বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আজকে আমার আলোচনার বিষয় হলো,,
আমার তিন দিনের সফরে নামা এখনো জোনাকি জ্বলে পার্ট (৯)
চাইলেন কুণ্ঠিত উচ্চারণে। তার আচরণ এবং উচ্চারণ দু'টোই আমাকে আপুত করলো।
যারা চালকের আসনে তারা আমার প্রিয়, তারা আমার শ্রদ্ধেয়, হোন তিনি আকাশে বিমানের চালক, বা সমুদ্রে জাহাজের চালক, কিংবা স্থলে গাড়ী ও রেলগাড়ীর চালক। কারণ অন্যকে তারা নিরাপদে মানযিলে পৌঁছানোর দায়িত্ব পালন করেন। তবে রিকশার চালকের জন্য আমার হৃদয়ে রয়েছে অন্য রকম ভালোবাসা, অন্য রকম শ্রদ্ধা। কেননা রিকশাচালকের শরীর থেকে ঘাম ঝরে। খুব নিকট থেকে আমি তার ঘামের গন্ধ পাই। আমার ভালো লাগে এবং কষ্ট লাগে, কারণ এ ঘাম ঝরছে আমারই জন্য, আমাকে আমার মঞ্জিলে পৌঁছে দেয়ার জন্য। তাই যখন রিকশায় চড়ি, তার চালকের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার চেষ্টা করি। তার সুখ-দুঃখের কথা, তার হাসি-কান্নার কথা জানার চেষ্টা করি। রিকশাচালকদের কিছু সুখের এবং বহু দুঃখের, কিছু হাসির এবং বহু কান্নার কাহিনী আমার বুকে জমা আছে। আমরা তাদের দুঃখ-কষ্টের ভাগিদার হতে পারি না, আমরা তাদের শরীরের ঘাম মুছে দিতে পারি না, আমরা শুধু পারি পথের শেষে নির্লিপ্তভাবে নেমে যেতে, আর পারি দু'টো পয়সা কম দিতে, কিংবা একটা দু'টো চড় দিতে।
আমার সংকোচ হয় রিকশাচালকের সঙ্গে পয়সা নিয়ে কথা বলতে, তার চাহিদা ‘অসঙ্গত মনে হলেও। কারণ তার দাবীর সঙ্গে ঘামের গন্ধ রয়েছে। এই ঘামকে যদি শ্রদ্ধা করি তাহলে আমি গরীব হবো না। শ্রমিকের ঘামকে যারা অশ্রদ্ধা করে তারা বড় হতে পারে না, কখনো না।
আমাদের রিকশার চালক, বৃদ্ধ এবং বয়সের ভারে ক্লান্ত। মাথায় টুপি এবং মুখে দাড়ি। তিনি নামায পড়েছেন, তিনি নামায পড়েন। রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। রিকশা চালাতে কষ্ট হয়, সংসার চালাতে আরো কষ্ট হয়। তবু তিনি মনে করেন আল্লাহ তাকে সুখে রেখেছেন। জীবনে বহুবার দেখেছি, আল্লাহ যাকে অনেক দিয়েছেন সে ভাবে, তার অভাবের শেষ নেই, আর যাকে অল্প দিয়েছেন সে ভাবে, তার কোন অভাব নেই। আশ্চর্য। যার নেই সে কৃতজ্ঞ, যার আছে সে-ই অকৃতজ্ঞ। হায়, আমি যদি আমার আল্লাহর খতি হতে পারতাম অন্তত এই বাসাটা যেন আল্লাহ তালা কবুল করেন আমিন।


