ইসলাম।

A
abir190

সবায় কেমন আছেন, আসা করি অনেক ভালে আছেন,এবং আমিও আল্লাহর রহমতপ ভালো আছি,আলহামদুলিল্লাহ। 

 

সকল মুসলমানকে, বিশেষত: তরীকতপন্থী ছালেকীন ও আল্লাহর আশেকীনের খুব স্মরণ রাখা উচিত যে, যাহা নফছের বাসনা পূরণের প্রারম্ভিক বিন্দু, তাহাই আল্লাহ হইতে দূরত্ব ও বিচ্ছিন্নতারও প্রারম্ভিক বিন্দু। অর্থাৎ মনের অবৈধ কামনা-বাসনা পূরণের দিকে পা দেওয়ার অর্থই হইতেছে আল্লাহ্ হইতে দূরে সরিবার এবং আল্লাহর সহিত সম্পর্ক ছিন্ন হইবার পথে পা বাড়ানো। মনের বাসনার প্রতি যাত্রা করা মানে আল্লাহপাক হইতে বিচ্ছিন্ন হইতে শুরু করা। অতএব, দ্বীন ও ঈমানের দুশমন এই নফছকে সন্তুষ্ট করা হইতে কঠোরভাবে বিরত থাকুন এবং সদা সতর্ক থাকুন। হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদুল মিল্লাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহ.) বলেন : “(দাড়ি-মোচবিহীন বালক-তরুণ না হইলেও) যেই পুরুষের কথার দ্বারা, আওয়ায়ের দ্বারা, দেহের নক্শা, গঠন-গড়ন বা চেহারার দ্বারা, চক্ষু বা চাহনীর দ্বারা (এই দুশমন) নছ স্বাদ ও আনন্দ পাইতে শুরু করে, কালবিলম্ব না করিয়া তাহার নিকট হইতে সরিয়া পড়।" কারণ, কোন কোন সুশ্রী ছেলের মধ্যে কিছু কিছু দাড়ি-মোচ গজানো সত্ত্বেও সৌন্দর্যের একটা আকর্ষণ বিদ্যমান থাকে, যাহা অন্যায় ভালোবাসার রোগীদিগকে রোগাক্রান্ত করিয়া ফেলে। তাই নফছের রোগীদিগকে সৌন্দর্যের বিলুপ্তি সত্ত্বেও সৌন্দর্যের অবশিষ্ট চিহ্নসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত হইতেও সতর্কতা অবলম্বন করিতে হইবে। সারকথা এই যে, যাহার দ্বারাই নহ মজা লাভ করিতে শুরু করে, অনতিবিলম্বে তাহার নিকট হইতে দূরে সরিয়া যাইবে। কারণ, নফছ যেখানে সামান্য স্বাদও অনুভব করে তাহা বিপদের আশঙ্কামুক্ত নয়। শত্রুকে পরিমাণ আনন্দিত দেখিলেও ডাহা বরদাশত করা উচিত নয়। কারণ, সামান্য একটু আনন্দ উপভোগের দ্বারাই নফছের শক্তি সঞ্চয় হয়। অতপর সে ঐ শক্তির জোরে বড় কোন পাপের দিকে টানিয়া লইয়া যাইবে। যেভাবে হালকা হালকা জ্বর যাহা অনুভব করা দুজর, তাহা অত্যন্ত ভয়ানক কারণ, ভালোভাবে টের না পাওয়ার দরুন মানুষ উহার চিকিৎসা হইছে গাফেল থাকে। তদ্রুপ যাহার প্রতি নফছের হালকা হালকা আকর্ষণ হয় তাহার সাহচর্যও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। (তাহার সহিত উঠা-বসা, বাক্যালাপ, নির্জনতা, দৃষ্টিপাত ইত্যাদি বিপদের অশনি সংকেত।) কারণ স্পষ্ট ও প্রবল আকর্ষণের সকল ক্ষেত্র হইতেই ছালেক (খোদাঅন্বেষী) অবশ্যই দূরে সরিয়া যায়। কিন্তু এখানে হালকা আকর্ষণের দরুন উহা হইতে সাবধানতা অবলম্বনে তাহার তওফীক হয় না। এভাবে হালকা হালকা মাত্রায় শয়তান তাহার আত্মার মধ্যে বিষ প্রয়োগ করিতে থাকে অবশেষে এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয় যে, নয়ছ অত্যন্ত শক্তিশালী হইয়া অতি সহজে তাহাকে বড় বড় ও মারাত্মক মারাত্মক পাপের দিকে টানিয়া লইয়া যায় এবং উহাতে নিঙ করিয়া তাহার সর্বনাশ ঘটাইয়া দেয়। এজন্যই বলি, সতর্ক হও এবং گوشت چشم سے بھی ان کو نہ دیکھا کرنا “আড়চোখেও উহাদের প্রতি দৃষ্টিপাত হইতে অবশ্যই বিরত থাক।” হযরত খাজা আযীযুল হাসান মজযূব (রহ.) বলেন: نس کا از در بادلاد کچھ بھی مرانہیں غافل ادھر ہوانہیں اس نے ادھر ڈ سانہیں “হে মন, সাবধান! সাবধান!! হাজার এছলাহ ও সাধনার পরও নছু নামের বিষধর অজগর এখনও মরে নাই। সামান্য একটু অসাবধান হইলেই বিষদাত দ্বারা দংশন করিয়া বসিবে।” (তাই সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীর মত সদা জাগ্রত, সদা সতর্ক, সদা যুদ্ধরত, আক্রমণ মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত ও উদ্যত থাক, যদি তুমি অতি প্রিয়, পরম আরাধ্য আল্লাহকে পাইতে চাও।)گھروسہ پر نہیں اس نفس امارہ کا اے زاہد فرشتہ بھی نہ ہو جائے تو اس سے بدگماں نا "অনবাত পাপ ও ধ্বংসের পথে প্রলুব্ধকারী এই নফছের উপর হে সাধক! কোন আস্থা নাই, কোন ভরসা নাই। নফছ যদি ফেরেশতাও হইয়া যায় তবুও সর্বদা উহার প্রতি বিলকুল আস্থাহীন, অবিশ্বাসী ও সন্দিহানই থাকিতে হইবে।" স্মরণ রাখিতে হইবে যে, নফছের মজার যাত্রাবিন্দুই' আল্লাহ হইতে দূরে সরারও ‘যাত্রাবিন্দু'। অর্থাৎ ন যদি কোন পাপের প্রাথমিক কোন পর্যায়ে শত ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম মজা আস্বাদন করা আরম্ভ করে, তবে এইটুকুও আল্লাহ্পাক হইতে কিছু না কিছু দূরত্ব পয়দা হওয়ারই কারণ হইয়া থাকে। 

 

আজ এ পর্যন্তই,আর আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আমি যেন সুস্থ এবং ভাল ভাবে চলতে ফিরতে পারি। এবং আমিও আপনাদের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া প্রার্থনা করি আপনারাও সুস্থ এবং ভাল থাকুন।

 

 

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। আল্লাহ হাফেজ।

Comments

jakaria
খুব সুন্দর একটি পোষ্ট আমাদের মাঝে পেশ করেছেন। যারা এই পোস্ট পড়বে অবশ্যই সেই ব্যক্তি তার নফস কে হেফাজত করার চেষ্টা করবে। আল্লাহ তুমি আমাদের সবার নফস কে হেফাজত করার তৌফিক দান করুন।