গ্রাম এবং শহরের জন জীবন মায়া মমতা।

alim236
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।

প্রিয় সাথী বৃন্দ, আমি আজকে গ্রাম শহর এর মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ভালোবাসা মায়া মমতা তুলে ধরার চেষ্টা করব। এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।


প্রথমে আমি শহর এবং গ্রামের কিছু পার্থক্য আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। শহরে যারা বাস করে তাহাদের টেস্টি কালচার সংস্কৃতি চলাফেরা অভ্যাস সবকিছুই গ্রাম হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন। শহরের যান্ত্রিক জীবন সকালে শুরু হয় কর্মব্যস্ততা রাত বারোটা পর্যন্ত চলে তাদের এই কর্মব্যস্ততা। শহরে মানুষের মধ্যে মায়া মমতা ভালবাসা স্নেহ গ্রামের তুলনায় অনেক অনেক কম। শহরের প্রত্যেকটি মানুষ যেন তাদের কর্মব্যস্ততা নিয়ে দৌড় শুরু করে সকালে। তারা সারাদিন পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করে কেউ বসে থাকে না এক পরিবারের যদি পাঁচ জন থাকে পাঁচজনে টাকা উপার্জনের জন্য চাকরি খোঁজে বা চাকরি করে বা ব্যবসা করে।
শহরের পারিবারিক পরিবেশ অনেক উন্নত তারা নিয়মিত ঘুম থেকে উঠে নিয়মিত খাবার খায়। এবং খাবারের কোন ব্যতিক্রম তারা করে না। এছাড়াও শহরের মানুষের কথা বলার ধরন স্টাইল অনেক উন্নত। তারা নিজেকে প্রকাশ করতে খুব ভালোবাসে তারা সাধারণত সাধু ভাষায় কথা বলে থাকে। যদিও সাধু ভাষায় কথা বলে না অনেকে তবুও তাদের ভাষার মধ্যে একটা মাধুর্য থাকে একটা সভ্যতার ভাব থাকে। শহরে শিশুরা পর্যন্ত অনেক চালাক চতুর হয়ে থাকে। তারা বিভিন্ন প্রকার মানুষের সাথে মেশার সুযোগ পেয়ে থাকে। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তারা পড়লে সামলে ওঠে। তাদের যেন সব পরিবেশ সব মানুষের চলাফেরা ইত্যাদি তারা আয়ত্ত করে ফেলে। তাইতো তারা অনেক চালাক চতুর এবং ছটফটে হয়ে থাকে। শহর মানুষ সভ্যতা শেখায় সবতর উন্নয়ন ঘটাতে তারা প্রধান ভূমিকা পালন করে। শহরে একটা মানুষ আচরণগতভাবে খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যায় তার কথাবার্তা ধরন তার চালচলন তার ওঠাবসা কারখানা পিনা তার আয়োজগার মানুষের সাথে মেলামেশা ইত্যাদি যেন অনেক উন্নত হয়ে যায়।

শহরে মানুষের যতই উন্নয়ন যতই গুণ যতই সভ্যতার বাহক হিসেবে কাজ করুক না কেন শহরে মানুষের মধ্যে অনেক বদ গুনো রয়েছে। সবচেয়ে বড় বদ গুণ হলো তারা পরস্পর পরস্পরের প্রতি সহমর্মী হয় না। একজন বিপদে পড়ছে আর একজন পাশ কেটে চলে যাবে সে ব্যাপারে কিছুই বলবে না। এক ফ্লাটের লোক তার দরজা পাশে আর একটা ফ্লাটের লোকের সাথে কোন প্রকার পরিচয় থাকে না। শহরের মানুষের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন অনেক কম নেই বললেই চলে। এরকম অনেক ঘটনা শুনেছি যে একই ফ্ল্যাটে বসবাস করে দরজার পাশে দরজা সকাল বিকাল দেখা হয় কিন্তু তাদের কোন কথা হয় না তাদের কোন পরিচয় হয় না। কথা বলার চেষ্টা তারা করে না পরিচয় ও তারা কখনোই নেওয়ার চেষ্টা করে না।

এছাড়া শহরের আরেকটা বিষয় লক্ষ্যনীয় যে বর্তমান আমরা দেখিতেছি যে শহরে কোন ব্যক্তি যদি বিপদে পড়ে তাহলে পাশের লোক সেই বিপদ দেখে ঘা নিচু করে চলে যায় কিছুই বলে না। যেমন কাউকে ছিনতাইকারী ধরলে পাশে দিয়ে চলে যাচ্ছে অথচ তাকে ধরার কোন বা কিছুই বলার মত অবকাশ তারা রাখেনা অর্থাৎ কিছুই বলে না। এছাড়া শহরে আরো অনেক আচরণ লক্ষণীয় যার মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন ভালোবাসা বা সহমর্মিতা কোন প্রকার লেশমাত্র দেখা যায় না। আমি সবার কথাই বলছি না কিছু কিছু হয়তোবা আছে ভালো কিন্তু অধিকাংশ মানুষই ভালোবাসা হীন সহমর্মিতাহীন।

এই শহরের পাশাপাশি আমরা গ্রামের মানুষকে নিয়ে যদি কথা বলি গ্রামের মানুষের যদি সংস্কৃতি পরিবার গোষ্ঠী ইত্যাদি নিয়ে যদি কথা বলি তাহলে বিষয়টা আসলে বোঝা যায় যে শহর হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন আলাদা।

গ্রামের মানুষের মাঝে ভালোবাসার পরিপূর্ণ চেন মমতা সহমর্মিতা এ যেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে মানুষ মানুষের সাথে কথা বলে যদিও সঠিকভাবে কথা বলে না অর্থাৎ গ্রাম্য ভাষায় আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে তাদের ভাষার মধ্যে অভিযুক্ত না থাকলেও ভালোবাসাই পরিপূর্ণ থাকে, মায়া মমতায় পরিপূর্ণ থাকে, সহমমিতাই পরিপূর্ণ থাকে। গ্রামের মানুষ অত্যন্ত সহজ সরল হয়ে থাকে। তারা শহরের মতো এত চঞ্চল হয় না যান্ত্রিক হয় না। এখানে এক গ্রামের মানুষ অন্য গ্রামের মানুষের কাছে অত্যন্ত ভালোবাসার পাত্র তাদের বাজারে হাটে দেখা হলে তারা অত্যন্ত সহমর্মে তা জানায় এবং ভাবের আদান প্রদান করে থাকে। তারা যেন ভাই ভাই হিসেবে অবস্থান করে। এছাড়াও আমাদের প্রতিবেশী দের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন অনেক সুদৃঢ় হয়। প্রতিবেশী বিপদে সভায় এগিয়ে আসে এবং যেকোনো বিপদে তারা প্রাণপণ চেষ্টা করে তার বিপদ হতে উদ্ধার করার জন্য। তারা যেন দুটি মনের একই দেহ দুটি পরিবার একই দেহ একটা পরিবার কষ্ট করলে অন্য পরিবার সাহায্যের হাত বাড়ায়।

গ্রামে যদিও চোর ডাকাত খুবই কমই হয় তবে যদি সচরাচর কোন বাড়িতে ডাকাত হয় তাহলে গ্রামের সমস্ত মানুষ সেটাকে প্রতিহত করে। এবং ডাকাতের উদ্রব হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য গ্রামের যুবকেরা রাত্রি ভরা পাহারা দিয়ে থাকে। এই পাহারা পরিমাণ বর্ষাকালে বেশি হয় কারণ বর্ষার সময় নদীর কেনার দেশ যে সমস্ত গ্রাম থাকে তারা সবসময় ভয় থাকে অর্থাৎ ডাকাতে পড়তে পারে। আমাদের গ্রামের ঐতিহ্য কম নয় তবে শহরের থেকে ভিন্ন। গ্রামের সুদূর মেঠো দ সবুজ শ্যামলে ভরা থাকা মাঠ পাখির গুঞ্জন নদীর কলতনে, কৃষকের মাঠে কাজ করা, সুন্দর সুন্দর ফসল ফলানো। অর্থাৎ বাংলাদেশের গ্রামের দৃশ্য নিয়ে গ্রামের আচরণ কথা নিয়ে অনেক কবি কবিতা লিখেছেন অনেক লেখক এর অপরুপ সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন গ্রাম বাংলার দৃশ্য যে কেউ দেখলেই গ্রাম বাংলার দেশে প্রেমে পড়ে যাবে। গ্রামের রাস্তাগুলো অনেক সুন্দর দুই দিকে সবুজ শ্যামলে ভরা আঁকাবাঁকা পথ।

আমাদের বাড়িটা গ্রামে ই নদীর কিনারে অবস্থিত। হিসাব করলে 300 গজ দূরে যমুনা নদী অবস্থিত। এখানে দৃশ্য অনেক মনোরম এবং মনোজ্ঞ। এখানে অনেক মানুষ এই দৃশ্য দেখার জন্য সকাল এবং বিকালে ছুটে আসে। আমি যে পথ দিয়ে চলাফেরা করি সেই পথের কিছু সকালবেলা দৃশ্য এবং ছবি আমার মুঠ ফোনে ধারণ করেছি যা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। এই পথ দিয়ে আমরা যাই এই পথ দিয়ে আমরা আসি এই পথ দিয়ে আমরা চলাফেরা করি।

আমি প্রতিদিন সকালে মেয়েদের মাদ্রাসায় নিয়ে যাই ভোর ছয়টার আগে। এবং আবার দুপুরে কলেজ শেষে তাদেরকে দুপুর দুইটাই আবার নিয়ে আসি বাড়িতে। আমি আমার সন্তানদেরকে মানুষের মতো মানুষ করার জন্য মহিলা মাদ্রাসায় ভর্তি করেছে। তারা নিয়মিত পড়াশোনা করিতেছে এবং অনেক ভালো পড়াশোনা করিতেছে। তারা ইসলাম শিক্ষায় দীক্ষিত হচ্ছে। ইসলাম সম্পর্কে জানছে ইসলাম সম্পর্কে বুঝছে। কোরআন পড়িতেছে কোরআন পড়া শিখতেছে হাদিস পড়িতেছে হাদিস বুঝতেছে। যখন কোন ব্যক্তি কোরআন পড়বে হাদিস পড়বে ইসলাম সম্পর্কে জানবে ইসলামের আহকাম সম্পর্কে জানবে তবে তার পক্ষে এই সত্য ধর্ম ইসলাম মানা আক্রান্ত সহজ হয়ে যাবে।

তাইতো আমার ছেলেটাকেও মাদ্রাসায় ভর্তি করেছি ওরা যেন মানুষের মধ্যে মানুষ হয়। ওরা যখন মানুষের মত মানুষ হবে ওরা যখন ইসলাম বুঝবে ইসলামের অনুশাসন মতে চলবে। এবং ওদের মত আরও যারা ইসলাম বোঝে ইসলাম জানে ইসলাম এর আহকাম সম্পর্কে জানে এবং এরকম প্রতিটি পরিবার যদি ইসলাম সম্পর্কে জানে ইসলাম যদি বোঝে কোরআন পড়ে হাদিস পড়ে এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর আদর্শ মতে চলে তাহলে আমাদের সমাজে কখনোই অমানুষ সৃষ্টি হবে না কখনোই হানাহানি হবে না কখনোই মারামারি হবে না কখনোই ছিনতাই হবে না। কখনোই চুরি ডাকাতি হবে না। আমাদের সমাজে কখনোই ধর্ষণ হবে না আমাদের সমাজে কখনোই অপরাধ বলতে কিছুই থাকবে না যদি আমরা এবং আমাদের সন্তানকে ইসলামের দীক্ষায় দীক্ষিত করি।

এখন পত্রিকা খুললেই দেখা যায় অমুক জায়গায় নারী ধর্ষিত হয়েছে অমুক জায়গায় চুরি হয়েছে অমুক জায়গায় ডাকাতি হয়েছে অমক দোকানে শীদ কেটেছে। অমক জায়গায় ছিনতাইকারী কবলে পড়েছে মলম পার্টির কবলে সর্বস্ব হারিয়েছে । অমুক জায়গায় খুন হয়েছে। অমুক পরিবারের স্বামী স্ত্রী কে হত্যা করেছে। এরকম হাজারো লক্ষ্য অপরাধের কথা আমরা প্রতিদিন এই ডিজিটাল যুগে তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারি শুনতে পারি।

এই অপরাধগুলো কেন হয় কি কারনে হয় তা আমাদের সবারই জানা উচিত এবং এর প্রতিকারের জন্য সবারই এগিয়ে আসা উচিত। এ ব্যাপারে শহর আর গ্রাম সভা কেই সমানভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে তাহলে আমাদের সমাজে আমাদের দেশে আমাদের পরিবারে আমাদের গোষ্ঠীতে এ ধরনের অপরাধ কখনোই হবে না।

তাই আসুন আমরা ধর্মের আদর্শকে লালন করি এবং ধর্মে আদর্শমতে চলি। তাহলে আমরা এমন একটা অপরাধমুক্ত সমাজ একটা অপরাধমুক্ত দেশ একটা অপরাধমুক্ত রাজ্য দেখতে পাবো। আজকের মত এখানে শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।

Comments