বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি বারকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ আজকে আমি রসায়নের একটি নতুন ম্যাজিক নিয়ে হাজির। এই পোস্টটি আপনাদের সকলকে স্বাগতম।
জেনে নেই রঙে রঙিন দুধের ম্যাজিক!!!
আমরা এক বাটি দুধের মধ্যে কয়েক ফোঁটা রঙ দিলে দেখতে পাই রঙটা ছড়িয়ে গিয়ে দুধটা রঙিন হয়ে উঠার কথা। আর যদি রঙটা ছড়িয়ে না গিয়ে দুধের মধ্যে সুন্দর একটা মোজাইকের মতন নকশা তৈরি করে তবে বিষয়টা ভারী মজার তাই না? এক বাটি দুধের মাঝে আপনি একের পর এক বিভিন্ন রঙ দিয়ে যাচ্ছেন,আর আপনা আপনি তৈরি হয়ে যাচ্ছে অপূর্ব বা মনোরোম একটি নকশা। আমরা এ ঘটনাটি কেন ঘটে তাশিখে নেই এই ছোট্ট ম্যাজিক ট্রিক, যা দেখে সবাই তাক লাগিয়ে যাবে আর বলাই বাহুল্য পুরোটাই হচ্ছে বিজ্ঞানের খেলা।
বিজ্ঞান মানেই কি কেবল ভারী ভারী বইয়ের মাঝে থাকা দুর্বোধ্যনিয়মনীতি? বিষয়টি এমন নহে।আমরা সাধারণ কিছু উপাদান দিয়ে আমরা নিজেই তৈরি করতে পারি মজাদার সব বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা। আর এই এই ম্যাজিকটি দেখাতে লাগবে হলোঃ
১-একটা বাটি।
২-কয়েক প্রকার ভালো মানের ফুড কালার ।
৩-এক কাপ খাঁটি দুধ (পূর্ণ ননীযুক্ত হতে হবে)
৪-বাসনপত্র পরিষ্কার বা মাজার জন্য তরল সাবান।
কিভাবে প্রক্রিয়াটি করতে হবেঃ
১_কিছু দুধ বাটিতে ঢেলে নিতে হবে। খুব বেশি দরকার নেই শুধু মাএ বাটিতে দুধের একটা স্তর থাকলেই হবে।
২_এখন প্রতিটি রং থেকে ৬/৭ ফোঁটা করে নেই এবং তার সাথে ৫/৬ ফোঁটা করে তরল সাবান মিশিয়ে নেই।
৩_অতঃপর নিজের ইচ্ছামত দুধের বিভিন্ন জায়গায় এই সাবান মেশানো রঙ ফোঁটায় ফোঁটায় রোগ করতে থাকি। সামান্য ফাঁকে ফাঁকে রং কি ফেললে ভালো হয়। এতে নকশা সুন্দর হয়। এবার আমরা লক্ষ্য করে দেখতে পাই,রঙ গুলো মোটেও মিশে যাচ্ছে না একে অন্যের সাথে। বরংচ বিভিন্ন ধরনের সুন্দর সব নকশা তৈরি হয়েছে।
ব্যাখ্যাঃ
এই এক্সপেরিমেন্ট সুন্দর মজাদার বিভিন্ন রকমের নকশা তৈরির কারণটা হলোঃ এই এক্সপেরিমেন্টে দুধ এবং তরল সাবান ব্যবহার করা হয়েছে কারণ দুধের ভেতরে রয়েছে ফ্যাট বা চর্বির কণা। আর সাবানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল কাজ হলো এই চর্বিকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেওয়া। আর তখন দুধের মধ্যে সাবান দেওয়া হয় তখন সাবান দ্রুতগতিতে চর্বিকে ভেঙে ফেলতে শুরু করেএবং চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সাবান এই কাজটা করতে গিয়েই নিজের পথে থাকা রঙের কণাগুলোকেও ছড়িয়ে দেয়। তবে মজার বিষয় হলো রঙ গুলো এলোমেলো ভাবে না ছড়িয়ে সাবান থাকার কারণে সুন্দর ভাবে ছড়িয়ে সুন্দর নকশা তৈরি করে।
সতর্কতা হলোঃ এই রঙ্গিন দুধ যে ব্যবহার করা হলো তা কিন্তু খাওয়া যাবে না অবশ্য অবশ্যই পরীক্ষার পরে ফেলে দিতে হবে। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই কামনায় আজকে বিদায়, আল্লাহ হাফেজ।


