মাকড়সার এবং মাকড়সার জাল এর মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন।

alim236

আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত সাথী বিন্দু আপনারা সবাই আল্লাহর অপার মহিমায় আশা করি ভাল আছেন ।আমি আজকে এমন একটা প্রাণী নিয়ে কথা বলবো যে প্রাণীটি নাম আল্লাহতালা কোরআনের মধ্যে তুলে ধরেছেন। আল-কুরআনের 29 নম্বর সূরা। সূরা সূরা আনকাবুত। 

প্রাণীর নাম হল মাকড়সা ,ইহা আর্থোপোডা পর্বের প্রাণী । মাকড়সার109 টি পরিবার এবং চার হাজারের অধিক প্রজাতি রয়েছে।মাকড়সার আটটি সন্ধিপদবিশিষ্ট পা আছে এবং প্রতিটি মাকড়সার ৮থেকে ১০ টি চোখ আছে । এদের দেহ দুই ভাগে বিভক্ত এদের মাথা ও বক্ষ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে সেফালীথোরাক্স অর্থাৎ মস্তক বক্ষ গঠিত হয়।

 মাকড়সা প্রাণীটি যেহেতু শিকারি প্রাণী তাই শিকার ধরার জন্য এরা আট প্রকার জাল তৈরি করে এবং এই আট প্রকার জাল মূলত দুই ভাগে বিভক্ত একটি হলো আঠা যুক্ত জাল অপরটি হলো আঠা মুক্ত জাল। মাকড়সা অনেক চালাক প্রাণী কারণ এর জাল বোনার সময় এরা যেন জালে আটকে না যায় এইজন্য সে জালের ভিতর তার চলাফেরা করার জন্য আঠা মুক্ত সুতা ব্যবহার করে থাকে, রাস্তা তৈরীর জন্য যাতে আঠা যুক্ত জালে আটকে লজ্জা পেতে না হয় তাই এই লজ্জা থেকে বাঁচার জন্য সে এই সুন্দর ব্যবস্থা করে রাখে আমরা এখানে মাকড়সা থেকে শিক্ষা নিতে পারি যে আমরা আমাদের চলার পথে পরিবার থেকে শুরু সমস্ত ক্ষেত্রে যদি একটু সতর্কতার সহিত কথা বলি আচার-ব্যবহার ঠিক করে চলি তবে আমরাও মানুষের মধ্যে লজ্জায় পড়তে হবে না ইনশাল্লাহ। মাকড়সার একজোড়া বিশ্বের থলি আছে তবে সব মাকড়সা বিষাক্ত নহে। রেশম পোকার মতো মাকড়সা রেশম উৎপন্ন করতে পারে। 

আল্লাহতালা কুরআনুল কারীমে মাকড়সার দুর্বল ঘরের কথা দিয়ে আমাদের শেখায় আছেন যে যারা আল্লাহ ভিন্ন অন্য কোন শক্তির কাছে মাথা নত করে তাদের অবস্থা ঠিক মাকড়সার জালের মত সামান্য আঘাতে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় তাই আল্লাহ ভিন্ন অন্য কারো কাছে মাথা নত বা আশ্রয় চাওয়া, সাহায্য প্রার্থনা করা ঠিক মাকড়সার জালের মত হয়ে থাকে যে কোনো সময় তা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে তার কোন অস্তিত্ব থাকবে না কিন্তু যারা আল্লাহর রুজ্জুকে শক্ত করে ধরবে তার কোন ভয় নাই তার কোনো চিন্তা নাই তার রুজ্জু কখনোই ছিন্ন ভিন্ন হবে না। এ দুনিয়াতেও না পরকালেও না আসুন আমরা আল্লাহর রজ্জুকে শক্ত হাতে ধরি। এছাড়াও ঘরের মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমাদের জন্য রয়েছে যা ওই ঘরের মধ্যে সম্পর্কের মধ্যে একটা তথ্য পাওয়া যায় যে স্ত্রী মাকড়সা সুযোগ পেলেই পুরুষ মাকড়শাকে একসময় হত্যা করে ফেলে অর্থাৎ সঙ্গমের পর। এই মাকড়সার ঘরের মধ্যে সম্পর্ক কেমন দুর্বল হলে এই কাণ্ড ঘটে থাকতে পারে ইতিমধ্যে আপনারা হয়তো বা অনুমান করতে পারছেন।

যারা আল্লাহকে রব মানেনা বা মানলেও অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে যেমন মূর্তির কাছে, মাজারের কাছে, পীরের কাছে, তাদের অবস্থা ঠিক মাকড়সার জালের মত এবং মাকড়সা ঘরের মধ্যে সম্পর্কের মতো। তারা সুযোগ পেলে সুযোগ পেলে একে অপরকে ঘায়েল করার চেষ্টা করে এবং বিপদে পড়লে একজন অপরজনকে ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং একজন অপরজনকে সাহায্য করার পরিবর্তে কামনা করে সে বিপদে ধ্বংস হয়ে যাক কিন্তু আল্লাহকে যারা রব হিসেবে মানে, হর্তাকর্তা হিসেবে মানে, প্রভু হিসেবে মানে, তাদের অবস্থা ঠিক বিপরীত। ঈমানদারদের অন্তর আল্লাহর দিকে ঝুঁকে থাকে পক্ষান্তরে কাফির ও মুনাফিকদের অন্তর সৃষ্ট বস্তুর দিকে এবং সৃষ্ট বস্তুর দিকে আকৃষ্ট হয়ে থাকে। সর্বশক্তিমান, সর্বক্ষমতার অধিকারী তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন। তিনি যাদি ইচ্ছা করেন তবে তা দুর্বল বস্তু দ্বারা রক্ষা করতে পারেন তাই দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায় আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সঃ গারে সুর পাহাড়ে এই মাকড়সা জাল এর মাধ্যমে আল্লাহ রক্ষা করেছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ আমরা এই মাকড়সা উপমা থেকে শিক্ষা নেই যে আমরা একমাত্র আল্লাহর নির্দেশিত পথ ,হযরত মুহাম্মদ সাল্লাম এর সুন্নাত এবং পরকাল শান্তিময় জীবন যাপন করতে পারব আল্লাহ হাফেজ। আপনারা আমার এই লেখাগুলো ধৈর্য্য সহকারে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। সবাই আল্লাহর দয়ায় ভাল থাকেন, সুস্থ থাকেন আবার লেখা এই হবে অন্য কোন বিষয় নিয়ে। আল্লাহ হাফেজ।

Comments