মেয়েটির অভিযোগ ছিল পরিবারের বিরুদ্ধে। জন্মগত ত্রুটির কারণে হাঁটাচলা করতে পারেন না তিনি। তাঁর জন্মের ১২ বছর পর ভাই জন্ম নেয়, এর পর থেকে তাঁর প্রতি মা–বাবার মনোযোগ কমে যায়। এমনকি তাঁর প্রতিবন্ধিতা নিয়েও কটাক্ষ করা হয়। প্রচণ্ড মানসিক হতাশা নিয়ে মেয়েটি ফোন করেন শিশুদের সহায়তায় স্থাপিত চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮ নম্বরে।
২০১৬ সাল থেকে পুরোপুরি সরকারি ব্যবস্থাপনায় হেল্পলাইনের কার্যক্রম শুরু হয়। ২৪ ঘণ্টায় পালা করে কল ধরেন ২৯ জন কল এজেন্ট।
পাঁচ বছর আগের সেই ঘটনার কথা তুলে ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মেয়েটি গত ২৮ মার্চ প্রথম আলোকে জানান, সেদিন কল করার পর চাইল্ড হেল্পলাইন থেকে এক প্রতিনিধি এসে তাঁর মা–বাবারসঙ্গে কথা বলেন। পরিস্থিতি আমূল বদলে না গেলেও অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। তিনি নিজেও এখন খাপ খাইয়ে নিতে শিখে গেছেন। এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর স্নাতকে ভর্তির অপেক্ষায় আছেন।
চাইল্ড হেল্পলাইনের তথ্য অনুসারে, বিপদগ্রস্ত শিশুদের প্রয়োজনে মোট ১১টি ক্যাটাগরির মধ্যে ৮টিতে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে সহায়তা ও অভিযোগ জানিয়ে কলের সংখ্যা বেড়েছে। এই নম্বরে যে শুধু শিশুরাই কল করে এমনটা নয়, অনেক অভিভাবকও শিশুদের হয়ে কল করেন। গত এক বছরে মনোসামাজিক সহায়তা, নির্যাতন-সহিংসতা, ঝুঁকিতে থাকা শিশু—এ ধরনের কল এক বছরে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সেই সঙ্গে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম, শিখন সমস্যা ও স্কুল থেকে ঝরে পড়া—এ–সংক্রান্ত অভিযোগ বেড়েছে ৭২ শতাংশ। বরাবরের মধ্যে তথ্য চেয়ে কল এসেছে সবচেয়ে বেশি। গত বছর মোট কলের ৬৫ শতাংশই ছিল তথ্য সহায়তাবিষয়ক।
স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন পাবলিক স্থানে বিনা মূল্যে কল সেন্টার করা উচিত, যাতে রাস্তায় বসবাসকারী শিশুরাও ১০৯৮–এ ফোন করে সহায়তা চাইতে পারে।
তবে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির সময় শারীরিক স্বাস্থ্য বিষয়ে আসা কলের সংখ্যা গত দুই বছরে ধাপে ধাপে কমেছে।

