বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
আচ্ছালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আপনারা সবাই কেমন আছেন?আশা করি আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন।আমিও আপনাদের দোয়ায় ও আল্লাহর রহমতে ভাল আছি।
আজকে একটি ইসলামিক গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করবো ইনশাআল্লাহ। এই পোস্টে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।
আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যে, হযরত উমার (রা) তাঁর নিজ পুত্র আবূ শাহমাকে ব্যভিচারের অপরাধে ১০০ বেত্রাঘাত করেছিলেন। এর ফলে পুত্রের মৃত্যু হয়েছিল। এই ব্যভিচার উদঘাটন, স্বীকারোক্তি, শাস্তি, পিতা-পুত্রের কথাবার্তা ইত্যাদি নিয়ে লম্বা চওড়া কাহিনী বলা হয়ে থাকে, যা শুনলে সাধারণ শ্রোতাগণের চোখে পানি চলে আসে। সকল মুহাদ্দিসগণ একমত যে, এগুলো ভিত্তিহীন মিথ্যা বানোয়াট গল্প। ইবনুল জাওযী বলেন, ‘‘সাধারণ শ্রোতাদেরকে কাঁদানোর জন্য এবং নিজের ব্যবসা ঠিক রাখার জন্য জাহিল ওয়ায়িযগণ এগুলো বানিয়েছে।’’
ইসলামিক ইতিহাসে পাওয়া যায় যে,হযরত উমারের পুত্র আব্দুর রাহমান আবূ শাহমা মিশরের সেনাবাহিনীতে যুদ্ধরত ছিলেন। কোন একদিন তিনি নাবীয বা খেজুর ভিজিয়ে তৈরি করা ‘শরবত’ পান করেন। কিন্তু সেই খেজুরের শরবতে মাদকতা এসে গিয়েছিল, ফলে আবূ শাহমার মধ্যে মাতলামি আসে।তখন তিনি মিশরের প্রশাসক আমর ইবনুল আস (রা)-এর কাছে আগমন করে বলেন, আমি মাদক দ্রব্য পান করে ফেলেছি, কাজেই আপনি আমাকে আপনি মাদক পানের শারীয়হ নির্ধারিত শাস্তি (বেত্রাঘাত) প্রদান করুন। হযরত আমর (রা) তাকে গৃহাভ্যন্তরে বেত্রাঘাত করেন। হযরত উমার (রা) এই ঘটনা জানতে পেরে আমরকে (রা) তিরস্কার করেন এবং বলেন যে, সাধারণ মুসলিম নাগরিককে যেভাবে জনসমক্ষে শাস্তি প্রদান করা হয়, আমার পুত্রকেও সেভাবে শাস্তি প্রদান করা উচিত ছিল। যখন আবূ শাহমা মদীনা ফিরে গেলে তিনি নিজে পুনরায় তাকে শাস্তি প্রদান করেছিলেন এবং এর কিছুদিন পরে আবূ শাহমা ইন্তেকাল করেন।
ইতিহাসকে বিকৃত করা কঠিন অন্যায় কাজ। এহেন গহিত কাজ হইতে আমরা সবাই বেচেঁ থাকি।আল্লাহ হাফেজ।


