টিকা আবিষ্কারের কাহিনী!!!

alim236

            টিকা আবিষ্কারের কাহিনী

 

                       ‌‌প্রথম অংশ

 

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।

প্রিয় সাথী বিন্দু আজকে আমি টিকা আবিষ্কার এর ইতিহাস তুলে ধরব এই পোস্টে। অতএব এই পোস্টে আপনাদের সকলকে স্বাগতম।

টিকা আবিষ্কারের কাহিনী বলতে শুরু করলেই প্রথমেই আমাদের বলতে হয় জীবাণুর কথা। আলোচনা করা হয় জীবাণু তত্ত্বে। তাই রোগসৃষ্টির কারণ হিসেবে জীবাণুর জীবাণুতত্ত্ব সম্পর্কে আমাদের আলোচনা করা অতীব জরুরী। জীবাণুতত্ত্বের প্রকাশ ঘটেছে অল্প কিছুদিন আগে। বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরের সময়কাল থেকে মানুষ জীবাণুর মাধ্যমে প্রাণী থেকে প্রাণীতে রোগ সঞ্চারণের বিষয়টি বুঝতে শেখা শুরু হয়েছে। প্রায় মধ্যযুগ থেকেই মানুষের মনে একটা বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, বিষাক্ত গ্যাস বা বাষ্প থেকে সংক্রামক রোগের উৎপত্তি এবং বিস্তার লাভ ঘটায়। প্রায় ১৮ শতক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই প্রত্যয় মানুষের মনে এমনভাবে গেঁথে গিয়েছিল যে, কেউই এই কুসংস্কারের বাইরে গিয়ে সংক্রামক রোগগুলোকে বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে বিচার-বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা হয়নী বা করেনি। যেমন একটি রোগের কথা আমরা উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি যে, ম্যালেরিয়া রোগটির নামকরণও করা হয়েছিল এই নষ্ট বা দূষিত বায়ুর ধারণা থেকেই; ইতালীয় ভাষায় mala অর্থ খারাপ এবং aria অর্থ বায়ু, অর্থাৎ ম্যালেরিয়াকে খারাপ বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট রোগ বলে মনে করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় উন্নতির ফলে আমরা জানতে পেরেছি যে,এই ম্যালেরিয়া রোগ হয় প্লাজমোডিয়াম গণের অন্তর্ভূক্ত কয়েক প্রজাতির পরজীবীর দ্বারা এবং সংক্রমিত হয় অ্যানোফেলিস মশার মাধ্যমে। এছাড়াও আরো কিছু রোগ যেমনঃ ক্লামাইডিয়া (এক প্রকার যৌন রোগ), প্লেগ, কলেরা ইত্যাদি সংক্রামক রোগগুলো মন্দ বায়ুর কারণে হতো বলে মনে করা হয়েছিল তখন। এরপর সে সময় বা তৎকালীন তৎকালীন অনেক পন্ডিত ব্যক্তি ও চিকিৎসক এই ধারণাকে অমূলক বলে দাবী করেছিল। এমন এক চিকিৎসকের নাম হল জন স্নো ছিলেন একজন ব্রিটিশ চিকিৎসক। যখন ১৮৫৪ সালে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টরের সোহোতে কলেরার সর্বপ্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বিষয়টি অনুসন্ধানের দায়িত্ব এসে পড়ে জন স্নো-এর ওপর। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সহিত এবং সতর্কতার সহিত বিস্তারিত গবেষণার ফলে তিনি এর কারণ হিসেবে নগরীর একটি খাবার পানি সরবরাহের নলকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি নগরকর্তাকে উক্ত পানি সরবরাহ কৃত নলটি বন্ধ করে দেয়ার অনুরোধ জানান। নগর কতা সরবরাহকৃত নলটি বন্ধ করে দেয়ার পর পরই ঐ এলাকায় কলেরার প্রকোপও ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে। চিকিৎসক স্নো-এর এই গবেষণাটিই আধুনিক ‘মহামারী-সংক্রান্ত বিদ্যা’ বা ‘এপিডেমিওলজির’ (Epidemiology) সূচনা করেছিল বলে আজও মনে করা হয়। তাছাড়া আরও একটি নতুন দাঁড়ের উন্মোচন হয় যে প্রাচীন একটা কুসংস্কারকে হটিয়ে সংক্রামক রোগকে বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিতে দেখার পথও খুলে যায়। এখানে আরো উল্লেখিত যে, ১৮৮৪ সালে প্রথম কলেরার টিকা আবিষ্কার হয়েছিল।টিকা আবিষ্কার এর আগ পর্যন্ত নাগরিক সচেতনতা ও সাবধানতাই ছিল একমাত্র প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। চলবে---------

Comments