
প্রথম আলো: বিগত অর্থবছর সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যই ইতিহাসের অন্যতম খারাপ অর্থবছর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার আসলে কী করছে?
ফাহমিদা খাতুন: সরকারের পক্ষ থেকে কিছু কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো আসলে সীমিত পদক্ষেপ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ওই পদক্ষেপগুলো যে আবার সঠিক, তা–ও নয়। সমস্যা অনুযায়ী যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল, সেগুলোর প্রতিফলন অনেক ক্ষেত্রেই দেখতে পাইনি। আরেকটি বিষয় হচ্ছে সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নেওয়া। দেখা যাচ্ছে, সমস্যা তৈরি হয়ে এত ঘনীভূত হয়ে গেছে, তারপর আমাদের হুঁশ হয়েছে যে কিছু একটা করা দরকার। সেদিক থেকে আমি মনে করি, যথেষ্ট পরিমাণে উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
প্রথম আলো: শ্রীলঙ্কা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল। মূল্যস্ফীতি ৬৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন তা তারা ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনেছে, যা আমাদের চেয়েও কম। শ্রীলঙ্কা পারল অথচ আমরা পারছি না কেন?
ফাহমিদা খাতুন: সংকট মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা এখন একটা মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সমস্যা যখন তৈরি হয়েছিল, সেটি যেমন ছিল একটা উদাহরণ, আবার সমস্যা থেকে তারা যেভাবে বের হয়ে এসেছে, সেটাও একটি উদাহরণ। সংকট মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা মূলত দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে—মুদ্রানীতি ও আর্থিক নীতি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পৃথিবীজুড়ে আমরা দেখেছি যে সবাই মুদ্রানীতিকে ব্যবহার করেছে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে অত্যন্ত বেশি হয়ে গেলে মুদ্রানীতিটাকে ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ ঋণের সুদের হারের ওপর হাত দিতে হয়। সেটিকে বাড়াতে হয়।
শ্রীলঙ্কাসহ অন্যান্য দেশ তা–ই করেছে। তারা সবাই ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে, যাতে বাজারে অর্থ কম যায়। টাকা মানুষের কাছে গেলে তারা তখন তা খরচ করতে থাকবে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেয়। সেখানে একটা লাগাম টেনে ধরতে হয়। কিন্তু আমরা সেটি করিনি। আরেকটি বিষয় হচ্ছে একক কোনো পদক্ষেপ নিয়ে কিন্তু সমস্যার সমাধান করা যায় না, বিশেষ করে বহুমুখী সমস্যার ক্ষেত্রে। শ্রীলঙ্কা আর্থিক নীতি ব্যবহার করার পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রশাসনিক ও সরকারি ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

