
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ার মাদারবাড়ির মডেল মসজিদ এলাকায় পুড়ে যাওয়া তিনটি বাসের পাশে দাঁড়িয়ে বিলাপ করছিলেন এক বৃদ্ধ। কথা বলে জানা গেল, তাঁর নাম সিরাজুল ইসলাম, বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের জনার কেঁওচিয়ার মাদারবাড়ি এলাকায়। তিনি পুড়ে যাওয়া শ্যামলী পরিবহন নামের দুটি বাসের মালিক।
সিরাজুল বলেন, ‘আমি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ৬০ লাখ টাকা দিয়ে দুই থেকে আড়াই বছর আগে এ দুটি বাস কিনছিলাম। আজ (সোমবার) ভোরে সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা আমার বাসগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এখন আমি সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। ব্যাংকের লোন কীভাবে শোধ করব, জানি না।’
তিনি আরও বলেন, গাড়ি দুটির আয় দিয়েই তাঁর সংসার চলে, চিকিৎসার খরচ চলে। গতকাল রোববার রাতে বাস দুটি হালকা মেরামত করার পর চট্টগ্রাম নগরের শাহ আমানত সেতু থেকে যাত্রী নিয়ে কেরানীহাট আসে। পরে রাত ১২টার দিকে মাদারবাড়ির মডেল মসজিদ এলাকায় বাস দুটি রেখে চালকেরা বাড়িতে চলে যান। আজ সোমবার ভোর পৌনে চারটার দিকে এক ব্যক্তি ফোন করে তাঁকে জানান, তাঁর বাসে আগুন দিয়েছে কেউ। পরে সেখানে গিয়ে দেখেন, তিনটি বাস দাউ দাউ করে জ্বলছে। আর ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। এ দেখে তাঁর আর হুঁশ ছিল না।
থানা-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, পুড়ে যাওয়া আরেকটি বাস হানিফ পরিবহনের। বাসটির মালিক চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার রশিদের পাড়া এলাকার মোহাম্মদ রিদোয়ান। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ার মাদারবাড়ি মডেল মসজিদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাতেরবেলা যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। গতকাল রাতেও ওই এলাকায় পাশাপাশি শ্যামলী পরিবহনের দুটি ও হানিফ পরিবহনের একটি বাস দাঁড় করিয়ে রেখে চালকেরা বাড়িতে চলে যান।

