বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আপনারা সবাই কেমন আছেন আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল আছি।
আজকে আমি পর্দা নিয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করব ইনশাল্লাহ।
পর্দা মানে হল যে কাজ করিলে আমাদের পাপ হয় অর্থাৎ আমাদের যা দেখলে পাপ হয় এবং আমাদের শরীরের যে অংশ দেখাইলে পাপ হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকার নামই হলো পর্দা। পর্দা পুরুষ এবং মহিলার দুই ধরনের। প্রথমে মহান আল্লাহতালা তার কোরআনুল কারীমে পুরুষ মানুষের পর্দার কথা বলেছেন।
মহান আল্লাহ তা'আলা তাঁর পবিত্র গ্রন্থ কুরানুল কারিমের মাধ্যমে আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন যে পুরুষের পর্দার সম্পর্কে। এছাড়াও আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়েছেন যে এই পর্দা সম্পর্কে। মহান আল্লাহ তা'আলা বলেছেন যখন তোমার সামনে কোন হারাম বস্তু করে যায় তখন তোমরা দৃষ্টি অবনত কর। এ ব্যাপারে হযরত মুহাম্মদ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যখন কোন হারাম জিনিস তোমার দৃষ্টিতে পড়ে যায় তখন তাড়াতাড়ি দৃষ্টি ফেরাও এতে যদি না ফেরাইতে পারো তাহলে তুমি মনে মনে ভাবতে থাকো যে হাশরের ময়দানে হারাম জিনিস দেখার কারণে মহান আল্লাহতালা আমাদের চক্ষুর ভিতরে গরম তরল সীসা ঢেলে দেওয়া হবে। এমন কথা মনে হলেই আমরা দৃষ্টি ফিরাইতে পারব অতি সহজে আর এইভাবে যদি আমরা প্র্যাকটিস করতে থাকি তাহলে আমরা আর হারাম জিনিস দেখা থেকে একেবারে বিরত থাকতে পারবো।
এরপর আমাদের পরিবারের অধীনস্থ মহিলাদের পর্দার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। কারণ একজন মহিলা চারজন জান্নাতি পুরুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। চারজন পুরুষ হলো বাবা, বড় ভাই, বড় ছেলে, এবং স্বামী। কি কারনে নিয়ে যাবে সেই কারণ হলো মূলত বেপর্দা হয়ে চলা। মেয়েদের সতর হলো মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখা। কোন পরিবারের কোন মেয়ে মানুষ যদি মাথা থেকে পা পর্যন্ত না ঢেকে বাহিরে বের হয় অর্থাৎ চুল বের করে হাত মুখ বের করে যদি চলাফেরা করতে থাকে বাজারে হাটে ঘাটে যদি যায় তাহলে সে বেপর্দা হয়ে চলা হয় আর এই ব্যাপারে যদি তার পরিবারের কোন পুরুষ তাকে বাধা না দেয় তাহলে তারা কাল হাশরের ময়দানে বিচারের মুখোমুখি হবে এবং ওই বেপর্দা মহিলার সাথে তাহারা জাহান্নামে হবে।
তাই আসুন আমরা আমাদের পরিবারের মহিলাদের জন্য পর্দার ব্যবস্থা করে দেই এবং তাদেরকে আদেশ-নিষেধ করি তারা যেন বেপর্দা হয়ে বাইরে ঘোরাফেরা না করে।
আমরাও জাহান্নাম হতে বাসি এবং আমাদের পরিবারকে জাহান্নামের হাত হতে বাচায় এবং আমরা নিরাপদ থাকি মহান আল্লাহতালা সন্তুষ্টি অর্জন করি এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালামের আদর্শ অনুসরণ করি তাহলে আমাদের পরকালের জিন্দেগি সুখ ও শান্তি সমৃদ্ধময় হবে। এই আশা ব্যক্ত করে এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ।



