সবায় কেমন আছেন, আসা করি অনেক ভালে আছেন,এবং আমিও আল্লাহর রহমতপ ভালো আছি,আলহামদুলিল্লাহ।
বালআম ইবনে বাউরার দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাছ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করিয়াছেন। শান দেশে বালুমাম ইবনে বজিরা নামক একজন নেতৃস্থানীয় আলেম ছিল। বাইতুল মোকাদ্দাসের সন্নিকটবর্তী কেনআনের বাসিন্দা ছিল। কোন কোন বর্ণনামতে সে ছিল বনী ইসরাঈল সম্প্রদায়ের লোক। ফেরাউন যখন দরিয়ায় ডুবিয়া ধ্বংস হইয়া গেল এবং হযরত মূসা (আ.) মিসর জয় করিলেন তখন বনী ইসরাঈলের প্রতি হযরত মূসা (আ.)-এর নেতৃত্বে করনে জাব্বারীনের সহিত জেহাদ করার আদেশ অবতীর্ণ হইল। ইহাতে জাব্বারীন সম্প্রদায়ের লোকেরা ভীত-সন্ত্রস্ত হইয়া দলবদ্ধভাবে বালআম ইবনে বাউয়ার নিকট গমন করিল এবং তাহার নিকট দোআর আবেদন করিল যে, আল্লাহ্পাক যেন হযরত মূসা (আ.)-এর বাহিনীকে আমাদের সহিত মোকাবিলা হইতে ফিরাইয়া লইয়া যান। বাহাম ইবনে বাউরার ইছমে আযম' জানা ছিল। ইহা দ্বারা যেই নোআই করিত, কবুল হইয়া যাইত। বাল্আম বলিল, আফসোস! তিনি ত আল্লাহর নবী। তাঁহার সহিত আল্লাহর ফেরেশতাগণও রহিয়াছেন। কিভাবে আমি তাঁহার বিরুদ্ধে বদদোআ করিতে পারি? ইহার পরিণামে ত আমারই দ্বীন-দুনিয়া সব ধ্বংস হইয়া যাইবে। তাহারা যখন নাছোড় হইয়া বারবার আবদার করিল তখন সে বলিল, আচ্ছা! আমি আল্লাহর নিকট হইতে এই ধরনের দোআ করার অনুমতি নিয়া নিতেছি। অতঃপর সে এস্তেখারা বা কোন আমল করিল। উহার উত্তরে তাহাকে হেদায়েত দেওয়া হইল যে, সে যেন কিছুতেই এরূপ না করে। অতএব, সে তাহাদিগকে বলিয়া দিল যে, আমাকে বদদোআ করিতে নিষেধ করা হইয়াছে। অতঃপর ঐ জাব্বারীন কওমের লোকেরা তাহার নিকট বড় ধরনের হাদিয়া পেশ করিল। প্রকৃতপক্ষে তাহা ছিল ঘুষ। সে উক্ত হাদিয়া গ্রহণ করিল। ঐ লোকগুলি তাহার পিছনে লাগিয়া থাকিল। ঐদিকে তাহার বিবিও তাহাকে উক্ত ঘুষ গ্রহণের পরামর্শ দিয়াছিল। ফলে সে স্ত্রী ও মানের মহব্বতে অন্ধ হইয়া গেল এবং হযরত মূসা (আ.) ও বনী ইসরাঈলের বিরুদ্ধে বদদোআ শুরু করিয়া দিল। ঐ সময় আল্লাহপাকের অপার কুদরতের এক আশ্চর্য মহিমা এই প্রকাশ পাইল যে, সে তাহার মুখে হযরত মূসা (আ.) ও তাঁহার বাহিনীর বিরুদ্ধে যত রকম বদদোআই করিত তাহা হযরত মূসা (আ.)-এর বিরুদ্ধে না হইয়া সব ঐ জাব্বারীন কওমের বিরুদ্ধেই বাহির হইত। ফলে কওমে জানব্বারীদের লোকেরা চীৎকার করিয়া উঠিল যে, তুই ত আমাদেরই বিরুদ্ধে বদদোআ করিতেছিস্। বাল্আম বলিল, আমি কি করিব, আমার যবান যে আমার আয়ত্বের বাহিরে চলিয়া গিয়াছে। উহার পরিণতি এই হইল যে, আল্লাহর পক্ষ হইতে ধ্বংসলীলা ঐ কওমকে গ্রাস করিল। তার বালূ আমের উপর এই আযাব আসিল যে, তাহার জিহ্বা লম্বা হইয়৷ তাহার বুকের উপর ঝুলিয়া পড়িল। কোরআনে-হাকীম সেই আযাব সম্পর্কেই বলিতেছে : نقله گـــل الكلب ان تحمل عليه يلهث أو تتركه يلهث “ফলে তাহার (অর্থাৎ বাল্আমের) অবস্থা কুকুরের মত হইয়া গেল; কুকুরের উপর তুমি বোঝা তুলিয়া দিলেও সে হাঁপাইতে থাকে, আর উহাকে (এমনিতে) ছাড়িয়া দিলেও সে হাঁপাইতে থাকে।” (পারা ৯, সূরাহ্ আ'রাফ, রুক্' ২২) অতঃপর বাআম বলিল, হে আমার কওম! হে আমার সম্প্রদায়! আমার ত দুনিয়া-আখেরাত সবই ধ্বংস হইয়া গিয়াছে। তবে আমি তোমাদিগকে এমন একটি কৌশল বলিয়া দিতেছি যাহা দ্বারা তোমরা মূসা (আ.) ও তাঁহার বাহিনীর উপর বিজয় লাভ করিতে পারিবে। তাহা এই তোমাদের সুশ্রী-সুন্দরী মেয়েদিগকে সাজাইয়া বনী ইসরাঈলের সশকদের মধ্যে পাঠাইয়া দাও। তাহারা মুসাফির। বহুদিন হইতে তাহারা বরের বাহিরে আছে। এই কৌশলের ফাঁদে পড়িয়া ইহারা যদি সুশ্রী মেয়েদের সহিত অপকর্মে লিপ্ত হয় তাহা হইলে ইহাদের উপর আল্লাহর কবর ও আযাব নাযিল হইবে। অতঃপর কিছুতেই ইহারা বিজয়ী হইতে পারিবে না। বাল্আমের এই শয়তানী ফন্দি বনী ইসরাঈলের পসন্দাগিল। ফলে বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি অপকর্মের শিকার হইল। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম বিরত রাখার জন্য অনেক বুঝাইয়াছেন। কিন্তু সে নাই। ইহার পরিণামে প্লেগের কঠিন আযাব অবতীর্ণ হইল এবং হাজার বনী ইসরাঈল মারা গেল। অতঃপর যে দুইজন অপকর্মে লি হইয়াছিল তাহাদের উভয়কে কতল করিয়া শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে করে দর্শনীয় এক স্থানে লটকাইয়া রাখা হইল। সকলে তওবা করিল। তখন আযাব উঠাইয়া নেওয়া হইল।
আজ এ পর্যন্তই,আর আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আমি যেন সুস্থ এবং ভাল ভাবে চলতে ফিরতে পারি। এবং আমিও আপনাদের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া প্রার্থনা করি আপনারাও সুস্থ এবং ভাল থাকুন।
আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। আল্লাহ হাফেজ।

