ কাজ অনায়াসে করা সম্ভব হয়। আমরা সমাজে বাস করি সমাজে অনেক ধরনের মানুষই বসবাস করে আর এই সমাজে সত্য সঠিক কথা বলা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না যারা বিরুদ্ধে এবং সহযোগিতা গুন অর্জন করেছে তারা সাধারণত এই সত্য কথাগুলো সমাজের বুকে সবার সামনে বলতে পারে। আমাদের সমাজ আমাদের পরিবার আমাদের আজকে এই বীরত্ব এবং সাহসিকতা মানুষের বড় অভাব। কেউ সত্য কথা সত্য বিচার স্বার্থপর কখনোই বলতে চায় না। তাই আসুন আমরা এই বিরক্ত এবং সহযোগিতা গ্রন্থি অর্জন করার জন্য চেষ্টা করি এবং বিরত এবং সাহসিকতা কি বুঝি।
৩। ন্যায় ও ইনসাফ-আমরা যখন জ্ঞান প্রজ্ঞা এবং বীরত্ব ও সাহসীতা গুণ অর্জন করতে পারব তখন আমরা সমাজে পরিবারে রাসকে পৃথিবীতে ন্যায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারব। আমাদের পরিবারে আমাদের সমাজে আমাদের রাষ্ট্রে আমাদের পৃথিবীতে এখন চলছে অন্যায় অবিচার বেইনসাফ ইত্যাদি। এই পৃথিবীতে নেই ও ইনসা ফ এখন নেই বললেই চলে। কারণ অনেক উদাহরণ এই পৃথিবীর বুকে রয়েছে যেমন একটি উদাহরণ হল ফিলিস্তিনি জনগণ ইহুদি জনগণকে তাদের আবাসস্থল দিয়েছিল এবং তাদের আশ্রয় দান করেছিল। তাদের ভাই বলে সম্বোধন করেছিল। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে এই ইসরাইল ইহুদী জনগোষ্ঠীকে তাদের বাবুটার জমি এবং তাদের নিজস্ব জমি তাদের বাড়িঘর দখল করে নিচ্ছে এবং তাদেরকে বাস্তব ভিটা ছাড়া করছে রাষ্ট্র ছাড়া করছে এবং অন্যায় অবিচার করছে তাদেরকে হত্যা করছে তাদেরকে গুম করছে তাদেরকে ধর্ষণ করছে। তারপরে ইরাক কে কোন প্রকার প্রমাণ ছাড়া কোন প্রকার উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়াই তাদেরকে দেশটা তছনছ করে দিয়েছে কত মা বোনের ইজ্জত লন্ঠন করেছে কত সম্পদ নষ্ট করেছে কত তেল চুরি করেছে তা বলাই বাহুল্য পৃথিবীর সমস্ত মানুষই তা দেখেছে এবং বুঝেছে। এছাড়াও আফগানিস্তানকে একটা ইসলামিক রাষ্ট্রকে তছনছ করে দিয়েছে তবে আসার বাণী হলো বর্তমানে এই আফগানিস্তান আবার মুসলিমরাই শাসন করছে তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তালেবান কে প্রথমে জঙ্গি গোষ্ঠী হিসেবে সারা বিশ্বে কালো তালিকা ভুক্ত করা হয়েছিল। আজ তাদেরকে সারা বিশ্ব আর জঙ্গি বলে না তাদেরকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে তারা এখন দেশপ্রেমিক আফগানিস্তানের কন্যাধার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এভাবে পৃথিবীর সমস্ত দেশে সমস্ত জায়গায় অন্যায় অবিচার চলছে অথচ এর প্রতিকার নেই। আমরা মানুষ আমরা যদি নঈম সাফ গুনটা অর্জন করতে পারি তাহলে পৃথিবীর বুকে অন্যায় অবিচার হয়তো একদিন থাকবে না নেয় এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে।
৪।পবিত্রতা ও নিষ্কলুষতা-আমরা যখন ন্যায় প্রজ্ঞা বীরত্ব সাহসিকতা ন্যায় ইনসাফ এই গুণগুলো অর্জন করতে পারব তখন আমরা পবিত্রতা নিষ্কলঙ্কশিতা অর্জন করার পথে অবসর হতে পারে। পবিত্রতা বলতে একটা মানুষের ধর্ম দিকটাই বুঝায়। ধর্ম ছাড়া একটা মানুষ কখনোই পবিত্র হতে পারে না। আর মহান আল্লাহ তাআলার একমাত্র মনোনীত ধর্ম হলো ইসলাম একমাত্র শান্তির ধর্ম ইসলাম একমাত্র মুক্তির পথ ইসলাম একমাত্র সভ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ধর্ম হল ইসলাম। আর ইসলাম যে এক নাম্বার মুক্তি ধর্ম সত্য ধর্ম এবং শান্তির ধর্ম নেই ইনসাবের ধর্ম জ্ঞান প্রজ্ঞার ধর্ম তা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ তার জীবন দিয়ে আদর্শ রেখে গেছেন এই পৃথিবীর বুকে। পৃথিবীর বুকে এক খ্রিস্টান ব্যক্তি একটা বই লিখেছে "দ্য হান্ড্রেড"সে বইতেও আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সবার উপরে অর্থাৎ এক নাম্বারে রেখেছেন। কারণ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সলুল আলাহিস সালামের মত আদর্শবান ব্যক্তি সম্মানিত ব্যক্তি ন্যায় নীতিবান ব্যক্তি মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তি পৃথিবীর আগে কোনদিন আগমন করেও নাই বর্তমানে নেই এবং ভবিষ্যতে আর আসবেনা অর্থাৎ পাওয়া যাবে না। আসুন আমরা এই নবীর আদর্শ গ্রহণ করি এই নবীর পদাঙ্ক অনুসরণ করি এই নবীর জীবন বিধানকে নিজের জীবন বিধান হিসেবে আঁকড়ে ধরি তবে আমরা প্রকৃত ন্যায়নিষ্ঠবান মানুষের পরিণত হতে পারব। আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।


