বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু ।
প্রিয় সাথী বৃন্দ আজকে আমি আপনাদের সামনে রসায়ন বিজ্ঞানের কিছু আশ্চর্য বিষয় সম্পর্কে কথা বলবো ইনশাআল্লাহ।
হাসির কারন রসায়ন, কান্নার কারণ রসায়ন, নারীর ভালোবাসার কারণ রসায়ন, কামড়ের যন্ত্রণা রসায়ন। কথাগুলো শুনে হয়তবা আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে রসায়নের হয়তোবা রস আছে তবে হাসির কারণ, কান্নার কারণ, নারীর ভালোবাসার কারণ এবং কামড়ের যন্ত্রণার কারণ ইত্যাদি কিভাবে কারণ হতে পারে "রসায়ন" তাহা বুঝে আসেনা। তাহলে বোঝার জন্য আসুন আমরা প্রথমে আলোচনা করি রসায়ন কিভাবে আমাদের হাসায়ঃ- জেনে নেই রসায়ন কিভাবে হাসায়!
আপনার আমার কি কখনও সর্ব সময় হাসি এসে থাকে? উত্তর হবে না? কারণ আমাদের মনে কখনও দুঃখ, কখনও বেদনা, কখনও সুখ ইত্যাদি নিয়ে আমাদের জীবন প্রতিনিয়ত কেটে যায়। আমাদের যখন সুখ আসে, তখন হয়তোবা আমাদের হাসি লেগে থাকে আর যখন দুঃখ আসে, কষ্ট আসে, বেদনা আসে, তখন আমাদের মুখে হাসি থাকে না। তবে রসায়ন তার রস দিয়ে যে কোনো মানুষকে যে কোনো পরিস্থিতিতে, যে কোনো দুঃখে, যে কোনো বেদনাতেই হাসাতে বড়পটু । রসায়নের রস যে কেউকে যে কোনো সময় হাসাতে পারে, কথাটা হয়তোবা আপনাদের সহজে বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। রসায়ন যে কাউকে হাসাতে পারে তাহা নিচে আলোচনা করা হলো।
রসায়নের এ বিশেষ রসের নামটি হলো ‘হাসি বায়ু’ বা ‘লাফিং গ্যাস’। কথা শুনে আশ্চর্য বা হাসবেন না। সত্যি এবং বাস্তব কথা হলো ‘হাসি বায়ু’ এর প্রভাবে সবাই হাসতে বাধ্য হবেনই। এই বায়ুটি হলো বর্ণহীন কিন্তু হাসির গ্যাসটি মৃদু মিষ্টি গন্ধ আছে। গ্যাসটির রাসায়নিক নাম নাইট্রাস অক্সাইড বা সংক্ষেপে N2O । এই হাসির বায়ু নিঃশ্বাসের সাথে নাক দিয়ে অল্প পরিমাণ গ্রহন করলেই হাসির উদ্রেক বা সৃষ্টি হয়। নিঃশ্বাসের মাধ্যমে যখন এই লাফিং গ্যাসটি আমাদের ফুসফুসে প্রবেশ করে তখন তা রক্তের মাধ্যমে দ্রুত আমাদের মস্তিষ্কে পৌঁছায় এবং ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্তের সাথে মিশে যায় তবে হিমোগ্লোবিনের সাথে কোনোরকম বন্ধনে আবদ্ধ হয় না। আর এই জন্যই নাইট্রাস অক্সাইড বা লাফিং গ্যাস আমাদের দেহে এর স্থায়িত্ব অল্প সময়ের জন্য হয়। এই নাইট্রাস অক্সাইড মস্তিষ্কে পৌঁছায়ে N-methyl-D-aspartate receptor (NMDA রিসেপটর) এ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে থাকে এবং একই সাথে Parasympathetic GABA (gamma-aminobutyric acid) রিসেপটরকে দ্রুত উত্তেজিত করে তোলে। এই উত্তেজিত Parasympathetic GABA রিসেপটর কিছু নিউরোট্রন্সমিটার নি:স্বরণ করে থাকে ফলে মানুষের হাসির উদ্রেক ঘটে থাকে।
ক্লোরোর্ফম আবিষ্কারের পূর্বে এই লাফিং গ্যাস কে মৃদু চেতনানাশক হিসাবে ব্যবহার করা হতো। এই লাফিং গ্যাস এর কাজ মূলত ব্যাথা কমানো হলেও এটি মানুষের মনের উপর প্রভাব ফেলে এবং চনমনে ভাব তৈরী করে বলে একে আদর করে নাম দেওয়া হয়েছে ‘লাফিং গ্যাস’। এই লাফিংগ্যাসটিকে ১৭৭৫ সালে জোসেফ প্রিস্টলী প্রথম আবিষ্কার করেন এবং স্যার হামফ্রে ডেভীই সর্বপ্রথম এই গ্যাস নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানে সময়ে নাইট্রাস অক্সাইডের সাথে অল্প পরিমাণ অক্সিজেন যুক্ত করে একে নেশাদ্রব্য হিসাবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে এই হাসির বায়ু নিঃশ্বাসের সাথে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে এবং অতিরিক্ত গ্রহণ করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তবে ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, ১৭৯৯ সালে ব্রিটেনে লাফিং গ্যাস পার্টির আয়োজন নিয়মিত করা হতো। একটা আবদ্ধ রুমে গ্যাস ভরে সেখানে উচ্চ ও মধ্যবিত্তরা আনন্দের এবং বিনোদনের জন্য হাসহাসি করত, কারন শুধু মাঝে মানসিক প্রশান্তির জন্য। সে সময়ের বিখ্যাত অভিনেতা চার্লি চাপলিন অভিনিত ‘লাফিং গ্যাস’ নামে সিনেমাও তৈরী হয়েছিল।


