
হাতে ক্যানুলা, নাকে অক্সিজেনের নল; মায়ের কোলে শুয়ে আছে মো. রাব্বি। শিশুটির বয়স মাত্র ছয় মাস। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সে। জ্বরের ধকলে হঠাৎ হঠাৎ কেঁদে উঠছে শিশুটি। উদ্বিগ্ন মা শাহেদা বেগম বললেন, ‘আমার ছেলেটা আর পারছে না। এত কষ্ট আর কয় দিন সইবে!’
রাব্বির চিকিৎসা চলছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে শিশুটিকে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাব্বিকে হাসপাতালে আনা হয়।
আজ শনিবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু রাব্বিকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। ছেলের শয্যার পাশে উদ্বিগ্ন মা শাহেদা বেগম বসে আছেন। হাসপাতালে নির্ঘুম রাত কেটেছে তাঁর। সেই ক্লান্তি চোখেমুখে।
বাবা মানিক হোসেন উদ্বিগ্ন মুখে অপেক্ষা করছেন আইসিইউর দরজার বাইরে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছেলেটির জ্বর একবার যায়, আবার আসে। প্রথম জ্বর আসে কোরবানি ঈদের পর। চলেও যায়। ১০–১২ দিন আগে আবারও জ্বর আসে। বাড়ির পাশের এক চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা চলছিল। তিনিই হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেছেন।’
মানিক হোসেনের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে। চট্টগ্রামে ছোট একটি দোকান চালান তিনি। পরিবার নিয়ে থাকেন নগরের সদরঘাটের কামাল গেট এলাকায়। মানিক–শাহেদা দম্পতির তিন সন্তান। তিনটিই ছেলে। এর মধ্যে রাব্বি সবার ছোট। বড় ছেলেকে বাসায় এক স্বজনের কাছে রেখে আর মেজ ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন এ দম্পতি।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে আজ ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ২৪টি শিশু। একমাত্র রাব্বি রয়েছে আইসিইউতে। মা শাহেদা বলেন, ‘আজ সকাল থেকে একটু একটু করে দুধ খাচ্ছে রাব্বি।’
হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক মিশু তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন রাব্বির অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। রক্তের অণুচক্রিকা (প্লাটিলেট) বেড়েছে। আশা করি, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।’চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৩ হাজার ২৯০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৭০ জন। মারা গেছেন ২৭ জন। এর মধ্যে ১৪ শিশু রয়েছে।

