গাজরের ঔষধি গুনাগুন ও উপকারিতা

alim236

বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুল্লাহ।

প্রিয় ব্লাট সাথী বৃন্দ, আশা করি আপনারা সবাই আল্লাহর কৃপায় ভাল আছেন এবং আমিও আল্লাহর রহমতে তার অশেষ কৃপায় ভাল আছি।

আজকে আমি এই পোস্টে গাজরের ঔষধি গুনাগুন ও উপকারিতা নিয়ে আজকের আয়োজন। এই পোস্টে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।

 

গাজর অত্যন্ত জনপ্রিয় সবজি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকমের গাজর দেখা যায় যেমনঃ- লাল, সাদা, হলদে বর্ণের গাজর। আমাদের দেশে জন্মে কমলা রঙের গাজর দেখা যায় । এই গাজর শীতকালীন সবজি। গাজর দেখতে যেমন, সুন্দর ও আকর্ষণীয় তেমনি খেতেও সুস্বাদু হয়ে থাকে । এছাড়াও এটি পুষ্টিতেও ভরপুর। গাজর এত সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন হওয়ার বড় কারণ এর মধ্যে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন।

 

ব্যবহারঃ-

সবজি হিসেবে গাজরের ব্যবহার ব্যাপক রয়েছে। এই গাজর মাছ-গোশতের সঙ্গেও খাওয়া যায়। এই গাজরের হালুয়া অনেকের কাছেই অতি প্রিয় একটি হালুয়া। সালাদ হিসেবে এই গাজর বেশ জনপ্রিয়। এই গাজর সামান্য লবণ মিশিয়ে এটি কাঁচাই খাওয়া যায়। এই গাজর পুষ্টিসমৃদ্ধ এ সবজিটির বাজারমূল্য মৌসুমের সময় থাকে একেবারেই সস্তা থাকে। যদি আমরা সবাই এর উচ্চ পুষ্টিমান জানা থাকলে এর বাজারমূল্য চড়ে যেতো বহুগুণ। নিচে আমরা গাজরের প্রতি ১০০ গ্রাম আহার উপযোগী অংশে পুষ্টিমান উল্লেখ করিলামঃ-

 

পুষ্টিমানঃ-

 * খাদ্য শক্তি- ৪৮ ক্যালোরি

* শর্করা- ১০.৬০ গ্রাম

* খনিজ পদার্থ- ১.১০ গ্রাম

* ক্যালসিয়াম- ৮০.০০ মি. গ্রাম

* ফসফরাস- ৫৩০.০০ মি. গ্রাম

* লৌহ- ২.২০ মি. গ্রাম

* ক্যারোটিন- ১৮৯০.০০ মাইক্রোগ্রাম

* ভিটামিন বি ১ - ০.০৪ মি. গ্রাম

* ভিটামিন সি- ৩.০০ গ্রাম

 

আমরা অন্যান্য সবজির তুলনায় গাজর অত্যন্ত পুষ্টিকর। যেমন, মুলার চেয়ে গাজরে ফসফরাস আছে ২৬ গুণ, ক্যারোটিন প্রায় ৬৩০ গুণ।

 

 

গাজরের উপকারিতাঃ-

 

১. চোখের মহৌষধঃ- গাজরের এই আকর্ষণীয় বর্ণের মধ্যেই রয়েছে এর ঔষধি গুণ। গাজরের মধো বিটা ক্যারোটিন নিজে নিজেই ভিটামিন-এ’তে রূপান্তরিত হয়ে থাকে যা দেহের জন্য খুবই উপকারী। এই বিটা-ক্যারোটিন আমাদের দেহের ভেতরে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে রেটিনল বা ভিটামিন-এ’তে রূপান্তরিত হয়ে আমাদের দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে । আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার শিশু অন্ধ হয়ে যায় ভিটামিন-এ’র অভাবে তাই শিশুকে প্রতিদিন ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। এই গাজর ক্যারোটিনের রাজা, যা ভিটামিন-এ’র গুরত্বপন উৎস। তাই আমাদের শিশুদের প্রতিদিন অন্তত মৌসুমের সময় কিছু গাজর খাওয়ানো উচিত।

 

২. হজমশক্তি বৃদ্ধি করেঃ- গাজরের রস আমাদের লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়, ফলে আমাদের হজম শক্তির উন্নতি হয়ে থাকে ।

 

৩. হাড়ের রোগ প্রতিরোধে সহায়কঃ-আমাদের রোগ প্রতিরোধ গাজরের ভুমিকা অন্যান্য যেমনঃ-অস্টিওপরোসিস, আথ্রাইটিস ইত্যাদি ।

 

৪. ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়কঃ- এই গাজরে রয়েছে ভিটামিন-ই, যা ক্যান্সার প্রতিরোধী হয়ে থাকে সেই কারনে গাজর ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক হয়ে থাকে । এই গাজরে বিদ্যমান বিটা-ক্যারোটিন আমাদের ত্বককে সূর্যের অতি বেগুণি রশ্মির হাত থেকে সুরক্ষা করে থাকে। এছাড়াও এটি ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে।

 

৫. বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করেঃ- আমাদের বয়সের ছাপ কমাতে গাজরের রস সাহায্য করে থাকে । এই গাজর বিটা- ক্যারোটিন সমৃদ্ধ, যা আমাদের শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং কোষের ক্ষয় রোধে সহায়ক। সেই কারনে দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়াকে রোধ করে থাকে ।

 

৬. ওজন কমায়ঃ-এই গাজরের ক্যালোরির পরিমাণ যৎসামান্য, যা ওজন কমাতে বেশ সহায়ক হয়ে থাকে ।

 

৭. কোলস্টেরল কমায়ঃ- গাজরের পটাসিয়াম বিদ্যমান, যা কোলস্টেরল কমাতে সাহায্য করে থাকে ।

 

৮. চর্বি কমায়ঃ- গাজরের রস লিভারের চর্বি ও পিত্ত কমাতে সাহায্য করে থাকে ।

 

৯. ত্বকের লাবণ্য বাড়ায়ঃ- গাজরের রস ত্বকের লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা বাড়ায় এছাড়াও এটি ত্বককে সুরক্ষা করে।

 

১০. ব্যথা ও জ্বালাপোড়া কমায়ঃ- আমাদের বয়স জনিত যে কোনো ব্যথা-বেদনা ও শরীরের জ্বালাপোড়া কমাতে গাজরের রস অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

 

 

এই গাজর আল্লাহর এক অপূর্ব দান। এই গাজর এর উপকারিতার শেষ নেই। তাই আমরা সুস্থ নীরোগ থাকতে যদি চাই, তবে বেশি করে গাজর খাব।

Comments