বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই ভাল আছেন।আমিও আল্লাহর অশেষ কৃপায় ভাল আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজকের পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো একটি ইসলামিক শিক্ষনীয় গল্প। এই পোস্টে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।
খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) ও তাঁর মোমবাতি : যে কোনো এক রাতে হযরত ওমর রাদিআল্লাহু মোমবাতি জ্বালিয়ে দেশের কোনো গুরত্বপূন কাজ সম্পাদন করছিলেন। ঠিক এমন সময়ে হযরত ওমরের (রাঃ) পরিবারের কিছু সদস্য তাঁর কাছে আগমন করলেন।
কিন্তু এখানে মজার বিষয় হলো, ঠিক তখনই হযরত ওমর রাদিআল্লাহু তাআ'লা তার মোমবাতি টি নিভিয়ে দিলেন বা নিভিয়ে ফেললেন এবং সাথে সাথেই আরেকটি মোমবাতি জ্বালিয়ে দিলেন। এরপর অতিথিদের খোঁজ খবর দিতে এবং নিতে লাগলেন।
তখন মেহমানদের মধো থেকে এক মেহমান কৌতূহলী হয়ে একব্যক্তি ওমর রাদিআল্লাহু তাআ'লাকে জিজ্ঞেস করলেন যে হে আমিরুল মুয়মিনিন, আপনি আমাদেরকে দেখ কেন আগের মোমবাতিটি নিভিয়ে দিলেন এবং নতুন করে অন্য একটি মোমবাতি জ্বালালেন?
তখন খলিফা হজরত ওমর (রাঃ) বলল আগের মোমবাতি টি ছিল রাষ্ট্রিয় সম্পদের এবং তা দিয়ে আমি রাষ্ট্রিয় কাজ করতেছিলাম।
কিন্তু তোমরা আমার আত্মীয় স্বজন তাই তোমাদের সাথে আমার ব্যক্তিগত অনেক কথাই হবে। আমার নিজের জন্য আমি জনগনের কোন সম্পদ ব্যায় করতে পারিবোনা কারন এসব সম্পদের বিষয়ে আল্লাহর কাছে আমাদেরকে জ্ববাবদেহি করতে হবে। সেই কারনে আমি তোমাদেরকে দেখে আমি ঐ মোমবাতি টি জ্বালালামযা আমার ব্যাক্তিগত টাকায় কেনা।
তখন হযরত ওমরের এমন জবাবে তার মেহমানরা অভাক হয়ে গেলেন কারন তাঁরা এসেছিলেন যে, আত্মীয়তার সুযোগে কোন রাষ্টীয় সুবিধা লাভ করার জন্য। কিন্তু তাঁর এই জবাবে তার মেহমানরা হতভম্ব হয়ে আর কোনো প্রকার আবদার রাখতে পারেনি। কারন সামান্য মোমবাতি নিয়ে খলিফার মধ্যে এত সতর্কতা, এত সাবধানতা, যা দেখে তারা আর কোনো কিছু বলতে সাহস পেলই না।
হযরত ওমর (রাঃ) সামান্য সম্পদের জন্য এত সাবধানতা করতে পারেন তাহলে আমরা কি করিতেছি!!!
আসুন আমরা এই শিক্ষনীয় ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করি। তাহলে আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন সুখময় শান্তিময় হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর হাফেজ।


