রেক্টিফায়েড স্পিরিটের সঙ্গে ‘জিনসেং’ মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছিল ভেজাল মদ

A

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আড্ডা থেকে ফেরার পর দুই আওয়ামী লীগ নেতাসহ পাঁচজনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার আট দিন পরও কোনো মামলা হয়নি। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে বলছেন, রেক্টিফায়েড স্পিরিটের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে তৈরি কথিত শক্তিবর্ধক মিশিয়ে ভেজাল মদ তৈরি করে পান করেছিলেন তাঁরা। স্থানীয় একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক রেক্টিফায়েড স্পিরিটের সঙ্গে জিনসেং নামের কথিত এই শক্তিবর্ধক মিশিয়েছিলেন। সেই চিকিৎসকও বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন।

১৪ জানুয়ারি রাতে ছয়জন একটি স্থানে আড্ডা দিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে তাঁরা অসুস্থ হন। ঘটনার দিন রাতে একজন মারা যান। পরে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। প্রথমে অসুস্থতার বিষয়টি তাঁরা পরিবারের সদস্যদের কাছে গোপন করেন। মারা যাওয়া পাঁচজন হলেন কুলিয়ারচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন ও জহির রায়হান, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস, রিকশাচালক শাহজাহান মিয়া এবং চা দোকানদার লিটন মিয়া। ওই আড্ডায় তাঁদের সঙ্গী কুলিয়ারচর পৌরসভার প্যানেল মেয়র হাবিবুর রহমান ঢাকার একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছেন।

মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে শাহজাহান মিয়া ছাড়া অন্যরা চিকিৎসা নিয়েছেন জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে বলা আছে, গিয়াস উদ্দিন ও জহির রায়হানের শরীরে অ্যালকোহলের (অ্যালকোহল অ্যাবিউসার) উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে গোবিন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস মারা যান হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে। শাহজাহান ও লিটনের মৃত্যু সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

Comments