বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু ।
প্রিয় সাথী বৃন্দ আজকে আমি আপনাদের সামনে রসায়ন বিজ্ঞানের কিছু আশ্চর্য বিষয় সম্পর্কে অথ্যাৎ রসায়ন তার মেজিক দ্বারা আমাদের সামনে অলৌকিক ঘটনার অবতারণা করে থাকে,সেটা কেন এবং কিভাবে, সে সব বিষয় নিয়ে কথা বলবো ইনশাআল্লাহ।
মনোক্সাইড বিষক্রিয়াঃ
চক্ষু বিশেষজ্ঞ ‘উইলিয়াম ভিলমার (William Wilmer)’ ১৯২১ সালে ‘আমেরিকান জার্নাল অব অফথালমোলজি’ পত্রিকাতে একটা আজব ধরণের গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন। সেই গবেষণাপত্রে তিনি একটা পরিবারের ভেতরে ঘটে যাওয়া ঘটনা উল্লেখ করেন।অভ্যান্তরীন কারণেই তিনি পরিবারটির নাম প্রকাশ করেননি তাই তিনি এইচ(H) পরিবার বলে উল্লেখ করেন।
সেই এইচ’ পরিবার যে বাড়িতে বসবাস করতো সেই বাড়ি ক্রমে ক্রমে যেন ভূতের আড্ডাখানা হয়ে উঠেছিল। তাদের বাড়িতে দরজা-জানালা মে কোন সময় এমনীতেই ধড়াম ধড়াম শব্দ করে বন্ধ হয়ে যেত। রুমের আসবাবপত্রগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে নড়াচড়া করতো এবং সবচেয়ে বড় এবং বিরক্তিকর ব্যাপার হলো বাড়ির খালি কক্ষগুলোতে কারো হাঁটা চলার এবং দৌড়াদৌড়ির শব্দ পাওয়া যেত প্রতিনিয়ত। ঐ পরিবারের এক শিশু একবার স্পষ্ট অনুভব করেছিলো তার কোলের ভিতরে কে যেন বসে আছে এবং এক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য দেখলেন যে, অপরিচিত কে যেন তাকে মারতে তেড়ে আসছে! আবার এক রাতে ঐ বাড়িরই এক মহিলা সদস্য দেখতে পেলেন তাদের বিছানার পাশে একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা যুগলবন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তুকিছু সময় পরপরই তারা অদৃশ্য হয়ে গেলো।
যেমন প্রত্যেকটি মানুষ যে রকম একটা হাসির ব্যাপার দেখে শুরুতে খুব হাসলেও এক পর্যায়ে ব্যাপারটা একঘেয়ে হয়ে দাঁড়ায়, তেমনি ভয় কিংবা আতংকের ব্যাপারটাও একই । আমরা যদি কোন একটা জিনিস দেখে যতই ভয় পাই না কেন, বেশি বেশি ওই জিনিসটা দেখার ফলে এক পর্যায়ে সেটাও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তবে এ ক্ষেত্রে সাথে বোনাস হিসেবে পাবেন হতাশা এবং বিষন্নতা। তেমনি‘এইচ’ পরিবারের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল। তাই এই পরিবারটি এই পরিবারটি এক পর্যায়ে বিষন্ন ও হতাশগ্রস্ত হয়েছিল প্রত্যেকটি সদস্য এবং তাদের এই উপায়ও ছিল না যে বাড়িটা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাবে।
ঠিক এমন সময় তাদের হতাশাগ্রস্ত জীবনে আলোকবর্তিকা হিসাবে উপস্থিত হয একটা ছোট্ট আবিষ্কার। পরিবারের একজন দেখতে পেল তাদের বাড়ির ফার্নেসটাতে মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে। ফার্নেসটার কাজ হলো বাড়ির ভেতরের সব বিষাক্ত গ্যাসকে চিমনি দিয়ে বাইরে বের করে দেয়া। কিন্তুকিন্তু বিষাক্ত গ্যাস গুলো বাইরে নির্গমন হওয়ার পরিবর্তে পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং পরে দেখা গেল যে পুরো এই পরিবারটি মারাত্মক গ্যাস কার্বন মনোক্সাইড এর বিক্রিয়ায় মারাত্মকভাবে আক্রান্ত।
এই কার্বন মনোক্সাইড (CO) হচ্ছে গন্ধবিহীণ, বর্ণবিহীন বিষাক্ত গ্যাস। খোলা পরিবেশে এই গ্যাসকে সহজে শনাক্ত করা যায় না। আমাদের মানব শরীরের রক্ত যত সহজে অক্সিজেন শোষণ করতে পারে ঠিক তেমনি ভাবে কার্বন মনোক্সাইডও খুব সহজেই অক্সিজেন শোষণ করে ফেলতে পারে। কারনে আমাদের শরীরে দেখা দেয় নানা রকম সমস্যা যেমনঃ শারিরীক দূর্বলতা, বমি বমি ভাব, দুশ্চিন্তা, মানসিক অস্থিরতা ইত্যাদির মত মারাত্মক উপসর্গ। রক্তে এই বিষক্রিয়ার মাত্রা যদি সহনীয় মাত্রা হতে সামান্য একটু বেশি হলে মানুষ মারাও যেতে পারে। আমাদের শরীরে এই কার্বন-ডাই-অক্সাইড অর্থাৎ নীরব ঘাতক গ্যাসের দূষণের ফলে আমরা ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাই এবং বিষক্রিয়ায় আমাদের ভেতরে হ্যালুসিনেশানের মাত্রাও বাড়তে থাকে অবিরাম।
যাই হোক, রসিকতা ছেড়ে মূল বক্তব্যে ফিরে যাই। এই কার্বন মনোক্সাইডের উৎস গুলো হলো ত্রুটিপূর্ণ ফার্নেস হতে কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়া ছড়াতে পারে এবং সিগারেট, ডিজেল, পেট্রোলচালিত গাড়ি ও যন্ত্রপাতি, গ্যাসের চুলা এবং লাকড়ির চুলা ইত্যাদি। আমাদের জানা দরকার যে, চুলায় আগুনের শিখা নীল সেই চুলার থেকে হলুদ আগুনের শিখাবিশিষ্ট চুলা সাধারণত বেশি কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন করে থাকে।
বিজ্ঞানিক তথ্যমতে জানতে পারি যে আমাদের ঘরের ভিতর ভূত দেখা শব্দ করা এবং ইত্যাদি অলৌকিক ঘটনা গুলো দেখার পেছনে এই কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস মূলত দায়ী তাই আমরা ভয় পাওয়ার আগে দেখে নেব আমাদের বাড়িটি কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস দ্বারা দূষিত হচ্ছে নাতো।
আল্লাহ হাফেজ।


