থানকুনি পাতার ঔষধি গুনাগুন সমুহ এবং বিভিন্ন উপকার গুলো জেনে নেই?

alim236

বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুল্লাহ।

প্রিয় ব্লাট সাথী বৃন্দ, আশা করি আপনারা সবাই আল্লাহর কৃপায় ভাল আছেন এবং আমিও আল্লাহর রহমতে তার অশেষ কৃপায় ভাল আছি।

আজকে আমি এই পোস্টে থানকুনি পাতার ঔষধি গুনাগুন ও উপকারিতা নিয়ে আজকের আয়োজন। এই পোস্টে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।

আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ- থানকুনি পাতা। আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ হলো থানকুনি পাতা। থানকুনি পাতার ল্যাটিন নাম centella aciatica। গ্রামাঞ্চলে থানকুনি পাতার ব্যবহার আদি আমল থেকেই চলছে। এই থানকুনি পাতা প্রায় গোলাকৃতি পাতার মধ্যে রয়েছে ওষুধি সব গুনগুণ। এই থানকুনি পাতার রস আমাদের রোগ নিরাময়ে অতুলনীয়। থানকুনি পাতার রস প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বহু রোগের উপশম হয়ে থাকে এর ভেষজ গুণ থেকে। আমাদের রোগ নিরাময়ে থানকুনি যথার্থ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। অঞ্চলভেদে এই থানকুনি পাতাকে বিভিন্ন নাম রয়েছে যেমনঃ- আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, থানকুনি, আদাগুনগুনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি, ধূলাবেগুন। তবে বর্তমানে এই থানকুনি নামটি বেশি পরিচিত।

 

বিজ্ঞানীদের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করে দেয় তবে মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে অথাৎ বাড়বেই ইনশাল্লাহ ।

১. চুল পড়ার হার কমেঃ- বিজ্ঞানীদের বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, সপ্তাহে ২-৩ বার থানকুনি পাতা খেলে স্কাল্পের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়ে থাকে । ফলে চুল পড়ার মাত্রা কমতে শুরু করে এবং একেবারে শুন্য পযায়ে নেমে আসে। আমাদের চুল পড়ার হার কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারি যেমনঃ- পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা নিয়ে তা থেঁতো করে তারপর তার সঙ্গে পরিমাণ মতো তুলসি পাতা এবং আমলা মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নেই তারপরে পেস্টটা চুলে লাগিয়ে নিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করে প্রায় ১০ মিনিট পরে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে চুলটা। সপ্তাহে যদি আমরা কম করে ২ বার এইভাবে চুলের পরিচর্যা করলেই দেখবেন কি চমৎকার ফল পাই।

২. টক্সিক উপাদানের অপসারনঃ- আমাদের শরীরে নানাভাবে সারা দিন ধরে একাধিক ক্ষতিকর টক্সিন তৈরি করে যা রক্তে প্রবেশ করে থাকে। এই সব ক্ষতিকর টক্সিন যদি সময় মতে শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে কিন্তু বেজায় বিপদ হতে পারে। আর এই গুরত্বপূন কাজটি করে থাকে থানকুনি পাতা। এক্ষেত্রে আমরা প্রতিদিন সকালে অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেলেই রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানগুলি বেরিয়ে যায় যার ফলে একাধিক রোগ দূরে থাকতে বাধ্য।

৩. ক্ষতের নিরাময়েঃ- এই থানকুনি পাতা আমাদের শরীরে উপস্থিত স্পেয়োনিনস এবং অন্যান্য উপকারী উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আমাদের শরীরে কোথাও কেটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে যদি সেখানে অল্প করে থানকুনি পাতা বেঁটে লাগিয়ে দেই তবে নিমেষে কষ্ট কমে যাবে ইনশাল্লাহ ।

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতিতেঃ- এই থানকুনি পাতা হজম ক্ষমতারও উন্নতি হয়ে থাকে । বিজ্ঞানীদের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান আমাদের হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে ঠিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। যার ফলে আমাদের বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারেই না।

৫. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে:  এই থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিটা ক্যারোটিন,ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ফাইটোকেমিকাল ত্বকের পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের স্কিনের ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং সেই সঙ্গে কম বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।

৬. আমাশয়ের দূরীকরণঃ- আমরা যদি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে থানকুনি পাতা খেতে শুরু৷ করি তাহলেই কেল্লাফতে!!!

৭. পেটের ক্রিমির প্রকোপ কমাতেঃ- আমরা যদি অল্প পরিমাণ আম গাছের ছালের সঙ্গে একটা আনারসের পাতা, হলুদের রস এবং পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা ভাল করে মিশিয়ে ভাল করে বেটে নিয়ে এই মিশ্রনটি নিয়মিত খেলে অল্প দিনেই যে কোনও ধরনের পেটের অসুখ সেরে যাবে। এমনকি সেই সঙ্গে ক্রিমির প্রকোপও কমে ইনশাআল্লাহ ।

৮. কাশির কমাতেঃ-  আমরা ২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে কাশি কমে যাবে এবং যদি এক সপ্তাহ খেতে পারি তাহলে তো কথাই নেই অথাৎ কাশির কোনও চিহ্নই থাকবে না।

৯. জ্বরের কমাতেঃ- সময় আমরা যারা প্রায়শই জ্বরের ধাক্কায় কাবু হয়ে থাকি তাদের জন্য তো থানকুনি পাতা খাওয়া মাস্ট! আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে উল্লেখ্য যে জ্বরের সময় ১ চামচ থানকুনি এবং ১ চামচ শিউলি পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে অল্প সময়েই জ্বর সেরা যায়। সে

১০. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতেঃ-আমরা অসময়ে খাওয়ার কারণে গ্যাস্ট্রিক হয়ে থাকে। জালে? কোন সমস্যা নেই আমরা থানকুনি পাতা খুজে আনবো এবং খাবো ফলে সমস্যা সমাধান। 

আসুন আমরা সবাই আমাদের আশেপাশে অবহেলায় পড়ে থাকা এই থানকুনি পাতা আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগ থেকে বেঁচে থাকার জন্য কাজে লাগায়। আল্লাহ হাফেজ। 

Comments