আজ নানা শ্বশুরের বাড়িতে গিয়েছিলাম, নানার নাতি বউ দেখার শখ। হায়াত মউতের কথা বলা যায় না,তাই আরকি। এদিকে শাশুড়ি আম্মা সকাল থেকেই উপস্থিত। কথা ছিল খুব প্রত্যুষে বেরিয়ে পড়বো। কিন্তু আমার প্রস্তুতি কি আর এত সহজে শেষ হয়? যেতে যেতে বেলা এগারোটা বাজল। মামা শ্বশুর আটজন, যদিও সবাই বাড়িতে থাকেন না। বিশাল বড় বাড়ি, শাশুড়ি বললেন আসো— তোমাকে আমার বাপের বাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে আসি। চার মামা বাড়িতে থাকেন, বাকিদের ঘরে তালা ঝুলানো। পুরো বাড়ি নীরব নিস্তব্ধ। ঘুরে ভালোই লাগল।
দুই মামার ছোট্ট দু'টো মেয়ে নাফিসা, ফারিয়া, আমাকে দেখে এদের খুশীর বন্যা বইয়ে গেল। অল্পতেই মিশতে পারে পুচকিগুলো।
বারবার ভাবি ভাবি ডেকেছে, শুনতে খুব ভালো লেগেছে। ছোট্ট নাফিসা খুবই বুদ্ধিমান,বয়স চার,কিন্তু কথাতে খুবই পাকা। ও আমাকে জিজ্ঞেস করলো — ভাবি আপনার নাম কী। আমি মজা করে বলেছি— জহিরুল ইসলাম (প্রিয়তম) । পুচকি সত্যি ভেবে নিয়ে, ❝জহিরুল ইসলাম ভাবি❞বলে ডাকতে লাগল।
নামাজে দাঁড়িয়ে ছিলাম ওদের সামনে। কখনো ওড়না টেনে ধরে কখনো বা সেজদায় গেলে পিঠে চড়ে বসে। অনেক কষ্টে নামাজ সেরেছি।
ওদের আম্মু খাবারের জন্যে ডাকলে ভাবির সাথে খাবে বলে না করে দেয়। দু'জনকেই লুকমা তুলে খাইয়ে দিয়েছি। খুব খুশি হয়ে ,মাকে ডেকে বলেছে দেখো ভাবি নিজে না খেয়ে আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। খাওয়া শেষে যখন বিদায় নিবো,তখন হঠাৎই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ওঠলো। ঝিরঝির বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে লাগল। এদিকে আমি বোরকা পরে প্রস্তুত। কিন্তু আমার ওনিটা কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তা দেখে অভিমান করে জানালার পাশ ঘেঁষে গিয়ে দাঁড়ালাম। শেষমেষ ওঠে গাড়ি ডাকতে গেল। এদিকে নানা ভাই থেকে বিদায় নিতে গেলে হাতে জোর করে _এক হাজার টাকা গুঁজে দিলেন। বিয়ের লেহেঙ্গাটাও নানা ভাই শখ করে নাতি বউকে কিনে দিয়েছিল। এদিকে যে মামানির ঘরে খেয়েছি, ওনিও এসে হাতে টাকা গুঁজে দিলেন।
শাশুড়ি আমাদের সাথেই বের হলেন, আসার সময় শ্বশুর আমার জন্যে পেয়ারা, বরই, লেবু, চালতার আচার, শাশুড়ির কাছে দিয়ে দিয়েছিল। গাড়ি থেকে নামার সময় ওই ব্যাগ ভুলে গাড়িতেই রেখে চলে আসছি। শ্বশুর এ খবর শুনলে খুবই কষ্ট পাবে। এটা ভেবে শ্বশুরের মেয়েটা খুব আফসোস করছে। আমি বললাম ওই গাড়িতে যেহেতু আম্মা আছে —ওনি পেলে ঠিকই জানাবেন। চিন্তা করবেন না। কিছুক্ষণ পর শ্বশুর কল করে জানালেন— ব্যাগ শাশুড়ি পেয়েছে, কাল আবার কারো মাধ্যমে পাঠাবে।

