চীন কোন জাদুতে চিরশত্রু সৌদি-ইরানের হাত মিলিয়ে দিল

A
বেইজিংয়ে সৌদির কূটনীতিক মুসাদ বিন মোহাম্মাদ আল আয়বান (বাঁয়ে), চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই (মাঝে) ও ইরানের কূটনীতিক আলি শামখানি
 
বেইজিংয়ে সৌদির কূটনীতিক মুসাদ বিন মোহাম্মাদ আল আয়বান (বাঁয়ে), চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই (মাঝে) ও ইরানের কূটনীতিক আলি শামখানি
 
ছবি: চায়না ডেইলির সরবরাহকৃত

সৌদি আরব ও ইরান ১০ মার্চ চীনের মধ্যস্থতায় আবার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করার যে ঘোষণা দিয়েছে, তা পশ্চিমা বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকারদের হতবাক করছে। আমেরিকান মান অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চীনের উপস্থিতিকে ন্যূনতম বলা যায়।

তবে পশ্চিম এশিয়ায় বাণিজ্য, বিশেষ করে প্রযুক্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে চীনের পদছাপের পরিসর ক্রমেই বিশাল থেকে বিশালতর হচ্ছে এবং এতে তার কোমল শক্তি (আর্থিক, বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা দিয়ে প্রাধান্য বিস্তারের ক্ষমতা) এতটাই বেড়ে চলেছে যা তাকে নজিরবিহীন কূটনৈতিক অভ্যুত্থানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছে।

মোটাদাগে এ চুক্তিতে সৌদি আরবকেই লাভবান বা জয়ী পক্ষ বলে মনে হচ্ছে। শিয়া ইরান ও সুন্নি সৌদি আরবের মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলা প্রক্সি যুদ্ধের পর পাল্টাপাল্টি হামলার অবসান হওয়া মানে ইরান ও তার মিত্ররা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে

তারা আর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়াবে না। চুক্তির বিষয়ে দুই দেশের যৌথ বিবৃতি প্রকাশের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কারবি বলেছেন, ‘ওই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা প্রশমন চেষ্টা আমাদের স্বার্থকেই রক্ষা করবে’। একই সঙ্গে এ চুক্তি স্বাক্ষরকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র মুখে যতই এই চুক্তিকে স্বাগত জানাক, ওয়াশিংটন ভালো করেই জানে, টেলিযোগাযোগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক নেতৃত্ব থেকে চীনকে পিছিয়ে রাখার বিষয়ে আমেরিকার যে চেষ্টা আছে, পারস্য উপসাগরে চীনের এ আধিপত্য সেই চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেবে।

আঞ্চলিক অর্থনীতিকে প্রযুক্তিগতভাবে রূপান্তর করতে চীনের সক্ষমতা তার কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোর পেছনে বড় ভূমিকা রাখবে। মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে চীনের তাৎক্ষণিক আগ্রহের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর বেইজিংয়ের নির্ভরশীলতা একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। সর্বোপরি, বেইজিং চায় না মধ্যপ্রাচ্যে কোনো আঞ্চলিক সংঘাত লাগুক, কারণ সেটি হলে তার জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। চীন এ অঞ্চলে তার নেতৃত্বাধীন ইউরেশিয়ান অবকাঠামোর শিল্পভিত্তিক সম্ভাবনাকে বিস্তৃত করতে চায়।

Comments