বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুল্লাহ।
প্রিয় ব্লাট সাথী বৃন্দ, আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে তার অশেষ কৃপায় ভাল আছি।
আজকে আমি এই পোস্টে বাসক পাতার ঔষধি গুনাগুন ও উপকারিতা নিয়ে আজকের আয়োজন।এই পোস্টে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।
বাসক পাতা হলো এমন একটি ভেষজ উদ্ভিদ যার শুধুমাত্র পাতাই নয়, এর মূল, ফুল, এবং আরও নানা অংশ ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। এই বাসক পাতার গাছ উচ্চতায় তিন থেকে চার ফুট মতো হয় এবং ঘন গুল্মের মতো দেখতে । এই বাসক গাছে থোকা থোকা ফুল হয় এবং বাদামের মতো দেখতে ফল হয়।
বাসক পাতার ঔষধি গুনাগুন ঃ- বাসক পাতার ঔষধিগুণের (Basak Pata Benefits) কথা বলতে গেলেই সবার প্রথমেই বলা যায় যে, বাসক পাতাগুলিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় ওষুধ তৈরিতে। ঔষুধ তৈরি করতে তাজা এবং শুকনো – দু’রকমের বাসক পাতার ব্যবহারই করতে হয়। এই বাসকের পাতায় ভ্যাসিসিন নামে একটি প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে এবং জরুরি কিছু এসেনশিয়াল অয়েলও রয়েছে। বাসক পাতার ব্যবহার সাধারণত সর্দি ও কাশি কমাতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বহুদিনের বুকে জমা কফ তরল করার জন্যও বাসক পাতার রস খাওয়ানোর চলছে অনেকদিন ধরেই। এই বাসক পাতায় থাকা প্রাকৃতিক উপাদানগুলি বুক জমে থাকা কফ দুর করতে সাহায্য করে থাকে।
১। কাশি কমাতে বাসক পাতাঃ- আমাদের সর্দি কাশি কমাতে বাসক পাতার ব্যবহার (Basak Pata Uses) অনস্বীকার্য। যদি আমাদের বহু পুরনো সর্দি বা কাশির সমস্যা থাকে, তবে সেক্ষেত্রে দু-চারটি বাসক পাতা খুব ভাল করে ধুয়ে বেটে নিয়ে তারপর সেই রস যদি নিয়মিত খাওয়া যায়, তাহলে সর্দি বা কাশি উপশম হয়। এক্ষেত্রে আমাদের সবারই জেনে রাখা ভাল যে, বাসক পাতা প্রচন্ড তেতো হয়ে থাকে। কাজেই আমরা এক চামচ মধুর সঙ্গে, এক চামচ বাসক পাতার রস মিশিয়ে, প্রতিদিন সকালে খালিপেটে বেশ কয়েকদিন যদি খাই তবে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই কাশি কমে যাবেই ইনশাআল্লাহ ।
২। যক্ষ্মা রোধে বাসক পাতাঃ- বাসক পাতার ঔষধি গুণ গুলির মধ্যে একটি হলোঃ বাসক পাতা আমাদের যক্ষ্মা বা টিউবারকিউলোসিস রোগ সারাতে সাহায্য করে থাকে। বাসক পাতায় অ্যান্টি-মাইক্রোবাল উপাদান থাকে যা যক্ষ্মা কমাতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও আমাদের ব্রঙ্কাইটিস ও হুপিং কাশির সমস্যা সমাধানেও বাসক পাতা সাহায্য করে থাকে ।
৩। বাতের ব্যথায় উপশম করেঃ- বাসক পাতার ঔষধিগুণ (Bashok Pata) গুলির মধ্যে আরও একটি হলোঃ এই বাসক পাতা বাতের ব্যথাও উপশম করতে সাহায্য করে থাকে। এই বাসক পাতায় অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে যা আমাদের আরট্রাইটিস, বাতের ব্যথা, গাঁটে ব্যথা ইত্যাদি নিরাময় করতে সাহায্য করে থাকে। যদি আমরা এই কয়েকটি বাসক পাতা বেটে তার সঙ্গে হলুদ ও চুন মিশিয়ে লাগালে বাতের ব্যথা কমে যায়।
৪। রক্ত পরিষ্কার করতে বাসক পাতাঃ- আমাদের মধো অনেকেরই মুখে ব্রণ হয় বা পেটে সমস্যা হয় অথবা নানারকম অ্যালারজির সমস্যা হয়ে থাকে। উপরে উল্লেখিত সমস্যাগুলো বেশিরভাগ সময়েই তখন হয়, যখন আমাদের শরীরের রক্ত পরিষ্কার থাকে না। তাই বাসক পাতার নিয়মিত সেবনে আমাদের শরীরের রক্ত পরিষ্কার হয়ে থাকে। এছাড়াও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করতে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতেও সাহায্য করে থাকে ।
৫। জ্বর হলে বাসক পাতা খানঃ- জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা কমাতে এই বাসক পাতা ঔ যথেষ্ট সাহায্য করে। এছাড়াও অনেকসময়েই জ্বরের সঙ্গে সর্দি ও কাশির সমস্যা থাকে। সেক্ষেত্রে এক চামচ মধু, এক চামচ তুলসি পাতার রস এবং এক চামচ বাসক পাতার রস (Basak Pata Benefits) খেলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
৬। শ্বাসকষ্টে বাসক পাতাঃ- বাসক পাতা আমাদের কাশি, সর্দি, ব্রঙ্কাইটিস, হাপানি ইত্যাদি রোগ নিরাময় করতে সাহায্য করে। বাসক পাতার আমাদের শ্বাসনালী প্রশস্ত করতে সাহায্য করে থাকে যার ফলে শ্বাসকষ্ট কমে এবং ব্রঙ্কাইটিস ও হাপানি রোগীদের উপশম পেতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও হাপানির ওষুধ তৈরি করতেও অনেক সময়ে বাসক পাতার ব্যবহার ব্যবহার হয়ে থাকে।
৭। শরীরের নানা ‘দোষ’ কাটাতেঃ- আয়ুর্বেদ মতে আমাদের শরীরের নানা দোষ থাকে যার ফলে আমাদের নানা রকমের শারীরিক সমস্যা ও অসুখ হয়ে থাকে। আয়ুর্বেদ মতে, আমাদের শরীরের সুস্থ থাকা নির্ভর করে বায়ু ও পিত্ত এবং কফ, এই তিনটি বিষয়ের ভারসাম্যের উপর। এই তিনটার মধ্যে কোনওটার মাত্রা যদি বেড়ে যায়, তা হলেই দেখা দেয় নানা প্রকার সমস্যা। তবে বাসক পাতার নিয়মিত সেবন করলে আমাদের শরীরে উপরোক্ত তিনটি বস্তুর ভারসাম্য বজায় থাকে এবং আমাদের শরীর সুস্থ থাকে।
৮। মাংসপেশিতে টান ধরলেঃ- অনেক সময়ে ব্যায়াম করতে গিয়ে অথবা অন্য কোনও কারণে মাংস্পেশিতে টান ধরে থাকে। সেক্ষেত্রে যদি আমরা চুন হলুদ একএে করে তার সঙ্গে বাসক পাতা বেটে মিশিয়ে বেশ কিছুক্ষন মালিশ করা হয়, তাহলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
৯। গলা ব্যথা কমাতেঃ- অনেক সময়ে নানা কারণে আমাদের গলা ব্যথা হতে পারে। তবে তখন যদি কষ্ট করে আমরা একটু বাসক পাতার রস খেয়ে নেই তবে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
১০। জন্ডিস কমাতে সাহায্য করেঃ- আমরা যদি আধ চামচ বাসক ফুলের রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে প্রতিদিন খেলে পেটের সমস্যা দূর হবে ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও আমাদের লিভার মজবুত হয় এবং জন্ডিস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব ।
১১। মাথার উকুন তাড়াতেঃ- যদি আমাদের মাথায় উকুন থাকে, সেক্ষেত্রে আমরা কয়েকটি বাসক পাতা বেঁটে নিয়ে সেই রস চুলের গোড়ায় গোড়ায় লাগিয়ে দিলে আধ ঘন্টা পর চুল ধুয়ে নেই তাহলে কিছুদিনের মধ্যেই উকুনের সমস্যা দূর হবে ইনশাআল্লাহ।
১২। প্রস্রাবের জ্বালা নিরাময়েঃ- অনেকেরই প্রস্রাবের সময়ে জ্বালা হয়ে থেকে সেক্ষেত্রে আমরা বাসক ফুল বেটে মিছরির জলে মিশিয়ে নিয়মিত কিছুদিন খেলে উপকার পাওয়া যায়।
১৩। দাদ রোগঃ- আমাদের মধ্যে অনেকেরই নানা রকমের চর্মরোগে ভুগে থাকি তার মধ্যে দাদ অন্যতম। সেক্ষেত্রে আমরা দশ-বারোটি কচি বাসক পাতা এক টুকরো হলুদের সঙ্গে বেটে দাদের উপরে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।
১৩। শরীরের দুর্গন্ধ দুর করতেঃ- আমাদের মধ্যে অনেকের গায়ে খুব দুর্গন্ধ হয়ে থাকে , সেক্ষেত্রে তাঁরা যদি প্রতিদিন বাসক পাতা জলে ফুটিয়ে সেই জল দিয়ে স্নান করলে গায়ের দুর্গন্ধ দূর হবে ইনশাআল্লাহ ।
আসুন আমরা আমাদের শরীরকে জীবাণু মুক্ত ও রোগ রাখতে আমরা সবাই এই বাসক পাতার ঔষধি গুনাগুন সমুহ আমরা কাজে লাগায়। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি, আল্লাহ হাফেজ।


