বুজুর্গদের বানী

A
abir190

সবায় কেমন আছেন, আসা করি অনেক ভালে আছেন,এবং আমিও আল্লাহর রহমতপ ভালো আছি,আলহামদুলিল্লাহ।

বুজুর্গদের বানী

 

 (খানেক অর্থ, তরীকতপন্থী, খোদাগাড়ী বা খোলামনে যেকোন বান্দা।) ছালেকের জন্য মেয়েদের সঙ্গে এবং ছেলেদের সঙ্গে মেলামেশা, ঠাসা করা খাতী বিষের মত মান নি। বরকতে ইহানের দিলু নরম হইয়া যায় এবং অনুভূতিশক্তি সুতীক্ষ্ণ হইয়া যায়। ঐ সুতীক্ষ্ণ অনুভূতির ফলে যে কোন রূপ-সৌন্দর্য চোখে বেশি ধরা পড়ে এবং হৃদয়-মন সৌন্দর্যের দ্বারা দ্রুত প্রভাবিত হয়। এজনাই শয়তান যখন সূফী-দরবেশদিগকে --বভ্রান্ত করার পথ-পন্থা হইতে নিরাশ হইয়া যায় তখন সে সূফী-দরবেশদিগকে মেয়েদের ও সুশ্রী ছেলেদের ফাঁদে ফেলিবার চেষ্টা ও দুরভিসতি আঁটিতে থাকে। তাই ছালেকীনকে ছেলেদের ও মেয়েদের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকিতে হইবে এবং কঠোরভাবে দূরত্- খুবই দূরত্ব বজায় রাখিতে হইবে এবং যদি ছেলেদের প্রতি কিংবা মেয়েদের প্রতি কুনজর পড়ে অথবা মনকে সেদিকে প্রবলভাবে আকৃষ্ট বা ধাবিত হইতে দেখা যায় তবে সঙ্গে সঙ্গে তী মোর্শেদের প্রতি রুজু হইয়া অতি দ্রুত তাহাকে অবস্থা বুলিয়া বলিয়া চিকিৎসা গ্রহণ করিতে হইবে।

 

একদা হযরত মুসা আলাইহিছ ছালাম আরয করিলেন, হে আল্লাহ আপনার সহিত মিলনের উপায় কি? আল্লাহ্ পাক বলিলেন : دع نفسك وتعال “নিজের নফকে বর্জন কর এবং আসিয়া পড়।" হযরত হাফেয শীরাধীর ভাষায় : تو خود حجاب خودی حافظ از میان برخیز তিনি নিজেই নিজেকে বলিতেছেন : “হাফেয। আল্লাহকে পাওয়ার : তুই-ই আসল বাঙা। মাঝখান হইতে তুই সরিয়া যা। তুই সরিয়া গেলেই আমি আল্লাহকে পাইয়া যাইব।” ৭ নং কোরআনী হেদায়েত يعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور (بار، ٢٤ سـورة مـؤمـن) "চোখের অসৎ কীর্তি এবং মনের গোপন গতিবিধি সবই আল্লাহপার। সম্যক অবগত।" (পারা ২৪, সূরা মুমিন) ফায়েদা : এই আয়াত আমাদিগকে এই সবক দেয় যে, কুদৃষ্টি করার সময় এবং মনে মনে পাপের নানাবিধ কল্পনা-জল্পনা করিয়া পুলক ও স্বাদ গ্রহণের সময় এই ধ্যানও জাগ্রত থাকা উচিত যে, আমার এ সকল ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড ও নির্লজ্জ গতি-মতি মহান আল্লাহর নজরের সামনেই ঘটিতেছে। چوریاں آنکھوں کی اور سینے کا راز جانتا ہے سب کو تو اے بے نیاز ‘চোখের চৌর্যবৃত্তি ও মনের গোপন কল্পনা-পরিকল্পনা ও গতিবিধিসমূহ হে বে-নিয়ায় মালিক, তুমি যথাযথই অবগত।” যখনই কোন বাজে কল্পনা-জল্পনা কিংবা কুদৃষ্টির ইচ্ছা জাগে তখন যদি অন্তরে এই ধ্যান উপস্থিত করা হয় তবে ইহার ফলে লজ্জা, অনুতাপ ও শীপা হইবে এবং দ্রুত অথবা ও এস্তেগফারের তওফীক হইবে। এই আয়াতখানা চোখের ও মনের খেয়ানত বা পাপাচারিতা হইতে হেফাযত ও মুক্তিলাভের অমোঘ ব্যবস্থাপত্র। তবে ব্যবস্থাপত্রের দ্বারা তখনই উপকৃত হওয়া যায় যখন উহার সদ্ব্যবহার করা হয়। অতএব, অন্তরে বারবার এই ধ্যান জমাইতে হইবে যে, আল্লাহপাক আমাকে দেখিতেছেন, আল্লাহপাক আমার কুদৃষ্টির ঘৃণ্য অপকর্মের খবর রাখেন। দেখেন এবং জানেন। অনুরূপভাবে কামাত্মক বা যৌন উত্তেজনা কেন্দ্রিক সমস্ত খেয়াল ও পরিকল্পনা এবং সুশ্রী বালক তরুণদের সম্পর্কিত আজেবাজে জল্পনা-কল্পনার দ্বারা যেই হারাম স্বাদ ও হারাম আনন্দ লাভ করা হইতেছে, এই সবকিছুই আল্লাহপাক দেখেন এবং জানেন। অতঃপর মহান আল্লাহর কহর, গযব, শক্তি ও তাহার ভয়ানক শান্তির কথা চিন্তা করিবে। ইনশাআল্লাহ এই মোরাকাবার মশকের দ্বারা এবং হিম্মত ও দোআর দ্বারা এতদুভয় প্রকার খেয়ানতকেই পরিত্যাগ করা আছান হইয়া যাইবে। অর্থাৎ নিয়মিত এই মোরাকাবা জারী রাখা এবং ‘হিম্মত' অর্থাৎ উপরোক্ত গুনাহ্ হইতে মুক্ত থাকার জন্য দৃঢ় চিত্ততার সহিত অদম্য চেষ্টা চালাইয়া যাওয়া এবং আল্লাহপাকের দরবারে দোআ করিতে থাকা- এই তিনটি আমল জারী থাকিলে চোখের খেয়ানত ও অন্তরের খেয়ানতের কঠিন ব্যাধি হইতে অচিরেই মুক্তি লাভ হইবে ইনশাআল্লাহ্। হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা থানবী (রহ.) বলেন, মোরাকাবা, যিকির ও ওযীফার দ্বারা এই ব্যাধি দূর হয় না। এইগুলি হইতেছে সহায়ক মাত্র। কিন্তু আসল কাজ হয় হিম্মত ও এরাদার দ্বারা। আর এই দুইটিই হাসিল হয় দোআর দ্বারা। (এরাদা অর্থ ইচ্ছা, সংকল্প। হিম্মত্ অর্থ সাহস, মনোবল বা দৃঢ়চিত্ততার সহিত অব্যাহত প্রচেষ্টা। অর্থাৎ আমাদের যিকির-আকারের দ্বারাই গুনাহ্ পালাইয়৷ যাইবে না। বরং গুনাহ্ ত্যাগের জন্য আমাদিগকে ‘ইচ্ছা' করিতে হইবে এবং দৃঢ়তার সহিত গুনাহ্ বর্জনের অদম্য চেষ্টা চালাইতে হইবে। যিকির- আযকার ইত্যাদি এই ‘সুদৃঢ় ইচ্ছা’ ও ‘সুদৃঢ় প্রচেষ্টা'য় শক্তি যোগায় মাত্র।)

 

আজ এ পর্যন্তই,আর আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আমি যেন সুস্থ এবং ভাল ভাবে চলতে ফিরতে পারি। এবং আমিও আপনাদের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া প্রার্থনা করি আপনারাও সুস্থ এবং ভাল থাকুন।

 

 

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। আল্লাহ হাফেজ।

Comments

It's great that the story is beautifully told. I want more such wonderful stories