হাড়ভাঙার চিকিৎসা নিতে গিয়ে কিডনি খোয়ানোর অভিযোগ, চিকিৎসকেরা জানালেন ‘বোন-গ্রাফট’

A
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
 
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
 
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাড়ভাঙার চিকিৎসা নিতে গিয়ে কিডনি খোয়ানোর অভিযোগ করে আদালতে মামলা করেছেন এক ব্যক্তি। তবে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বলছেন, হাড় জোড়া দিতে ওই ব্যক্তির শরীরের অন্য জায়গা থেকে হাড় সংগ্রহ করে লাগানো হয়েছিল। চিকিৎসাশাস্ত্রে সেটিকে ‘বোন-গ্রাফট’ বলা হয়। অর্থোপেডিকস বিভাগের অস্ত্রোপচারে কিডনি অপসারণের সুযোগ নেই।

বুধবার সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেন কানাইঘাটের ফতেহগঞ্জের বাসিন্দা খছরু মিয়া। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানা-পুলিশকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অর্থোপেডিকস বিভাগের প্রধান শংকর কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, ওই রোগীর ‘বোন-গ্রাফট’ করা হয়েছিল। এটি কমন প্রসিডিউর। এ ছাড়া অর্থোপেডিকস বিভাগের অস্ত্রোপচারে কিডনি অপসারণের সুযোগ নেই। এর বাইরে ওসমানী হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় না, এটিও বড় বিষয়।

খছরু মিয়ার অভিযোগ ছিল, প্রায় এক মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে বাঁ হাতের অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর বাঁ দিকের কিডনি অপসারণ করে নেওয়া হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। কোনো কাজ করতে পারছেন না। পাশাপাশি প্রস্রাব ও মলত্যাগে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অসুস্থতার ব্যাপারে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে বিস্তারিত জানালে তাঁরা চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করতেন। পরে গত ১৫ জানুয়ারি জৈন্তাপুর উপজেলার জৈন্তা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে আলট্রাসনোগ্রাম করে নিশ্চিত হন, তাঁর বাঁ দিকের কিডনি নেই। আর্থিক সুবিধার জন্য চিকিৎসকেরা তাঁর কিডনি অপসারণ করে নিতে পারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন খছরু মিয়া।

Comments