বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ।
আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ আজকে আমি গণহিস্টেরিয়া নামক বিরল রোগ নিয়ে কথা বলব। প্রথমে আমরা এ রোগ কোথায় কিভাবে দেখা মেলে এবং কি কারনে হয় এবং কোথায় হয়েছিল কিনা সেই ইতিহাস নিয়ে আগে কথা বলবো। ইনশাআল্লাহ।
দুটি জ্বলন্ত উদাহরণ যেমনঃ-২০১৩ সালে বাংলাদেশের গাজীপুরের এক ফ্যাক্টরির প্রায় ৩০০০ গার্মেন্টস কর্মী কর্মবিরতি ঘোষণা দিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিল তারা । তারা বেতন বৃদ্ধি কিংবা বকেয়া বেতন আদায়ের দাবিতে বা কোন প্রকার দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল না। তাদের আন্দোলনের কারণ হলো তাদের ফ্যাক্টরির ‘মহিলা টয়লেটে’ ভূতের উপদ্রব হয়েছিল! তারা অনেকেই বলেছিলো যে , একটা ভয়ংকর রাগী ভূত নাকি মহিলা টয়লেটে ঢুকে সেই টয়লেটে আগত মহিলাদের উত্যক্ত করছিল প্রতিনিয়ত । ঐ ফ্যাক্টরির কর্তৃপক্ষকে বরংবার জানানোর পরেও এই ‘ইভ টিজার’ ভূতের বিরুদ্ধে তারা কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এমনকি কোন হুজুর বা কবিরাজ অথবা একটা ওঝা ডেকে ঝাড়ফুঁক করানোরও প্রয়োজনবোধ করেনি কর্তৃপক্ষকে। এই কারনেই প্রায় ৩০০০ শ্রমিক রাস্তায় নেমে দাঙ্গা-হাঙ্গামা আগুন এবং গাড়ি ভাংচুর শুরু করলো! পরে অবশ্য দাঙ্গা পুলিশ দিয়ে বহু কষ্টে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছিল।
এমনই আর একটা ঘটনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় যে, চির স্বাধীন দেশ থাইল্যান্ডের ফুকেট প্রদেশের পাতং নামক একটি এলাকায়। সেখানে একটি স্কুলে একসাথে ২২ জন ছাত্রছাত্রীকে মেডিকেলে ভর্তি করানো হয়েছিল কারণ তারা সবাই একটা মহিলার অশরীরি প্রেতাত্মাকে দেখতে পেয়েছিল। তবে ঘটনা দুটির একটি ঘটনার সুন্দর সমাধান হয়েছিল সেটা হল বাংলাদেশের উক্ত ফ্যাক্টরির ঘটনাটি রং। বাংলাদেশের ঐ ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ বা মালিক পরে কবিরাজ বা হুজুর দিয়ে তাবিজ-কবজ দিয়ে বাথরুম বন্ধ করে দিলে ষ ঘটনাটির সুন্দর সমাধান হয়ে যায় কিন্তু থাইল্যান্ডের ঐ ঘটনার সুরাহা কি হয়েছিলো তা আর পরে জানা সম্ভব হয় নাই।
উভয়ক্ষেত্রেই যে ঘটনাটা ঘটেছিলো তার আসল রহস্য হলোঃ- আসলে সবাই গণহিস্টেরিয়ার রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। এই গণহিস্টেরিয়ার রোগের রোগের অবতারণা বা ঘটনা ঘটে শুধুমাএ যেখানে সবাই প্রচন্ড রকমের মানসিক চাপে থাকে। বাংলাদেশের যে ঘটনা ঘটেছিল সেই ফ্যাক্টরিতে 24 ঘন্টার প্রায় ১২-১৫ ঘন্টা শিফটিং ডিউটির সিস্টেম এবং এর জন্য। দ্বিতীয় ঘটনাটি যা থাইল্যান্ডের ঘটেছিল। সেই ঘটনার কারণ হলো ঐ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেয়া কঠোর নিয়ম-কানুনের জন্যে। এই অস্বাভাবিক বা মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে শুরু হয় মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব এবং হঠাৎ করে মেজাজ চড়ে যাবার মত উপসর্গের এবং সেই সাথেই যোগ হয় এক মুঠ ধর্মীয় এবং সামাজিক বিশ্বাস, বহির্জগত হতে বিচ্ছিন্ন এক কর্মপরিবেশ আর এক চিমটি গুজব ও কানকথা। অতঃপর ভালোমত ঘুঁটা দিলে যে জিনিসটা দাঁড়ায় সেটারই নাম হলো গণহিস্টেরিয়া।
সৌভাগ্যক্রমে পরবর্তীতে ওই ফ্যাক্টরিতে এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের থেকে মানসিক চাপ অনেক কমে যায় ফলে সমস্যা সমাধান হয়ে যায় তবুও কর্তৃপক্ষ তাবিজ কবজ ও তাবিজ দিয়ে ঐ ফ্যাক্টরির বাথরুম বন্ধ করেই রক্ষা পাওয়া গিয়েছিল। এর জন্য কোন প্রকার পশু কিংবা নরবলি দেয়ার প্রয়োজন পড়েনি!
আজকের মত এখানেই শেষ করছি পরবর্তীতে আরো নতুন সমস্যার সমাধান নিয়ে হাজির হব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ হাফেজ।


