ছলনাময়ী সর্বনাশা এ পৃথিবী!!!
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আপনারা সবাই কেমন আছেন জানিনা তবে আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও আল্লাহর অপার মেহেরবানীতে করুনা দয়ার ফলে অনেক ভাল আছি সুস্থ আছি। আজকে আমি ছলনাময়ী এই সর্বনাশা পৃথিবী কে নিয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
এই পৃথিবীকে সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ তা'আলা যখন সৃষ্টি করলেন তখন এই পৃথিবীতে জিন জাতিকে সর্বপ্রথম এখানে বসবাস করা করতে দেওয়া হয়েছিল। জিন জাতিকে যখন বসবাস করতে দেওয়া হয়েছিল তখন জিন জাতি এই পৃথিবীতে এসে তারা হাঙ্গামা মারামারি খুনখারাবি রাহাজানি ইত্যাদিতে ভরপুর করে তুলেছিল এই পৃথিবীর আকাশ বাতাস। তখন মহান আল্লাহ তা'আলা জিন জাতিকে দিয়ে যে আশা করেছিলেন সে আসা হলো না তখন এখানে ফেরেশতাদের পাঠাইয়া দিলেন। ফেরেশতাকুল এ পৃথিবীতে বসবাস শুরু করলো এবং সাথে সাথে জিন জাতিকে জঙ্গলে তাড়িয়ে দেওয়া হইল। ফেরেশতা রা এই পৃথিবীতে বসবাস শুরু করতে লাগলো এবং তারা আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হয়ে গেল। মহান আল্লাহতালা ফেরেশতা জাতিকে হেদায়েত করে ছেড়ে দিয়েছেন তারা অন্যায় কখনোই করতে পারেনা শুধু ভালো কাজে তারা করতে পারে অর্থাৎ তাদেরকে ইচ্ছা শক্তি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় নাই। তাই মহান আল্লাহতালা একদিন ফেরেশতাকুল কে ডাকিয়া জিজ্ঞেস করলেন এবং মহান আল্লাহ তাআলা বললেন আমি এক জাতি অর্থাৎ মানবজাতির সৃষ্টি করতে চাই যারা আমার ইবাদত করবে আমার হুকুম আহকাম মেনে চলবে এবং আমার গুনগানে সব সময় মত্ত থাকবে। তখন ফেরেশতা কুল বলল হে আল্লাহ আপনি তো আমাদের এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন আমরা তো আপনার ইবাদত আর ইবাদতই করিতেছি আপনার ইবাদত ছাড়া আপনার গুণগান চাওয়া আপনার সৃষ্টির তারিফ ছাড়া আমরা আর কিছুই করি না আমরা তো পাপ করি না আমরা তো অন্যায় করি না আমরা তখন খারাপই করি না আমরা তো রাহাজানি করি না আমরা তো সর্বপ্রকার ভালো কাজে ব্যতিব্যস্ত থাকি। এর মধ্যে আবার মানুষ সৃষ্টি করা কি দরকার। তখন মহান আল্লাহ তা'আলা বলেছিলেন আমি যা বুঝি তোমরা তা বুঝনা। আমি মানুষ সৃষ্টি করব এবং এই পৃথিবীতে বসবাস করার জন্য পাঠিয়ে দেবো।
তখন মহান আল্লাহ তা'আলা মানুষ সৃষ্টি করতে শুরু করলেন এবং ফেরেশতাদের বানাতে বললেন ধর আর মহান আল্লাহতালা তৈরি করলেন মাথা। এরপর মহান আল্লাহ তা'আলা সেই দর এবং ছেলের মধ্যে রুহু ফুকে দিলেন এবং আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করলেন। আদম আঃ কে সৃষ্টি করার পর এমন কথা শিখিয়ে দিলেন যা ফেরেশতা কুল বলতে পারেনি অর্থাৎ আলহামদুলিল্লাহ আদম আলাই সালাম বলেছিলেন আর ফেরেশতারা এতে বিস্মিত হয়েছিলেন এবং আল্লাহ যা বলছে তা তারা বোঝে না একথা তাদের বোধগম্য হলো। মহান আল্লাহ তা'আলা ফেরেস্তা কুল এবং জিন অর্থাৎ ফেরেশতাগুলের নেতা হয়েছিলেন একদিন আর সেই জিন হল শয়তান। এদের সকলকেই মহান আল্লাহতালা আদেশ করেছিলেন, আদম আলাই সালামকে সেজদা করার জন্য। ফেরেশতাকুল সবাই সেজদা করলো কিন্তু ফেরেশতাদের নেতা অর্থাৎ এজাজিল অর্থাৎ শয়তান আদম আঃ কে সেজদা করতে অ স্বীকৃতি জানালো এবং সে অহংকার দেখালো এবং বলল আমি আগুনের তৈরি আদম তোমার মাটির তৈরি। তখন মহান আল্লাহতালা শয়তানকে বলেছিলেন দূর হ শয়তান তোর আর এখানে জায়গা নেই তুই এখান থেকে বিতাড়িত হও। তখন শয়তান সেখান থেকে বিতাড়িত হয় এবং সে বলেছিল আমি আদম সন্তানকে জাহান্নামে নিয়েই ছাড়বো এবং কিভাবে আদম সন্তান জান্নাতে প্রবেশ করে সেটা আমি দেখে দেখিয়ে দেব এবং কখনোই আদম সন্তানকে জান্নাতে যেতে দেবো না।
এরপর আদম আলাই সালাম কে জান্নাতের মধ্যে রেখে দিলেন এবং বললেন তুমি এখানে বসবাস কর খাও দাও ঘোরো এবং যাবতীয় আরাম আয়েশ করতে থাকো। এভাবে বেশ কিছুদিন কেটে যাওয়ার পরে আদম আলাই সালাম এক অভাব মহান আল্লাহতালা বুঝতে পারলেন সেই অভাব হল বিবি হাওয়ার। তাইতো মহান আল্লাহ তায়ালা আদম আঃ এর বাম পাজরের একটা বাঁকাহার নিলেন এবং তা দিয়ে বিবি হাওয়াকে সৃষ্টি করলেন। এরপর সৃষ্টি করার পর বিবি হাওয়াকে আদম আলাই সালাম এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন এবং তারা পরম আনন্দের সহিত পরম আরাম আয়েশের সহিত পরম তৃপ্তি সহিত দিন কাটাতে লাগলো। এবং মহান আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে কথা বলে দিলেন যে তোমরা এই বৃক্ষের ধারের কাছে হয়ে যেও না।
তখন শয়তান বিবি হাওয়াকে কুমন্ত্রণা দিল যে তোমাদের এই বৃক্ষর কাছে যেতে নিষেধ করেছেন এবং এই বৃক্ষের ফল খেতে নিষেধ করেছেন কারণ তোমরা এই বৃক্ষ এবং এই ফল খেলে চিরঞ্জীব হয়ে যাবে কখনো মৃত্যুবরণ করবে না মর্যাদা বাড়বে। এমন অনেক কথাই বুঝাইতে লাগলো এবং এ কথা বলল আমি তোমাদের একমাত্র হিতাকাঙ্খী তোমাদের ভালই চাই আমি কখনোই তোমাদের মন্দ চাই না তোমরা এই গাছের কাছে যাও এবং এই গাছের ফল ভক্ষণ কর। এই গাছের ফল ভক্ষণ করলেই তোমরা বুঝতে পারবে তোমরা চিরঞ্জীব হবে সেটা। তখন আদম আলাই সালাম এর স্ত্রী হাওয়া আলাই সালাম কে মোটামুটি শয়তান বশ করে ফেলল। সে শয়তানের কথা মেনে নিল এবং সে সেটাই মনে করল শয়তান যা তা কি বুঝাইতে ছিল। তখন সে আদম আলাই সাল্লাম কে বারবার সে কথা বলতে লাগলো প্রথমদিকে আদম আলাই সালাম তার কথাই কোন প্রকার কম্যপাত করলেন না কিন্তু পরে ধীরে ধীরে তার কথা কানের ভিতর নিলেন এবং মনে করতে থাকেন তাই মনে হয় হবে তাই তখন আদম আলাই সালাম এবং ফল ভক্ষণ করলেন।
তারা দুইজন ফল ভক্ষণ করার সাথে সাথেই তাদের জান্নাতি পোশাক কেউ হতে খুলে গেল এবং তারা পায়খানায় করে ফেলল এবং আদম আলাই সালাম পাতা গাছের পাতা দিয়ে লজ্জাস্থান ঢাকতে চেষ্টা করলেন। এবং বিবি হওয়ারও একই অবস্থা হইল। তখন আল্লাহ তাদেরকে বললেন তোমরা আমার অবাধ্য আমার কথা মান্য করো নাই তাই তোমাদেরকে দুনিয়াতে পাঠাইয়া দিলাম। একজন শ্রীলংকা এক পাহাড়ে উপড়ে দিলেন আরেকজনকে মক্কার জেদ্দা তে দিলেন। এরপর থেকে আদম আলাই সালাম কান্না শুরু করে দিল কাঁদতে কাঁদতে কাঁদতে কাঁদতে তার চোখের নিচে দাগ হয়ে গেল। এবং মহান আল্লাহর কাছে সে মাফ চাইতে লাগল কিন্তু ক্ষমা হচ্ছিল না। একসময় আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম ধরে দোয়া করতে লাগলো এবং ক্ষমা চাইতে লাগলো এতে মহান আল্লাহতালা তাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন এবং আদম আলাই সালাম এবং এক জায়গায় করে দিলেন এবং তাদেরকে ক্ষমা করলেন এবং দুনিয়ার জিন্দেগীতে সামান্য সময়ের জন্য তাদেরকে কিছু হুকুম আহকাম দিলেন এবং বললেন এখানে তোমরা আমার হুকুম মানো এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে আর দুনিয়ার জিন্দেগীতে যেরকম কাজ করবে আর আখিরাতের জিন্দেগীতে সেরকম ফল পাবে।
সেই থেকে তো দুনিয়া শুরু এবং দুনিয়াতে মানুষের বসবাস শুরু। মহান আল্লাহতালা এই দুনিয়াকে আমাদের পরীক্ষা স্বরূপ পাঠাইয়াছেন এবং এখানে আমরা পরীক্ষার হলে অবস্থান করতেছি এখানে বেশি দিন থাকা যাইবে না এখানে আরাম আয়েশ করা যাবে না এখান থেকে আমাদের অবশ্যই চলে যেতে হবে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা অধিকাংশ মানুষ দুনিয়াকে আসল মনে করি দুনিয়ার আসবাবকে আমরা চিরস্থায়ী মনে করি এবং আখেরাতকে আমরা ক্ষণস্থায়ী এবং আখেরাতকে আমরা একেবারে ভুলে গিয়েছি। দুনিয়া রং তামাশা দুনিয়ার নাজ নিয়ামতকে আমরা বড় মনে করি এবং দুনিয়ার অর্থকরী নারী বাড়ি গাড়ি এর পিছনে আমরা দৌড়াইতেছি দৌড়াতে দৌড়াতে আমাদের এক সময় হায়াত শেষ হয়ে যায় আমরা মৃত্যুবরণ করি এবং আল্লাহকে অসন্তুষ্টি করে চলে যায়। দুনিয়া বড় স্বার্থপর দুনিয়া কাউকে থাকতে দেয় না দুনিয়া কাউকে ভালো কাজ করতে দেয় না। দুনিয়ার লোক যারা করবে তাদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। তাইতো আমাদের সর্বসময় খেয়াল রাখতে হবে দুনিয়া আমার পরীক্ষার হল এখানে পরীক্ষা দিতে এসেছি এখানে থাকার জন্য নয় থাকতে পারবো না তাইতো মহান আল্লাহতালা যে হুকুম আহকাম দান করেছেন সেই হুকুম আহকাম গুলো আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করি এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর আদর্শ আমরা গ্রহণ করি। তবেই আমরা দুনিয়ার ধোঁকা হতে বেঁচে থাকতে পারবো এবং আখিরাতে পরম সুখে জিন্দেগি জান্নাত লাভ করতে পারব।
তাই আসুন আমরা ছলনাময়ী, সর্বনাশা ধোকাবাজ ক্ষণস্থায়ী এই পৃথিবীর রূপে মোহিত না হয়ে পৃথিবীর রূপকে ধিক্কার জানাই এবং আমি মহান আল্লাহতালার হুকুম আহকাম এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর আদর্শ গ্রহণ করে আল্লাহকে খুশি করি এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালামের লাভ করি। কখনোই পৃথিবীর পিছনে যে নামটা মিশে ধোকায় না পারি সেই ব্যাপারে আমরা সতর্ক থাকি এবং আশেপাশে বন্ধুবান্ধব আত্মীয়-স্বজন সবাইকে সতর্ক করি এবং সবাইকে আল্লাহর হুকুম এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর আদর্শ মতে চলার চেষ্টা করি আমিন।


