পরমাণু তত্ত্বের পিছনের ইতিহাস!!!

alim236

        বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম 

 

প্রিয় সাথী বৃন্দ আজকে আমি রসায়নের কিছু তত্ত্ব আবিষ্কারের পিছনের গল্প তুলে ধরবো। এই পোস্টে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।

রসায়ন বা কেমিস্ট্রি; নামটি শুনে রসে ভরপুর মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা নয়। বরং অনেকের মতে এই বিষয়টিতে রসের বড়ই অভাব। কেননা তত্ত্ব ও উপাত্তের যেন কোন শেষই নেই রসায়নে। রসায়ন পড়তে বসে পর্যায় সারণীর মৌলিক পদার্থের তালিকা দেখেই ভড়কে যায় অনেকে। এরপর ধীরে ধীরে হাজির হতে থাকে নিত্য নতুন তত্ত্ব ও সূত্রের সমাহার। প্রতিটি সূত্র বা তত্ত্বের পিছনেই রয়েছে কিছু মজার গল্প ও অজানা ইতিহাস। চলুন জেনে নেয়া যাক, রসায়নের বিভিন্ন তত্ত্বের পিছনের ইতিহাস কেমন ছিল?

 

                         পরমাণু তত্ত্ব:

রসায়নের মূল ভিত্তি হলো পরমাণু। পরমাণু নিয়ে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন বিজ্ঞানী, বিভিন্ন মতবাদ প্রদান করেছেন। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে মূলত একটি তত্ত্বই সর্বত্র গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত আছে। আসুন আমরা জেনে নেই কীভাবে এল সেই প্রতিষ্ঠিত পরমাণু তত্ত্ব।

প্রায় ২০০০ বছর আগে গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল বলেছিলেন যে, পদার্থ কে অসংখ্য ক্ষুদ্রাতি অতিক্ষুদ্র ভাগে ভাগ করা যায়। কিন্তু এই সময় আরেক বিজ্ঞানী ডেমোক্রিটাস তা মেনে নিতে পারলেন না বরং ভিন্নমত পোষণ করলেন। তিনি বলিলেন যে, একটি পদার্থকে ততক্ষণ পর্যন্ত বিভাজিত করা সম্ভব হয় যতক্ষণ না ক্ষুদ্রতম কণায় পরিণত হয় বা পাওয়া যায়। বিজ্ঞানী অ্যারিস্টটল তার মতবাদটি বিভিন্ন পরীক্ষা দ্বারা প্রমান করার চেষ্টা করেন। বিভিন্ন পরীক্ষার ফলে কিছুটা হলেও অ্যারিস্টটলের মতবাদ গ্রহণযোগ্যতা পায় সেই সময়।

এরপর ১৮০০ শতকে এসে ঘটে উল্টো ঘটনা। বিজ্ঞানী জন ডাল্টন,বিজ্ঞানী অ্যারিস্টটলকে ভুল প্রমাণিত করেন। বিজ্ঞানী জন ডাল্টন নিজেই একটি তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি বলেন যে," কোনপদার্থ অসংখ্য ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত যার নাম পরমাণু"। এই পরমানুকে আর ক্ষুদ্রতম অংশে ভাগ করা যায় না। তিনি আরও বলেছেন, একই পদার্থের পরমাণুগুলোর মধ্যে একই ধর্ম বিদ্যমান এবং ধর্মের মধ্যে মিল রয়েছে। কিন্তু একটি বিষয় তাঁর এই মতবাদে পরমাণুর গঠন নিয়ে কিছু উল্লেখ করেন নাই। 

এদিকে ১৮৯৭ সালে বিজ্ঞানী জে. জে. থমসন ক্যাথোড রে টিউবের সাহায্যে ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন, যা ফলে ডাল্টনের মতবাদ ভুল প্রমান করেন এবং পরমাণু মডেল আবিষ্কার করেন যার নাম দেন পাল্ম পুডিং মডেল। মা কিসমিস মডেল নামে পরিচিতলাভ করে।

এরপর ১৯০৯ সালে কোন একদিন থমসনের ছাত্র আর্নেস্ট রাদারফোর্ড ল্যাবে কাজ করিতেছিলেন। তিনি অর্থাৎ আর্নেস্ট রাদারফোর্ড একটি পাতলা স্বর্ণপাতের মধ্য দিয়ে কিছু আলফা কণিকার বিক্ষেপণ করেন। এরপর তিনি লক্ষ্য করেন যে আলফা কনিকা বর্মন ভেতর দিয়ে যেতে পারছে না কারণ পরমাণুর মাঝে এমন কিছু আছে যা আলফা কণিকাকে এর ভিতর দিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে। পরবর্তীতে তিনি অর্থাৎ আর্নেস্ট রাদারফোর্ড এর নাম দেন নিউক্লিয়াস। তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য দেন যে, পরমাণুর কেন্দ্রে রয়েছে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ইলেকট্রনগুলো চারদিকে অবিরাম ঘুরছে। এসময় বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড তার পরমানু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন এবং এই মডেলটির নাম দেন সৌর মডেল এবং এই মডেলটির সৌর মডেল নামে পরিচিত।

আমরা এরপর আরো পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত আরো অনেক গ্রহণযোগ্য মতবাদ আধুনিককালে আবিষ্কৃত হয়েছে তা আমরা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করতে থাকব ইনশাআল্লাহ।

Comments