আল্লাহতালা আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলে ঘোষণা করার কারণ কি?

alim236

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম ।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

 

প্রিয় সাথী বৃন্দু গত পোস্টে আল্লাহ তা'আলা মানব জাতিকে অর্থাৎ শেষ নবীর উম্মত কে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলে ঘোষণা করেছেন। কেন শ্রেষ্ঠ উম্মত বলে ঘোষণা করলেন? সে বিষয়ে আজকে যৎসামান্য আলোচনা তুলে ধরার প্রয়াস চালাবো ইনশাআল্লাহ।

 

মহান আল্লাহ তায়ালা এই দুনিয়ার মাঝে পৃথিবীর শুরু থেকে আজ অবধি পর্যন্ত লক্ষাধিক নবী ও রাসুল পৃথিবীর মধ্যে পাঠাইয়াছেন এবং তাদের অধীনে তাদের বান্দাদেরকে পাঠায়াছেন। যে নবীর সময়কালে যে উম্মত গুলো আসত বা আল্লাহ পাঠাইত তারা সেই নবীর উম্মত বলে বিবেচিত হতো এবং সেই নবীকেই সে সময়ে মেনে চলতে হতো।

এমনকি এক এক সময়ে একাধিক নবী ও আল্লাহতালা প্রেরণ করেছেন যেমন মুসা (আঃ) ও শোয়াইব (আঃ) একই সময় কার নবী ছিলেন এবং তাঁরা সম্পর্কের দিক দিয়ে জামাই শশুর ছিলেন। যাই হোক সেই দিকে না গিয়ে আমরা শেষ নবীর উম্মত কে আল্লাহ তায়ালা শ্রেষ্ঠ উম্মত বলার কারণ জানবো ইনশাআল্লাহ।

আমাদের নবী শেষ নবী আমাদের নবীর পরে অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর পরে আর কোন নবী পৃথিবীতে আগমন করবেন না কারণ আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু সালাম এর মারফতে দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণতা দান করেছেন। আর আমরা শেষ উম্মত অর্থাৎ কিয়ামত পর্যন্ত যত বান্দা আল্লাহতালা এই পৃথিবীতে পাঠাইবেন সবাই শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাম এর উম্মত বলে বিবেচিত হবে। যদি মেনে চলি আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম কে। বর্তমান থেকে শুরু করে কেয়ামত পর্যন্ত যত বান্দা আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে পাঠাক না কেন সবাইকে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু সালামকে নবী হিসেবে স্বীকার করতে হবে এবং নবীর তরীকায় জীবন যাপন করতে হবে এবং নবীজির প্রতিটি সুন্নত অনুসরণ করতে হবে। তবেই মুক্তি মিলবে, আখিরাত সুখ ও সমৃদ্ধি পূর্ণ হবে। এছাড়া কোন মুক্তি নেই, কোন শান্তি নেই, কোন সফলতা নেই এবং আখিরাত জিন্দেগি অত্যন্ত দুঃখের কষ্টের হবে। অন্যান্য নবীর উম্মতগণ শুধু আল্লাহর এবাদত করতে পারতো কিন্তু মানুষকে ভাল দিকে ডাকা, মন্দ কাজ হতে বিরত রাখা অর্থাৎ দাওয়াতের আমল তাদের অনুমতি ছিল না। দাওয়াত তাদের কাজ ছিল না তারা এ কাজ করতে পারত না । একমাত্র তাদের নবী (আঃ)করতে পারতেন কিন্তু শেষ নবীর উম্মত এই দাওয়াতের আমল অবধারিত করতেই হবে এর প্রমাণ হিসেবে সূরা আল-ইমরানের 106-110 নং আয়াত আপনারা দেখে নিতে পারেন। মূসা আলাইহিস সালাম যখন ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নীল নদের তীরে পৌঁছে ছিল তখন তার অনুসারীরা তাকে বলেছিল হে মূসা ওই যে দেখা যাচ্ছে ফেরাউনের বাহিনী। আমরা তো বুঝি ধরা খেয়ে গেলাম, তখন মুসা আলাই সালাম তাদের বলেছিল, "কাল্লা" কক্ষনো না কারণ আমার সাথে আমার আল্লাহ আছে। আজকে পোস্টে এই পর্যন্তই বাকি অংশ আগামী দিনের পোস্টে ইনশাআল্লাহ আলোচনা করব ।

আল্লাহ হাফেজ। 

Comments