বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
আচ্ছালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভাল আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আমি আজকে তেজপাতার বিভিন্ন উপকারিতা নিয়ে আজকে এই পোস্টটি সাজিয়েছি। এই পোস্টে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।
তেজপাতা গাছের পাতা একটি সুগন্ধিযুক্ত ঔষধি পাতা। তেজপাতা গাছের পাতা স্যুপ, পায়েস, পোলাও ও অন্যান্য সিদ্ধ জাতীয় খাবারে সুগন্ধ যোগ করতে এ পাতা ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও প্রাচীন গ্রীকে ঐতিহ্যগত ওষুধ তৈরিতে তেজপাতা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হতো।
*** চুলের বৃদ্ধি ও খুশকি তাড়াতেঃ-
খুশকি ও চুল পড়ে যাওয়া নিয়ে বিপাকে আছেন যারা ? আমাদের চুলের যত্নে তেজপাতায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। প্রথমে কয়েকটি তেজপাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করুন এবং কিছুক্ষণ ঠাণ্ডা হতে দিন। এরপর এবার এ তেজপাতা ভিজানো পানি দিয়ে *** চুল ও স্কাল্প ধুয়ে ফেলুন।
অবশ্যই চুল শ্যাম্পু করার পর এটি করবেন। যদি মাথার ত্বক চুলকায় তবে তেজপাতা বেটে নারিকেল তেলের সঙ্গে মেশান এবং স্কাল্পে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
*** ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ-
একটি গবেষণায় থেকে জানা যায় দিনে অন্তত দু’বার তেজপাতা গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যায় এবং এটি প্রমাণ হয়েছে যে, তেজপাতায় থাকা উপাদান ইনসুলিনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে নিয়ন্ত্রণে রাখে যার ফলে যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন তাদের জন্যেও তেজপাতা বেশ উপকারী হয়ে থাকে।
*** হজমের ক্ষেএেঃ-
যদি আমাদের মাঝে কাহারো কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে থাকে তবে তাহার তেজপাতা স্বাভাবিক হজমশক্তি ফিরিয়ে আনবে। এই তেজপাতা শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বের করে দেয়। এছাড়াও এই তেজপাতা আমাদের অতিরিক্ত প্রস্রাবের সমস্যা কমায় ও হজম রস তৈরিতে এটি উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও এই তেজপাতা অথাৎ তেজপাতায় থাকা এনজাইম দ্রুত খাবার ভাঙতে পারে ফলে যারা অন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য তেজপাতা অনেক উপকারী হয়ে থাকে।
*** হার্ট ভাল রাখতেঃ-
এই তেজপাতায় রয়েছে রুটিন ও ক্যাফেক অ্যাসিড যা হার্টের দেয়ালকে মজবুত করে ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়ে থাকে।
*** ব্যথা উপশমেঃ-
এই তেজপাতা প্রদাহের বিরুদ্ধে কাজ করে এ তেজপাতা যে কোনো ধরনের মাথা ব্যথা, জয়েন্টের ব্যথা এমনকি বাতের ব্যথা উপশমে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। এছাড়াও এই তেজপাতা ও রেড়ির পাতার (ক্যাস্টর) পেস্ট আক্রান্ত স্থানে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখলেই ব্যথা কমে যাবে এবং এছাড়া পাতার তেল কপালে ম্যাসাজ করলে মাথা ব্যথা উপশম হয়।
*** এন্ট্রি ক্যান্সার হিসাবেঃ-
বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা যায় যে, তেজপাতা ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করে এবং এতে ফাইটোনিউট্রিয়ান্স ও ক্যাটচীন উপাদান থাকায় এটি ক্যান্সার কোষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এছাড়াও একটি গবেষণা অনুযায়ী তেজপাতা ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও কাজ করে থাকে।
*** ক্ষত নিরাময়ের ক্ষেত্রেঃ-
এই তেজপাতায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও মাইক্রোব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় এটি ক্ষত সারাতে দারুণভাবে কাজ করে এবং এটি ক্যান্ডিডার মত ছত্রাক সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে।
*** গলা খুশখুশ ও কাঁশিঃ-আমরা যদি ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হয় ও কাঁশির সমস্যায় ভুগি তাহলে ব্যাকটেরিয়া তাড়াতে এই তেজপাতা চমৎকার কাজ করে। যেমনঃ ৪-৫টি তেজপাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করে এরপর পানি কুসুম ঠাণ্ডা করে নিয়ে একটি পরিষ্কার কাপড় পানিতে ভিজিয়ে বুক মুছুন, কয়েকবার।
*** কিডনির পাথর হইলেঃ-
বিজ্ঞানিদের একটি গবেষণা অনুযায়ী তেজপাতা শরীরে ইউরিয়ার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। আমাদের শরীরে ইউরিয়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে এটি কিডনির সমস্যা করে ও অন্যান্য গ্যাসের সমস্যা তৈরি করে থাকে।
*** উদ্বিগ্নতা ও চাপঃ
যদি আমরা প্রতি দিন তাহলে এক কাপ তেজপাতার চা খেয়ে দেখতে পারি তবে আমাদের স্নায়ু শান্ত করে ও উদ্বিগ্নতা কমায় এমনকি ভালো ঘুমের জন্যেও উপকারী।
*** সতর্কতাঃ-
তেজপাতা খওয়া ব্যাপারে সতরকতা অবলম্বন করতে হয়। তেজপাতা গর্ভবতী মা ও সদ্য মায়েদের প্রস্রাবের ইনফেকশন ঘটাতে পারে এবং সার্জারি রোগীদের দুই সপ্তাহ তেজপাতা খেতে নিষেধ করা হয় কারণ এটি স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
আসুন আমরা এই পোস্টে তিসির যে উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা গেছে তা আমরা আমাদের দেহ কে সুস্থ ও সবল রাখতে এই তিসি আমরা খাব। আজকে এই পযন্তই আল্লাহ হাফেজ।


