পাপিষ্ট ব্যক্তি এবং তার মৃত্যু!!!

alim236
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি মন্দ মানুষ অর্থাৎ পাপিষ্ট মানুষ এর মৃত্যু সম্পর্কে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই।

এই মন্দ মানুষ অর্থাৎ পাপিষ্ঠ মানুষ একদিন তো মৃত্যুবরণ করবেই মৃত্যুর হাত হইতে কেউ তাকে বাঁচাতে পারবে না। তাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে। যেদিন তার হাত শেষ হয়ে যাবে মহান আল্লাহ তা'আলা তাকে মৃত্যু বলে ঘোষণা করবেন সেই দিন আজরাইল আল আসালাম 500 ফেরেশতা নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেন। প্রত্যেক ফেরেশতার হাতে দুর্গন্ধময় কাপড় থাকে। আজরাইল আঃ তাদেরকে যতদূর দৃষ্টি যায় তত দূরে তাদের দাঁড়িয়ে রেখে উক্ত পাপিষ্ট ব্যক্তির কাছে চলে আসে। এই আজরাইল আঃ উক্ত পাপিষ্ঠ ব্যক্তির কাছে আসার আগে তার কাছে আসেন শয়তান। অর্থাৎ ইবলিশ শয়তান। সে আসে তার মা-বাবার রূপ ধরে। এসে তাকে বলতে থাকে এই কালেমা পড়বি না কালেমা পড়ে আমাদের আজ এই অবস্থা হয়েছে আমরা তো সবাই জাহান্নামী হয়েছে। বিভিন্নভাবে তাকে বুঝাতে থাকে। তখন উক্ত পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার কথা গ্রহণ করে। তার কথা গ্রহণ করার কারণ হলো সে তো দুনিয়ার জিন্দেগীতে শয়তানকে বন্ধু বানিয়েছিল। শয়তান যা বলত সেই সমস্ত কাজ সে করে বেড়াত। তাইতো সে সহজে শয়তানের রোজ গ্রহণ করে এবং শয়তান যা বলে তার ওপর মোকাম্মেল থাকে। তখন ফেরেশতা সাহায্য করার জন্য আসলেও সে তার সাহায্য গ্রহণ করেতে পাড়ে পারে না। সে শয়তানের কথাই ভাবতে থাকে এবং শয়তানের কথাই বদ্ধমূল হয়ে শয়তানের সিদ্ধান্তের উপরেই থাকে। সে আর কালেমা বলতে পারেনা। এরপর আজরাইল আঃ তার কাছে ভয়ংকর রূপ নিয়ে এসে দাঁড়ায়। এমন রূপ নিয়ে এসে দাঁড়ায় যে উক্ত পাপিষ্ঠ ব্যক্তি আজরাইল আঃ সালামের রূপ দেখে তার অন্তর সুখে যায় এবং ভয়ে তার কপালে আর ঘাম ঝরে না অর্থাৎ ঘাম সুখে যায়। ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে যায়। তখন আজরাইল আঃ তাকে বলে ধমকে সুরে বলে এই কুলাঙ্গার আত্মা বের হয়ে আয়। তখন আত্মা একথা শুনে সে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে দৌড়াতে থাকায় এবং লুকাইতে থাকে। এরপর আজরাইল আসলাম তাকে বিভিন্ন রকমের কসরত করে আত্মা বের করে আনে। হাদিস গ্রন্থে রয়েছে তখন আজরাইল ইসলাম আত্মাকে এমন কষ্ট দিয়ে বের করে আনে যেমন কোন ছাগলকে যদি জীবন্ত চামড়া ছিলে ফেলা হয় যে পরিমাণ কষ্ট হয় না কেন তার চেয়েও একশ গুণ বেশি কষ্ট হয়। এত কষ্ট দিয়ে তার আত্মাকে বের করে নিয়ে আসে একটা ময়লাযুক্ত কাপড়ে নিয়ে যায় আজরাইল আলাইহি সালাম। এরপর দৃষ্টি যতদূর যায় ততদূর তাড়ানো অবস্থায় ৫০০ ফেরেশতার কাছে সেই অভীষ্ট ব্যক্তির আত্মা দেয়। তখন তারা এই পাপিষ্ট আত্মাকে ধিক্কার দিতে থাকে এবং প্রথম আসমানে নিয়ে যায়। প্রথম আসমানে গেটে যাওয়ার পর সেখানে দারোয়ান বলে এটা কোন পাপিষ্ঠ আত্মা নিয়ে এসেছ যা গন্ধ বের হচ্ছে। তখন তার পরিচয় দেওয়া হয় এবং বলা হয় গেট খুলে দেওয়ার জন্য কিন্তু মহান আল্লাহ তা'আলা তো সবকিছুই জানেন তিনি তাৎক্ষণাৎ প্রথম আসমানে গেটে দারোয়ানদের নিষেধ করে দেয় যে এই ব্যক্তির আত্মা উপরে আসবে না অর্থাৎ তোমরা গেট খুলবা না এই ব্যক্তির আত্মা সিজ্জিনে চলে যাবে। এই ব্যক্তির আত্মা সিজ্জিনের খাতায় নাম লেখা হয়েছে। তখন তার আত্মা আর উপরে না নিয়ে সিজ্জিনে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর যখন লাশ গোসল করানোর জন্য ঘরের মধ্যে থেকে বের করা হয়। তখন সে বলে আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো? এরপর তাকে গোসল করানো হয় জানাজা কাপড় পড়ানো হয় তারপর খাটের উপর রাখা হয় এরপর চারজন সেই খাট নিয়ে যায় জানাজা পড়াতে। এরপর জানাজা পড়ার পর তাকে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। আর প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সে বলতে থাকে তোমরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো আমি একা যাবো না তোমাদের সাথে যেতে হবে তখন তাদের সাথে সাথে যাওয়া সে মনে করে এরা হয়তো আমার সঙ্গী হবে। কিন্তু কবে যেই নামানো হয় তখন তিন ব্যক্তি থাকে তখন সে মনে করে এই তিনজন হয়তো আমার সাথে যাবে। এরপর দুজন উঠে আসে তখন মনে করে এই এক ব্যক্তি হয়তো আমার সাথে যাবে। যখন শেষ ব্যক্তি উঠে আসে তখন সে কান্না করতে থাকে যে আমাকে কোথায় রেখে যাচ্ছ আমি এই অন্ধকার ঘরে থাকতে পারবো না। এরপর তাকে দাফন করা সম্পূর্ণ করা হয় এবং 40 কদম দুই আশা পর্যন্ত মানুষের পায়ের আওয়াজ শুনতে পায়। এরপর আল্লাহর হুকুমে সেই আত্মাকে তার দেহে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। তাকে তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয় তোমার রব কে? তোমার নবীকে? তোমার দ্বীন কি ছিল? সে প্রত্যেক ক্ষেত্রে বলতে থাকে আমি জানিনা, আমি জানিনা, আমি জানিনা। তখন সোয়াল জয়াব শেষ হওয়ার পর তাকে কেয়ামত পর্যন্ত সময় শুধু আজাবে আজাবে গ্রেফতার করা হবে কখনোই আজাব কম করা হবে না সে শাস্তি ভোগ করতেই থাকবে। তাই আসুন আমরা আজকে হতে আমাদের মন্দ কর্মসমূহ হতে তওবা করি ভালো হয়ে যায় কারণ কবরে তিনটি প্রশ্নের উত্তর আমাকে দিতে হবে আর সেই তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য আমার মন্দ অভ্যাসগুলো পরিত্যাগ করি এবং ভালো অভ্যাসগুলো গ্রহণ করি। আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।





Comments