কেন ভাবি না কলমের কথা?

A
abir190

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভাল আছেন আমি ও ভালো আছি

 

 

কেন ভাবি না কলমের কথা?

 

 কেন ভাবি না কলমের কথা? আমার হাতের কলমটি দিয়ে প্রতিদিন কত কথা লিখি; সুখের কথা, দুঃষের কথা, হাসি-আনন্দের কথা, কান্না ও বেদনার কথা। কিন্তু কখনো ভেবে দেখিনি কলমের কথা। আমি চেয়েছি, কলম শুধু লিখে যাবে আমার কথা, কিন্তু কখনো বুঝতে চাইনি, কলমেরও আছে কিছু কথা, কিছু মিনতি! কলমেরও আছে হাসি-কান্না ও আনন্দ-বেদনা! কলম কখন হাসে, কখন কাদে? কিসে কলমের আনন্দ, কিসে তার বেদনা? কলমেরও আছে হৃদয় ও প্রাণ! কলমের যিনি সাধক, কলম চায় তাকে ভালোবসতে এবং তার ভালোবাসা পেতে! কলমের আকুতি আর কিছু না, শুধু এহ, পরম সমাদরে, পরম মমতায় মানুষ যেন কলমকে গ্রহণ করে এবং সত্যের পথে তাকে পরিচালিত করে। কলমের মিনতি আর কিছু না, শুধু এই, মানুষ যেন কলমের মূল্য বোঝে এবং কলমের মর্যাদা রক্ষা করে। কেউ যখন হৃদয় দিয়ে কলমের আকুতি অনুভব করে এবং কলমের মিনতি রক্ষা করে, কলমের মুখে তখন হাসি ফোটে। কেউ যখন কলমের মূল্য বোঝে এবং কলমের মর্যাদা রক্ষা করে, কলমের হৃদয়ে তখন আনন্দের তরঙ্গ জাগে। কিন্তু কলম যখন কারো হাতে লাঞ্ছিত হয়, কারো অবহেলা-অবজ্ঞার শিকার হয়, কলমের তখন কান্না পায়, কলমের প্রাণে তখন বড় বেদনা জাগে। একটি কলমের মূল্য কত? তিন টাকা, পাঁচ টাকা। আসলেও কি তাই?! কলমের প্রতিটি শব্দ তো একটি করে ফুল! কলমের প্রতিটি রেখা তো একেকটি আলোকরেখা! কলমের মাত্র একটি কথার মূল্য তো আসমান-যমীনের চেয়ে বেশী হতে পারে! কলমের নিব দিয়ে লেখা একটি কথা তো জীবনে বিপ্লব সৃষ্টি করতে পারে, পারে জীবনের গতিধারা পরিবর্তন করে দিতে! কলমই পারে একটি জীবনকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনতে! কলমই পারে পথহারা সমাজকে সত্যের পথ দেখাতে! ন্যায় ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করতে! কলমের মুখ হতে পারে আলোর ফোয়ারা, কলমের কালি হতে পারে কল্যাণের ঝর্ণাধারা! কলম তো কাগজের বুকে শব্দের ফুল দিয়ে মালা গাঁথে এবং কালো কালির রেখা টেনেজীবনের রাজপথ তৈরী করে। এখন কলমের মূল্য কি তিনটাকা, পীরটাকা পারে। এমন কামের মূল্য কি পৃথিবীর কোন মানুষ নির্ধারণ করতে পারে। কিন্তু আমরা ক'জন কলমের মূল্য বুঝতে পারি? আমরা ক'জন সত্তা ও কল্যাণের জন্য কলমের যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করি? কেন করি না কেন কলমের কথা ভাবি কেন কলমের মূল্য বুঝ ? কামের মত দরদী বন্ধু পৃথিবীতে কে আছে আমার? একদিন আমি থাকবো না, কিন্তু কাগজের বুকে আমার কলমের কথা থাকবে এবং যুগ যুগ ধরে মানুষের জীবনে আলো ছড়াবে। কবরে-হাশরে-মিয়ানে আমার কলম আমাকে নাজাতের পথ দেখাবে, আমাকে জান্নাতের দুয়ারে পৌঁছে দেবে, যদি সামি কলমের আকুতি ও মিনতি রক্ষা করি; যদি আমি কলমের মূল্য ও মর্যাদা বুঝতে পারি। কিন্তু আমি কি কলমের কষ্ট বুঝতে পারি? আমি কি কলমের কান্না অনুভব করতে পারি? কেন পারি না? কেন আমি কলমের কথা ভাবি না? পূর্বযুগে কলমকে ভালোবেসে যারা কলমের যোগ্যতা অর্জন করেছেন, কলমের মিনতি রক্ষা করে কলমকে যারা ন্যায় ও সত্যের পথে ব্যবহার করেছেন, আজ তারা পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের কলমের কথা রয়ে গেছে কাগজের বুকে। তাঁদের কলম আমাদের আজো সত্যের পথ দেখায়, আমাদের চলার পথে পাথেয় যোগায়। কলমকে যারা ভালোবাসে, তারা কলমের ভালোবাসা পায়। কলম তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে। পৃথিবীর বুকে কলম তাদের অমর করে রাখে। কিন্তু আমরা কি পেরেছি কলমকে ভালোবাসতে? কলমের ভালোবাসা অর্জন করতে? কেন পারি না? কেন আমরা কলমের কথা ভাবি না!! কলম কখন দামী হয়? কলমের কথা কখন মূল্যবান হয়? একটি কলমের মুখ থেকে কখন উৎসারিত হয় আলোর ফোয়ারা এবং কল্যাণের ঝর্ণাধারা? কলম যখন গ্রহণ করে কলবের বন্ধন এবং কলমের কালি যখন গ্রহণ করে চোখের পানির মিশ্রণ; হাতের স্পর্শ ছাড়িয়ে কলম যখন লাভ করে হৃদয়েরও স্পর্শ তখন কলমের মুখ হয় আলোর ফোয়ারা এবং কল্যাণের ঝর্ণাধারা। সেই কলমের একটি শব্দ হীরকখণ্ড কুহে নূরের চেয়ে মূল্যবান। আমরা কি পেরেছি কলবে কলমে বন্ধন সৃষ্টি করতে এবং কলমের কালিকে চোখের পানির উষ্ণতা দান করতে? কেন পারি না? কেন আমরা কলমের কথা ভাবি না? কলমকে যারা ভালোবাসে এবং কলমের সাধনায় জীবন উৎসর্গ করে, কলম তাদের হৃদয়ের কথা বলে এবং তাদের আত্মার আকুতি তুলে ধরে। সেই কলম থেকে শুধু রূহানিয়াত ও নূরানিয়াতের বিচ্ছুরণ ঘটে। কোথায় সেই কলম? ইমাম গায্যালী ও ইবনে তায়মিয়ার কলম? মুজাদ্দিদে আলফেছানী ও শাহ ওয়ালিউল্লাহর কলম? কী ছিলো তাঁদের কলমে? কী নেই আমাদের কলমে? কোথায় আলোর কলমকলমের আলো? কোথায় মুজাহিদীনের কলম এবং কলমের মুজাহিদীন? আমরা কি হতে পেরেছি মহান সালাফের জীবন্ত কলমের যোগ্য উত্তরাধিকারী। কেন পারি না? কেন আমরা কলমের কথা ভাবি না? পৃথিবী একদিন তাঁদের কলমে শুনেছে শব্দের বাঙ্কার, আজ আমাদের কলমে শোনে শব্দের আর্তনাদ। পৃথিবী একদিন দেখেছে তাঁদের হাতে কলমের আলো, আমাদের হাতে আজ দেখে কলমের অন্ধকার। আবার কি ফিরে আসতে পারে না অতীতে কলম, যা শুধু ন্যায় ও সত্যের জন্য কালির অশ্রু ঝরাতো। আবার কি আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি না কলমের অতীত, যা ছিলো এই উম্মাহর গর্বের ও গৌরবের? কেন পরি না? কেন আমরা কলমের কথা ভাবি না? আজ সময় এসেছে কলমের ডাকে জেগে ওঠার, কলবের সঙ্গে কলমের নতুন বন্ধন গড়ে তোলার। আজ সময় এসেছে কলমের হাসি-কান্না ও আনন্দ-বেদনা অনুভব করার, কলমের মূল্য ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার করার। আজ সময় এসেছে কলমকে ভালোবেসে কলমের ভালোবাসা অর্জন করার, কলমের আলোতে আলোকিত হওয়ার এবং কলমের দানে ধন্য হওয়ার। হে অরুণ, হে তরুণ! তুমি ছাড়া বলো আর কে আছে কলমের ফরিয়াদ শোনার!কলমের আলো? কোথায় মুজাহিদীনের কলম এবং কলমের মুজাহিদীন? আমরা কি হতে পেরেছি মহান সালাফের জীবন্ত কলমের যোগ্য উত্তরাধিকারী। কেন পারি না? কেন আমরা কলমের কথা ভাবি না? পৃথিবী একদিন তাঁদের কলমে শুনেছে শব্দের বাঙ্কার, আজ আমাদের কলমে শোনে শব্দের আর্তনাদ। পৃথিবী একদিন দেখেছে তাঁদের হাতে কলমের আলো, আমাদের হাতে আজ দেখে কলমের অন্ধকার। আবার কি ফিরে আসতে পারে না অতীতে কলম, যা শুধু ন্যায় ও সত্যের জন্য কালির অশ্রু ঝরাতো। আবার কি আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি না কলমের অতীত, যা ছিলো এই উম্মাহর গর্বের ও গৌরবের? কেন পরি না? কেন আমরা কলমের কথা ভাবি না? আজ সময় এসেছে কলমের ডাকে জেগে ওঠার, কলবের সঙ্গে কলমের নতুন বন্ধন গড়ে তোলার। আজ সময় এসেছে কলমের হাসি-কান্না ও আনন্দ-বেদনা অনুভব করার, কলমের মূল্য ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার করার। আজ সময় এসেছে কলমকে ভালোবেসে কলমের ভালোবাসা অর্জন করার, কলমের আলোতে আলোকিত হওয়ার এবং কলমের দানে ধন্য হওয়ার। হে অরুণ, হে তরুণ! তুমি ছাড়া বলো আর কে আছে কলমের ফরিয়াদ শোনার! 

 

আজ এই পর্যন্ত'ই সকলে আমার জন্য দূয়া করবেন।

Comments